এলডিপিতে ফিরবেন না শাহাদাত হোসেন সেলিম - খবরের অন্তরালে

জাতীয়

সর্বশেষ সংবাদ

Wednesday, 13 November 2019

এলডিপিতে ফিরবেন না শাহাদাত হোসেন সেলিম

লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ দলের নতুন কমিটি থেকে যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিমকে বাদ দেওয়ার পর দলটির ভেতর নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। কমিটি থেকে বাদ পড়ার পর এবার শাহাদাত হোসেন সেলিম দল ছেড়ে দেওয়ারই নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বুধবার (১৩ নভেম্বর) বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।
এলডিপির একাধিক নেতা জানান, কয়েক মাস আগে জাতীয় মুক্তিমঞ্চ গঠনের পর অলির সঙ্গে সেলিমের দ্বন্দ্বের সূত্রপাত ঘটে। অলি আহমদ বিএনপির নেতৃত্ব, দলটির নেতাদের বিষয়ে নানামুখী সমালোচনা করেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার অলি আহমদের কাছে নিজের আপত্তি তুলে ধরেন সেলিম।
জানতে চাইলে শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘অলি আহমদের সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়ে আমার সঙ্গে তার দ্বিমত হয়েছে। তিনি বিএনপির নেতৃত্বকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, নেতৃত্বকে খাটো করেছেন, বিএনপির নেতৃত্বকে অভিশপ্ত বলেছেন। কিন্তু তিনি নিজেই বিএনপি-জোটের শরিক। যা জাতীয়তাবাদী ঘরানার মানুষকে আঘাত করেছে। এই দ্বিমুখী আচরণ নিয়ে আমার আপত্তি আছে। সর্বশেষ কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করেছেন প্রেসিডিয়ামে কোনও আলোচনা ছাড়াই। সব মিলিয়ে আমার মনে হয়েছে অত্যন্ত প্রতিহিংসামূলক আচরণ করছেন তিনি। তা আমি মেনে নিতে পারি না।’
এলডিপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, দল গঠনে অলি আহমদের বাইরে শাহাদাত হোসেন সেলিমের উদ্যোগ নেতাকর্মীরা জানেন। এক্ষেত্রে গত ২৬ অক্টোবর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সমাবেশের আগে অলি আহমদ সেলিমের বিষয়ে দলের কয়েকজনের কাছে আপত্তি তুলে ধরেন। একই ধারাবাহিকতায় গত ৯ নভেম্বর রাতে দল পুনর্গঠন করেন অলি আহমদ। সেই কমিটিতে যুগ্ম মহাসচিব পদে সেলিমের নাম রাখেননি। ওই (৯ নভেম্বর) রাতে বাংলা ট্রিবিউনকে এলডিপি সভাপতি বলেছিলেন, ‘যারা নিষ্ক্রিয়, ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত, অনেকে অনুপস্থিত থাকেন, দলের কর্মকাণ্ডে সময় দিতে পারেন না, তাদের বাদ দিয়ে আমরা সংশোধনী আকারে কমিটি দিয়েছি। যারা নির্বাচনের পর মনে করেছেন, রাজনীতিতে ভবিষ্যৎ নেই, আর এ কারণে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন, তারা বাদ পড়েছেন নতুন কমিটি থেকে; অনেকে দলে যুক্ত হয়েছেন, যারা গত তিন মাসে যোগ দিয়েছেন।’
যদিও এলডিপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে শাহাদাত হোসেন সেলিমের সঙ্গে দলের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে, তাকে ফেরানোর বিষয়ে। পরামর্শ দেওয়া হয়েছে অলি আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। তাকে প্রেসিডিয়ামের সদস্য হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হবে, এমন আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
এলডিপির একটি সূত্রের দাবি, অলি আহমদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিটিতে যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে প্রথম দুটি পদ খালি রাখা হয়েছে, এরমধ্যে প্রথমটি সেলিমের জন্যই বরাদ্দ রেখেছেন অলি আহমদ।
