বিশ্বের যত দুর্ধর্ষ পুলিশ! - খবরের অন্তরালে

জাতীয়

সর্বশেষ সংবাদ

Tuesday, 10 September 2019

বিশ্বের যত দুর্ধর্ষ পুলিশ!

দুর্নীতি ও অন্যায় বেড়ে গেলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন পড়ে ভরসা করা হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর। বিশ্বের অনেক দেশে এমন প্রয়োজনের মুখে গড়ে উঠেছে বহু পুলিশ বাহিনী। তারা শক্ত হাতে প্রতিহত করছে সব অনিয়ম। দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিশ্বের বুকে নাম কুড়িয়েছে এমন সব পুলিশ বাহিনী নিয়ে আজকের আয়োজন।

জিইও
স্পেনের সামরিক আর পুলিশ বাহিনীর যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠে সন্ত্রাস দমন কারী বাহিনী জিডিও। ১৯৭৮ সালের ৫ এপ্রিল যাত্রা শুরু করা জিইওর সফলতার গল্প অনেক। প্রথম দিকেই বেশ কয়েকটি সফল অভিযান চালায় তারা কোন ধরনের রক্তপাত ছাড়া তারা একের পর এক সন্ত্রাসী ও তাদের জিম্মি কে উদ্ধার করতে সমর্থ হয়। ৪২৪ জন জিম্মিকে উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গে এরা ৪১ জন অস্ত্রসজ্জিত সন্ত্রাসীকে আটক করে। এদের গ্রহণযোগ্যতা আর দক্ষতা অনেক দেশের বাহিনীর কাছে ঈর্ষণীয়। এদের প্রশিক্ষণের পুরোটাই থাকে শারীরিক ও মানসিক দক্ষতা বাড়ানো। জিও তে যোগদানের জন্য দুই বছরের কুয়েরপো নেশোনালদে প্রশিক্ষণ নিতে হয়। সেখানে তাদেরকে মার্শালাট স্কুবা ডাইভিং বিস্ফোরণ বিষয়ে দক্ষতা অর্জন সহ নানা বিষয়ে জ্ঞান দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণার্থীরা প্রথমদিকে খুব সহজে উৎরে গেলেও পরে অনেক আবেদনকারী চলে যেতে বাধ্য হয় দল ছেড়ে ভর্তি হওয়ার পর প্রতি বছর নিয়োগ বোর্ড হতে পারে আগ্রহীদের মাত্র ৩ শতাংশ।
স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড
উনিশ শতকের শুরুর দিকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্যগন দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি নতুন দক্ষ ও সুশৃংখল পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার ব্যাপারে উদ্যোগী হয়। ১৮২৯ সালের ১৯ জুন পার্লামেন্টে কার্যকর হয় মেট্রোপলিটন পুলিশ অ্যাক্ট। শুরু হয় নতুন এক পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার কার্যক্রম হাজার ১৮৩৯ সালে পুরোপুরিভাবে রানার্স বাহিনীর বিলুপ্তির পর নতুন পুলিশ বাহিনী লন্ডনের নিয়ন্ত্রণ বুঝে পায়। এই বাহিনীর প্রধান কার্যালয়ের নাম হল স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড। এনাম টি বৃটেনের মেট্রোপলিটন পুলিশ ব্যবস্থার একরকম সমার্থক হয়ে গেছে। আর্থার কোনান ডয়েলের কল্পনার শালক হোমস যেন কাজ করতেন বাস্তবের স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড। ফলে একটা শহরভিত্তিক বাহিনী হওয়া সত্বেও পরিচিত রয়েছে বিশ্বজুড়ে। অনেকের কাছে এটি পৃথিবীর অন্যতম সেরা মেট্রোপলিটন পুলিশ বাহিনী। ইতিহাসের অনেকটা পথ পেরিয়ে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড পরিণত হয়েছে আজকের এই মহীরুহে।
ইন্টারপোল
ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অরগানাইজেশন (ইন্টারপোল) হল একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা যার প্রধান কাজ আন্তর্জাতিক পুলিশকে সহায়তা করা। ১৯২৩ সালে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ কমিশন নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪৬ সালে বর্তমানের নামে পরিবর্তিত হয় ইন্টারপোলের বর্তমান সদস্য ১৯৪ টি দেশ এবং এই সদস্যরাই বাৎসরিক চাঁদার মাধ্যমে ৫৯ মিলিয়ন ডলারের বাৎসরিক খরচ নির্বাহ করে। এর প্রধান সদর দপ্তর ফ্রান্সে এটি জাতিসংঘের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম আন্তর্জাতিক সংস্থা সবার কাছে এটি এখন অনেক বেশি পরিচিত নাম জন্মের পর থেকেই বিভিন্ন পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব দেখিয়েছে, দেখিয়ে এসেছে এই পুলিশ বাহিনী টি, আর এখন পর্যন্ত সেটা বজায় রেখেছে। আর শুধু তাই নয় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সাহায্য নিজেদের প্রভাব ছড়িয়ে দিয়ে ধীরে ধীরে পুরো বিশ্বের প্রতিটি কোনায়। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ ইন্টারপোলের সদস্য পদ লাভ করে, এরপর থেকে বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাগণ বিভিন্ন সময়ে সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের ভূমিকা ও প্রচেষ্টার ইন্টারপোলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

No comments:

Post a Comment

Home