চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। বিএনপি'র প্রার্থী হিসেবে পাল্লা ভারি ডাক্তার শাহাদাত হোসেনের - খবরের অন্তরালে

জাতীয়

সর্বশেষ সংবাদ

Monday, 16 September 2019

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। বিএনপি'র প্রার্থী হিসেবে পাল্লা ভারি ডাক্তার শাহাদাত হোসেনের

জাতীয় নির্বাচন ফল বিপর্যয়ের পর চট্টগ্রামের চরম বেকায়দায় পড়েছে বিএনপি এই দুরবস্থা কাটিয়ে এখন মাঠের রাজনীতিতে থিতু হওয়ার চেষ্টা করছে এই দলটি। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় এই নির্বাচনকে নিয়ে হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগিয়ে পুরোদমে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বিএনপি।

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে বিএনপির রাজনীতিতে ভিতরে ভিতরে এক ধরনের নির্বাচনী হাওয়া বইছে। তবে আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে তাদের ভয়ে আর আশঙ্কাও কম না। গত নির্বাচনের তিক্ত অভিজ্ঞতাকে এর কারণ বলেছেন বিএনপি'র নেতাকর্মীরা। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দলের মনোনয়ন পেতে আগ্রহী নেতাদের তোড়জোড় কিছুটা মাত্রা যোগ করছে। বিএনপি'র চলমান রাজনীতিতে দল গোছানোর পাশাপাশি অনুসারী নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার চেষ্টা করেছেন অনেকে। নির্বাচন সামনে রেখে মাঠে কমবেশি সরব রয়েছেন বিএনপির সম্ভাব্য ৩ মনোনয়ন প্রত্যাশী। তারা হলেন মহানগর বিএনপি'র সভাপতি ডাক্তার শাহাদাত হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। তাদের মধ্যে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন না আবু সুফিয়ান। ফলে এবারের নির্বাচনে ডাক্তার শাহাদাতের দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় নাম রয়েছে বর্তমান মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজম নাছির উদ্দিন। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম। রোজা তো আমি লীগ নেতা ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী হাসিনা মহিউদ্দিনসহ আরো কয়েকজনের নাম। দৃশ্যত তাদের মধ্যে এগিয়ে আসেন মেয়র নাছির উদ্দিন। নির্বাচনে প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে মোকাবেলায় বিএনপি'র হাতে ডাক্তার শাহাদাত ছাড়া আর বড় কোনো প্রার্থী নেই।
বিএনপির নেতাকর্মীরা বলেছেন ক্লিন ইমেজের কারণে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে সমান জনপ্রিয় ডাক্তার শাহাদাত হোসেন। দলীয় রাজনীতির বাইরেও বিভিন্ন সামাজিক সেবামূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে সব সময় সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করেন তিনি। আগামী নির্বাচনে সব অনুষঙ্গ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা তাদের। ফলে আবুল হাশেম বক্কর বেশ আগ্রহ দেখালেও দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন ডাক্তার শাহাদাত হোসেন।গত জাতীয় নির্বাচনে চট্টগ্রামের বাকলিয়া কোতুয়ালি আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন ডাক্তার শাহাদাত। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও বর্তমান শিক্ষা উপমন্ত্রীর দায়িত্ব থাকা ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান নওফেল এর কাছে পরাজিত হয়েছেন তিনি।

এছাড়া চট্টগ্রামের বোয়ালখালী চান্দগাঁও আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন আবু সুফিয়ান। নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা জাসদের কার্যকরী সভাপতি মহিউদ্দিন খান বাদল এর কাছে পরাজিত হয়েছেন তিনি। শুধু মেয়র পদে নয় সাধারণ কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলে নিজের অবস্থান দৃঢ় করার চেষ্টা করছেন। তৃণমূল পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করতে মনোনয়ন লাভে আগ্রহী নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতার তৈরি করে দিয়েছেন মহানগর বিএনপি'র সিনিয়র নেতারা। সবমিলিয়ে নগর বিএনপি'র সভাপতি করে নেতাকর্মীদের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন দেশে যেভাবে নির্বাচন হচ্ছে তাতে সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমার কোনো আগ্রহ নেই এ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও যেভাবে উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকার কথা একই কারণে তাও নেই। তবে দল থেকে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তখন নির্বাচন করতেই হবে বিএনপি বড় দল তাই নির্বাচনের জন্য দলের সব সময় প্রস্তুতি থাকে। তবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে নিজের আগ্রহের কথা জানিয়ে নগর বিএনপি'র সভাপতি ডাক্তার শাহাদাত হোসেন বলেন নির্বাচন কমিশন সরকারের তল্পিবাহক এ পরিণত হয়েছে। বলে এবারও নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা সংশয় রয়েছে তারপরও আমরা নির্বাচনে যাব আশা করি দলের মনোনয়ন পাব সুষ্ঠু ভোট হলে বিএনপি জয়লাভ করবে।

নগর বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিতে অনেকদিন ধরে আমি কাজ করছিলাম হামলা-মামলা জেল-জুলুমের আন্দোলন সংগ্রাম এবং এখনো কাজ করে যাচ্ছি দলের হাইকমান্ড নিশ্চয়ই এসব বিষয় বিবেচনা করবে। ‌ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন বিএনপির প্রার্থী ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের সাবেক উপদেষ্টা এম মনজুর আলম। তবে ভোটগ্রহণ চলাকালে দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের গত নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিন সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পাশাপাশি বিএনপি এমনকি রাজনীতিকেও বিদায় জানান সাবেক এই মেয়র।
একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও ২০১০ সালের নির্বাচনের আগে হঠাৎ করে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। এরপর দলটির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করে তার গুরু হিসেবে পরিচিত বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী কে বিপুল ভোটে পরাজিত করেছিলেন।

No comments:

Post a Comment

Home