সেলিমের ঘনিষ্ঠ এলডিপির একাধিক সূত্রের দাবি, জাতীয় মুক্তি মঞ্চ গঠনের পর থেকে অলি আহমদের উদ্দেশ্য নিয়ে দলের মধ্যে প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে মূল দল বিএনপির কৌশল ভিন্ন হলেও জামায়াতকে পাশে বসিয়ে অলি আহমদ বিএনপি নেতাদের সমালোচনা শুরু করেন। একইসঙ্গে জামায়াতের নেতাদের সার্টিফায়েড করেন।
নতুন একটি দলের সমন্বয়ক বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, অলি আহমদ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের ডেকে আগামীতে ক্ষমতায় আসার বিষয়ে নিশ্চয়তা দিচ্ছেন। বিএনপির দুই নেতাকে ডেকে নিয়ে মন্ত্রিত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়।
এলডিপি ও বিএনপিজোটের কয়েকটি দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অলি আহমদকে সক্রিয় করার পেছনে বিএনপিবিরোধিতা রয়েছে। যে পক্ষটি বিএনপিকে দুর্বল রাখতে চায়, তাদের পরামর্শেই জামায়াতকে পাশে রেখে বিএনপির সমালোচনা করছেন অলি আহমদ।
বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক পক্ষের মতে, অলি আহমদ বিএনপি-জোটের সমন্বয়ক হয়েও ভিন্ন কোনও উদ্দেশ্যে দলের নেতৃত্বের সমালোচনা করেছেন। এক্ষেত্রে শাহাদাত হোসেন সেলিমের রাজনীতি ছাত্রদলের মাধ্যমে শুরু হলেও তাকে দলে ফেরানোর আগে সেলিমের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চয়তা দেখতে চাইবে বিএনপি। বিএনপির মহাসচিবের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি, ইতোমধ্যে শাহাদাত হোসেন সেলিমের সঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে কথা হয়েছে। 
সেলিমের ঘনিষ্ঠজনেরা বলছেন, বিএনপির বিষয়ে সেলিমের ইতিবাচক অবস্থান অনেকটাই প্রকাশ্যে। সামনের দিনে রাজনৈতিকভাবেই অলি আহমদ ও এলডিপির পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন সেলিম। ইতোমধ্যে প্রেসিডিয়ামের কয়েকজন সদস্য তার সঙ্গে কথা বলেছেন।
জাতীয় মুক্তিমঞ্চ গঠনের সময় বিএনপি-জোটের যে সব দলের নেতারা অলি আহমদের পাশে বসেছিলেন, জামায়াত ও খেলাফত মজলিসের বাইরে এলডিপি, কল্যাণ পার্টি ও জাগপায় অভ্যন্তরীণ কোন্দল চলছে। ইতোমধ্যে কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম আমিনুর রহমান পদত্যাগের চিঠি দিয়েছেন। জাগপা হয়ে বিভক্ত। এলডিপিতে গৃহদাহ শুরু হয়েছে। যার শেষ সম্পর্কে দলের নেতারাও এখন পর্যন্ত সন্দিহান।
গত জুনে এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল করিম আব্বাসী, সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল গণি পদত্যাগ করেন। সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রম না থাকা, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন না দেওয়া ও রাজনৈতিকভাবে মূল্যায়ন না করার অভিযোগে তার পদত্যাগ করেন।
জানতে চাইলে অলি আহমদ বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা বলতে সম্মত হননি। বুধবার রাতে তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দিন রাজ্জাক বলেন, ‘প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের আগেই দলের প্রেসিডেন্ট দল পুনর্গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। যারা নিষ্ক্রিয়, যারা নির্বাচনের পর দল থেকে দূরে ছিলেন, তাদের তিনি বাদ দিয়েছেন। অনেকে আগেই দল ত্যাগ করেছিলেন, তাদের নামগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘আমি আর এলডিপিতে ফিরবো না।’
নতুন কোনও দল করবেন কিনা, এমন প্রশ্নে সেলিম বলেন,  ‘রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমি তুলে ধরবো। দলের অনেকের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে।’ এ বিষয়ে পরে জানাবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


No comments:

Post a Comment

Home