আগামী দিনে ভারতের তাপমাত্রা ভয়াবহ ধারণ করতে পারে! - খবরের অন্তরালে

জাতীয়

সর্বশেষ সংবাদ

Saturday, 21 September 2019

আগামী দিনে ভারতের তাপমাত্রা ভয়াবহ ধারণ করতে পারে!


ভারতে খরা আরো ভয়াবহ হতে পারে খসে পড়তে পারে দেশের আরও অনেক এলাকা এমনকি ভারতের যে এলাকাগুলো এতদিন খরাপ্রবণ বলে চিহ্নিত হয়নি সেই সব অঞ্চলে এবার ফুটিফাটা হয়ে যেতে পারে মাটি। খবর আনন্দবাজার পত্রিকা।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ও ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর যৌথ পর্যবেক্ষণেই অশনি সংকেত দেওয়া হয়েছে। গত চার বছর ধরে গবেষণাটি চালানো হয়েছে গোটা দক্ষিণ এশিয়ায়। তার প্রথম পর্বটি সবেমাত্র শেষ হয়েছে গবেষণাপত্রটির ছাপা হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান জার্নাল নেচার এর সাম্প্রতিক সংখ্যায়।

অ্যারোসল দ্রুত ভারী করছে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
গরমকালে দক্ষিণ এশিয়ার বায়ুমণ্ডলে যে বিপুল পরিমানে এরোসল কোন জমা হয় গবেষণায় দেখা গিয়েছে তার পরিমাণ উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গিয়েছে। ভারতসহ দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার বায়ুমণ্ডলের স্তর গত চার বছরে এতটাই পুরু হয়ে গিয়েছে যে তা বায়ুমণ্ডলের একেবারে নিচের স্তর ট্রপোস্ফিয়ার থেকে পৌঁছে গিয়েছে তার উপরের স্তর। স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারেও। যেহেতু বিষাক্ত গ্রিনহাউস গ্যাস গুলির নির্গমন থেকে এরোসল এর জন্ম হয় তাই এর মাধ্যমে প্রচুর পরিমানে পৌঁছে যাচ্ছে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারেও।
যে মেঘে বরফ কণা, সেখানেও দ্রুত বাড়ছে অ্যারোসল

দেখা যাচ্ছে স্ট্রাটোস্ফিয়ার যে মেঘ গুলিতে বরফ কনা মিশে থাকে ওই অঞ্চলের তাপমাত্রা খুব কম হয়ে গেলে সেখানে ঢুকে পড়েছে এরোসল কনা। আর তাদের পরিমাণ ঘনত্ব ও আকার উত্তরোত্তর বেড়েই চলছে।
প্রশান্ত মহাসাগরে ‘এল নিনো’র দরুন গত বছরেই ভয়াবহ খরার কবলে পড়েছিল পশ্চিম ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা। নাসা, ইসরোর যৌথ গবেষণার ইঙ্গিত, বায়ুমণ্ডলে অ্যারোসলের স্তর অত্যন্ত পুরু হয়ে যাওয়ায় ভারতে এ বার সেই খরা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে চলেছে।

গ্রিনহাউস গ্যাসের জন্যই অ্যারোসলের এই বাড়বাড়ন্ত
অন্যতম গবেষক, তিরুপতির ‘ন্যাশনাল অ্যাটমস্ফেরিক রিসার্চ ল্যাবরেটরি’ (এনএআরএল বা ‘নার্ল’)-র আবহাওয়া বিজ্ঞানী মুরলী বেঙ্কট রত্নম ‘আনন্দবাজার’কে বলেছেন, ‘‘গবেষণার একটি ধাপ সবে শেষ হয়েছে। আমরা কাজ করেছি ‘এশিয়ান ট্রপোপোজ অ্যারোসল লেয়ার’ বা ‘অ্যাটাল’ নিয়ে। বেলুনের মাধ্যমে কয়েকটি সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতিকে ট্রপোস্ফিয়ার ছাড়িয়ে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার পর্যন্ত পাঠিয়ে। বেলুনের মাধ্যমে এই পরীক্ষানিরীক্ষা চালানো হয়েছে বলে এই পদ্ধতিকে ‘ব্যাটাল’ও বলা হয়।’’
গবেষণা জানিয়েছে, গাছপালা পোড়ানো ও কলকারখানা থেকে বেরিয়ে আসা বিষাক্ত গ্যাস ও ধোঁয়ায় ওই অ্যারোসল্‌স কণাদের জন্ম হয়। জীবাশ্ম জ্বালানির অতি ব্যবহারে গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন উত্তরোত্তর বেড়ে যাওয়ায় বায়ুমণ্ডলে উদ্বেগজনক ভাবে বেড়ে গিয়েছে অ্যারোসল কণাদের পরিমাণ। তার ফলে, অ্যারোসলের স্তর ভীষণ পুরু হয়ে গিয়েছে। ট্রপোস্ফিয়ার ছাপিয়ে তা পৌঁছে গিয়েছ়ে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে।
, ঘনত্ব

জলভরা মেঘও ভরে যাচ্ছে দূষণ কণায়!
পুণের ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মেটিয়োরোলজি’ (আইআইটিএম)-র মেঘ বিশেষজ্ঞ আর কৃষ্ণণ ‘আনন্দবাজার’কে বলেছেন, ‘‘বৃষ্টির জন্য মেঘ বানানোর প্রক্রিয়ায় অ্যারোসল কণাদের যথেষ্টই ভূমিকা রয়েছে। ফি-বছরই গরম কালে ভারত-সহ দক্ষিণ এশিয়ার বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে জমা হয় জলীয় বাষ্প ও অ্যারোসল কণা। কিন্তু অ্যারোসল কণাদের উত্তরোত্তর বেড়ে যাওয়া পরিমাণ যদি বায়ুমণ্ডলের অনেকটা উপরের স্তর স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারেও পৌঁছে যায়, তা হলে বিপদ কিছুটা বেড়ে যায়। যেহেতু মূলত দূষণ কণা থেকেই জন্ম অ্যারোসল কণাদের, তাই স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে অ্যারোসল কণাদের পরিমাণ বেড়ে গেলে, তুলনায় হালকা জলীয় বাষ্পের চেয়ে মেঘ তৈরি করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিতে শুরু করে অ্যারোসল কণারাই। তারাই অনেক সময় স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে জলভরা মেঘগুলিকে জমাট বাঁধতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। তারই জলভরা মেঘগুলির কেন্দ্র (নিউক্লিয়াস)-টাকে গড়ে তোলে।’’
অন্যতম গবেষক বেঙ্কট রত্নম জানিয়েছেন, নয়ের দশকের একটি গবেষণাতেই দেখা গিয়েছিল, তিব্বতের মালভূমির ১০ থেকে ১২ মাইল উপরের বায়ুমণ্ডলের স্তরেও ঢুকে পড়েছে অ্যারোসল কণা। আমাদের ‘অ্যাটাল’ প্রকল্পে গবেষণার চৌহদ্দি আরও বাড়ানো হয়েছিল। দেখা হয়েছিল পশ্চিম চিন থেকে ভূমধ্যসাগরের উপরের বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরও। মাপা হয়েছে ওই বিস্তীর্ণ এলাকার বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরে অ্যারোসল কণাদের পরিমাণ, ঘনত্ব, আকার, জলীয় বাস্পের পরিমাণ ও ওজোন গ্যাসের পরিমাণ এবং ঘনত্বও।

No comments:

Post a Comment

Home