বিএনপি'র ৪১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর শোভাযাত্রা জনসমুদ্রে পরিণত! - খবরের অন্তরালে

জাতীয়

সর্বশেষ সংবাদ

Monday, 2 September 2019

বিএনপি'র ৪১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর শোভাযাত্রা জনসমুদ্রে পরিণত!

দীর্ঘদিন পর বিএনপির ৪১ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করেছে বিএনপি। সোমবার বিকেলে সোয়া তিনটায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে এই শোভাযাত্রা নাইটিঙ্গেল মোড় হয়ে শান্তিনগর মোড়ের এসে শেষ হয়। বিএনপি'র কেন্দ্রীয় সিনিয়র নেতারা ছাড়াও দলীয় ও জাতীয় পতাকা রংবেরঙ্গের ব্যানার-ফেস্টুন জিয়াউর রহমান খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রতিকৃতি সহ নানা বাদ্যযন্ত্র নিয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী এই শোভাযাত্রায় অংশ নেন।
বিএনপি'র শোভাযাত্রায় মশারি টানিয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতাকর্মীরা ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধ তথা এডিস মশা প্রতিরোধক জনসচেতনার বিষয়টি তুলে ধরে। দীর্ঘদিন পর ঢাকায় বিএনপি'র শোভাযাত্রা দেখতে রাস্তার দুইধারে দাঁড়ানোর পথচারীদের করতালি দিতে দেখা যায়। উত্তর শোভাযাত্রায় ঢাকা মহানগর বিএনপি ছাত্রদল যুবদল মুক্তিযোদ্ধা দল স্বেচ্ছাসেবক দল মহিলা দল কৃষক দল মৎস্যজীবী দল তাঁতীদল ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশন এগ্রিকালচারিস্ট এসএসসি ও সংসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে ফকিরাপুল থেকে নাইটেঙ্গেল পর্যন্ত গোটা এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

বিএনপির নেতাকর্মীরা দলীয় পতাকা ও লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে এই শোভাযাত্রায় অংশ নেন। জিয়াউর রহমান খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বড় বড় প্রতিকৃতি হাতে শুভ শুভ শুভ দিন বি এন পির জন্মদিন স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া লও লও লও সালাম এক জিয়া লোকান্তরে লক্ষ জিয়া ঘরে ঘরে মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই দেশনেত্রীর মুক্তি চাই স্লোগান দেয় কর্মী-সমর্থকরা। শোভাযাত্রার সামনের ভাগের যখন নাইটিঙ্গেল মোড়ে তখন মিছিলের শেষ ভাগ ছিল ফকিরাপুল বাজার পর্যন্ত। শোভা যাত্রা শুরুর আগে পুরো নয়া-পল্টন সড়ক ব্যাপক মানুষের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বিশেষ করে ছাত্রদলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিপুল কর্মী অনুসারী নিয়ে শোডাউন দেয়। সংগঠনের কেন্দ্রীয় ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল কে সামনে রেখে তাদের এই শোডাউন। বিএনপি'র হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং কাউন্সিলরদের আস্থা অর্জনের জন্য ছাত্রদলের পদ প্রত্যাশী নেতারা বিপুলসংখ্যক কর্মী অনুসারী নিয়ে শোডাউন দিয়েছেন। শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া বেশকয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী এই ধরনের মন্তব্য করেন।

ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রত্যাশী সাজিদ হাসান বাবু ও হাফিজুর রহমান বলেন, তারা পৃথকভাবে তিন শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করেন। শোডাউনে পিছিয়ে ছিলেন না সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মো: আমিনুর রহমান, শাহনেওয়াজ, মো: তানজিল হাসানও। তারা পৃথকভাবে বিপুল নেতাকর্মী নিয়ে র‌্যালির অগ্রভাগে ছিলেন। একইসময়ে সভাপতি প্রার্থী মো: এরশাদ খান, আশরাফুল আলম ফকির, ফজলুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ইকবাল হোসেন শ্যামল সহ অন্তত বিশ জন পদপ্রত্যাশী নেতা বিপুল সংখ্যক কর্মী ও অনুসারী নিয়ে শোডাউন দেন। সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী শাহনেওয়াজ বলেন, বিএনপির রাজনীতি আমার পরিবারের সাথে ওৎপ্রোতভাবে জড়িত। আজকে দেশনেত্রী গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি করা ছাড়া বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। আমি আশা করি ছাত্রদলের আসন্ন কাউন্সিলে যোগ্য নেতা নির্বাচিত হবেন। বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের শক্তিশালী সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হওয়ায় কাউন্সিলে আশাবাদীও তিনি। আমিনুর রহমান আমিন ও তানজিল হাসান বলেন, কাউন্সিলকে ঘিরে ছাত্রদল এখন অনেক শক্তিশালী। আশা করি সুষ্ঠু কাউন্সিলের মাধ্যমে সম্মানিত কাউন্সিলরবৃন্দ যোগ্য নেতা নির্বাচন করতে পারবেন। যে নেতৃত্ব দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনকে জোরদারের পাশাপাশি বাংলাদেশের হৃত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সক্ষম হবে।
উল্লেখ্য যে, ছাত্রদলের ৬ষ্ঠ জাতীয় কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের পুনরায় তফসিল মোতাবেক- ভোট গ্রহণ করা হবে ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১০ টা থেকে বেলা ২ টা পর্যন্ত।
সূত্রঃ দৈনিক ইনকিলাব।

No comments:

Post a Comment

Home