সৌদি আরবের আরামকোর তেল স্থাপনায় হুতি বিদ্রোহীদের ব্যাপক ড্রোন হামলা! - খবরের অন্তরালে

জাতীয়

সর্বশেষ সংবাদ

Monday, 16 September 2019

সৌদি আরবের আরামকোর তেল স্থাপনায় হুতি বিদ্রোহীদের ব্যাপক ড্রোন হামলা!

সৌদি আরবের বৃহত্তম তেল শোধনাগার আরামকোর তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। উক্ত হামলায় আরামকো এবং তার পাশে থাকা আর একটি স্থাপনা একই সাথে হামলা চালিয়েছে বিদ্রোহীরা। এবং হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা জানিয়ে বিদ্রোহীদের মুখপাত্র টিভি চ্যানেলে হুতি বিদ্রোহীদের কমান্ডার বলেন আল্লাহর রহমতে আমরা দশটি ড্রোনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আরামকোর স্থাপনায় হামলা সফল হয়েছে।

হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিষয় সৌদি আরব এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানকে দায়ী করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন এই হামলার সাথে জড়িত ইরান। কোনোভাবেই ইরান এর দায় এড়াতে পারবে না তারা হুতি বিদ্রোহীদের কে সরাসরি অস্ত্র-গোলাবারুদ দিয়ে সহযোগিতা করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরবের অভিযোগ ইরান সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। ইরান বলেন তারা কোনোভাবেই এই হামলার সাথে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত নয়।

বিদ্রোহীদের ড্রোন দিয়ে হামলা এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ে বিভিন্ন জনের নানা ধরনের মতভেদ রয়েছে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন হুতি বিদ্রোহীরা হামলা করে এত বড় একটি তেল শোধনাগার ধ্বংস করতে পারবে না। তাছাড়া একটি ড্রোনের দূরত্ব যতটুকু তা দিয়ে হামলা করা অসম্ভব'। ধারণা করা হচ্ছে ক্রুজ মিসাইল দিয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে। যদি মিসাইল দিয়ে হামলা করা হয় তাহলে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা বিভাগ কেন কোন সিগনাল পেল না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ নিয়ে সৌদি আরব ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কথার যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। অনেকেই মনে করেন সৌদি আরবের হামলার সাথে ইরানকে জড়িয়ে আরো একটি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের অবতারণা করতে চাইছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন আমরা সৌদি আরবের দিকে তাকিয়ে আছি তাদের কাছ থেকে সাড়া পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে যুক্তরাষ্ট্র।

হুতি বিদ্রোহীদের কমান্ডার টিভি-চ্যানেলে হামলার সংবাদ স্বীকার করে আরো বলেন তারা যেভাবে আমাদেরকে বছরের পর বছর অবরোধ করে রাখছে এবং আমাদের উপর অন্যায় ভাবে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে তার প্রতিশোধ হিসেবে আমরা এই হামলা চালিয়েছি পরবর্তীতে আরো ব্যাপক হারে হামলা চালানো হবে বলে তিনি হুশিয়ারি দেন।

অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন আরো একটি যুদ্ধের সামনে দাঁড়িয়ে আছে মধ্যপ্রাচ্য যেকোনো সময় এই যুদ্ধে যেতে পারে। তবে সব পক্ষই বলে আসছে তারা যুদ্ধে জড়াতে চায় না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তাদের নীতি মুখে যেভাবে তারা গর্জন করে বাস্তবে তাদের সেভাবে বর্ষণ হবেনা বলেই মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ। ইতিমধ্যে যতগুলো যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জড়িয়েছে সবগুলো যুদ্ধে ব্যাপকহারে তাদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে হারাতে হয়েছে তাদের হাজার হাজার সেনা। নিয়ে নতুন করে যুদ্ধে জড়াতে চায় না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া প্রেসিডেন্ট কোন যুদ্ধের অনুমতি দিতে পারবেন না। এমনকি তারা কংগ্রেসে ভোটাভুটির মাধ্যমে একটি আইন পাস করেছেন যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেস সদস্যদের অনুমতি ছাড়া কোন যুদ্ধের অনুমতি দিতে পারবেন না।
অন্যদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত দরিদ্র ঈমানের উপর সৌদির জোটের বিগত কয়েক বছর থেকে হামলায় কোনরকম সফলতা পাওয়া যায়নি বরং বিদ্রোহীদের হাতে তাদের অনেক সম্পদ হয়ে খোয়া গেছে। হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ বেসামরিক নাগরিক নারী-শিশু এই যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন। এই নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে সৌদি আরব এর ব্যাপারে সতর্ক পদক্ষেপ নিতে বলেন কংগ্রেসম্যানরা। তারা মনে করেন এ হামলায় যুক্তরাষ্ট্র জড়ানো ঠিক হবে না এমন একটি গরীব অসহায় যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ তাদের উপর হামলা করে কারোই কোন লাভ হবেনা।

No comments:

Post a Comment

Home