থেমে গেছে শ্রম শক্তি পাঠানো। টালমাটাল সৌদি আরবের বাজার! - খবরের অন্তরালে

জাতীয়

সর্বশেষ সংবাদ

Friday, 6 September 2019

থেমে গেছে শ্রম শক্তি পাঠানো। টালমাটাল সৌদি আরবের বাজার!

বিদেশে শ্রমশক্তি পাঠানো প্রায় থমকে গেছে মালয়েশিয়া ও আরব আমিরাতে বাজার বন্ধ সৌদি আরবের বাজারে ধীরগতি বাহারাইন কুয়েত ও কাতারের বাজার বিরূপ পরিস্থিতিতে প্রায় থমকে কে আছে। এমন পরিস্থিতিতে শ্রম বাজার খোলা নিয়ে তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার। তারা ব্যস্ত নিজেদের মধ্যে দলাদলিতে স্বার্থসিদ্ধির জন্য একে অন্যের বিরুদ্ধাচরণ করছেন প্রকাশ্য।

কিন্তু শ্রম বাজারের জন্য উদ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছেনা জনশক্তি রপ্তানিকারকদের। জনশক্তি বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেছেন দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানিতে আস্থার প্রতীক ছিল উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থা জিসিসি ভুক্ত কয়টি দেশ। শিল্পী মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা ভিসা জটিলতা কূটনৈতিক ব্যর্থতা সহ নানা প্রতিকূলতায় ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হয়ে এসেছে এই শ্রম বাজার।

ফলে প্রতিবছর কমছে জনশক্তি রপ্তানি, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রম বাজার সৌদি আরবে জনশক্তি প্রেরণ এর গতি থমকে গেছে। সৌদি আরবে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়ার পরিবর্তে পাকিস্তান থেকে শ্রমিক নেওয়ার কোটা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া যুদ্ধবিগ্রহের কারণে সৌদি আরবে এমনিতে শ্রমিক নেওয়ার পরিমাণ কমেছে সেখানে বাংলাদেশি নারী কর্মীদের বিষয়ে আগ্রহ দেখানো হচ্ছে কিন্তু নির্যাতনের অভিযোগ কম নয়। বাংলাদেশের শ্রমবাজার আরব আমিরাতের বাজার দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে, এছাড়া সেখানে তেমন কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছে না কাউকেই। একসময় যে কুয়েত ছিল বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বৈদেশিক কর্মসংস্থান বাজার বাজার এখন পুরোপুরি বন্ধ। লিবিয়ার দুয়ার বন্ধ হয়ে আছে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাক ও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ কোরিয়া অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশগুলোর দুয়ার বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য এখন কার্যত বন্ধ। একমাত্র মালয়েশিয়ার বাজার চাঙ্গা কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর বন্ধ রাখা হয়েছে শ্রমিক নেওয়া। বড় শ্রমবাজারগুলো বন্ধ থাকার পাশাপাশি নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানের বিষয় তেমন কোনো উদ্যোগ কার্যকর হয়নি। শ্রমবাজারের এসব সংকটের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের নির্যাতিত-নিপীড়িত হওয়ার সংখ্যা বাড়ছে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের কর্মীরা অবৈধ হয়ে পড়েছেন টুরিস্ট ভিসা স্টুডেন্ট ভিসায় বাংলাদেশিরা বিদেশে গিয়ে অবস্থান এর ঘটনা বাড়ছে। বাংলাদেশ অভিবাসন প্রায় নির্ধারণের কথা বলা হলেও তা মুখের কথাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে। জানা যায় মালয়েশিয়া সরকার তাদের নির্ধারিত শর্ত মেনেই শ্রমিক নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী। মালয়েশিয়া তাদের নির্ধারিত পদ্ধতি ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেবে।
বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কে তা জানিয়ে দিয়েছেন,  অবশ্য মন্ত্রণালয় নির্বিঘ্নে কোন ধরনের প্রতারণা ছাড়া নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় মালয়েশিয়া শ্রমিক পাঠাতে। ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা অভিবাসন ব্যয় নিয়ম মেনে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর গেলেও কোন পদ্ধতিতে শ্রমিক পাঠাচ্ছে তা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের মাথা ব্যাথা নেই। সেপ্টেম্বর মাসে শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনার জন্য আবার মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ।

মন্ত্রী বলেন আশা করি সেপ্টেম্বর মাসে এই সফরে জনশক্তি রপ্তানির বিষয়ে একটি সমাধানে পৌঁছানোর পর শ্রমবাজার চালুর ঘোষণা আসবে। মেডিকেল সেন্টার ফর ট্রেনিং সেন্টার ইস্যুতে আমরা কথা বলি না কেন আসল কথা হলো জনশক্তি যাবে মালয়েশিয়া। তাই কি ধরনের জনশক্তি কোন পদ্ধতিতে নেওয়া হবে তার নির্ধারণ অটোমেটিক ভাবেই যে দেশ নিবে তাদের অধিকার। মন্ত্রী বলেন কেউ যদি সিন্ডিকেট করে বলে জনশক্তি পাঠাতে সরকার নির্ধারিত ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার বেশি লাগবে না' তাহলে আমি বলব সেটা ভালো সেন্টিকেট কারণ আমার কাছে সবার আগে দেশের স্বার্থ ও শ্রমিকস্বার্থ। তবে এর বাইরে গিয়ে অতিলোভী কোন সেন্টিকেটই এক্ষেত্রে স্থান দেওয়া হবে না।
জনশক্তি সংশ্লিষ্টরা বলেছেন অবৈধভাবে বিদেশ যাত্রা বন্ধ করার একমাত্র উপায় হল বন্ধ থাকা ও সংকুচিত হয়ে আসা বাজারগুলো চালুর ব্যবস্থা নেওয়া। যদি মালয়েশিয়া ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় জনশক্তি পাঠানো সম্ভব হয় এবং তারা যদি সেখানে গিয়ে সঠিকভাবে কাজ করতে পারেন তাহলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধপথে কেউ বিদেশে যেতে আগ্রহী হবে না সেইসঙ্গে বন্ধ হবে ইস্টুডেন্ট বা টুরিস্ট ভিসায় গিয়ে মালয়েশিয়া বা অন্যান্য দেশে অবস্থান। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের জন্য জাপানের শ্রমবাজার খুলে যাওয়া কে বড় সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন শ্রমশক্তি রপ্তানি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

No comments:

Post a Comment

Home