কে এই মুহিব্বুল্লাহ? রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে? বাংলাদেশ নাকি মুহিব্বুল্লাহ! - খবরের অন্তরালে

জাতীয়

সর্বশেষ সংবাদ

Tuesday, 27 August 2019

কে এই মুহিব্বুল্লাহ? রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে? বাংলাদেশ নাকি মুহিব্বুল্লাহ!

কে এই মহিবুল্লাহ কি তার পরিচয় কি করে সে এতো ক্ষমতাধর হলো ? এই প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষ এবং বাংলাদেশ সরকারের। যার আহবানে সাড়া দিয়ে ৫ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা একত্রিত হয়ে সমাবেশ করেছে। যার কথার বাইরে কোন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ছাড়তে রাজি নয়। মুহিব্বুল্লাহ সম্পর্কে জানতে হলে তাকাতে হবে পিছনের দিকে বিগত সময়ে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সে দেশের সেনাবাহিনীর অত্যাচারে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা যখন বাংলাদেশে আসে তাদের সাথেই একজন সাধারন রোহিঙ্গা হিসেবে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করেন মহিবুল্লাহ।
বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশের সাধারণ জনগন রোহিঙ্গাদের দুঃখে দুঃখিত হয়ে যার কাছে যা ছিল তা নিয়ে তাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিভিন্ন সংগঠন সাধারণ মানুষ সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে তাদের কাছে যান সান্ত্বনা দেন তাদের দুঃখ দুর্দশার কথা শুনে। অথচ আজ এই রোহিঙ্গারাই হয়ে উঠেছেন ভয়ঙ্কর এমন কোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপ নাই যে তারা করেনা তাদের ভয়ে উল্টা এখন সেখানে স্থানীয় বাংলাদেশের মানুষ কাঁপছে। ইতিমধ্যেই অনেকেই তাদের অত্যাচারে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন এমনকি ক্ষমতাসীন দলের একজন নেতাকেও এই রোহিঙ্গারা হত্যা করেছে।
বাংলাদেশ সরকার এবং আন্তর্জাতিক মহল যখন রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফেরত যাবার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে এক পর্যায়ে মিয়ানমার সরকার আন্তর্জাতিক এবং বাংলাদেশের চাপের মুখে তাদেরকে ফেরত নিতে রাজি হয়েছে পর্যায়ক্রমে সকল রোহিঙ্গাকে তারা ফেরত নেবে বলে জানিয়েছেন তারই ধারাবাহিকতায় প্রথম পর্যায়ের কয়েক হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার জন্য যখন সে দেশ সরকার প্রস্তুতি নিয়ে এসেছেন সেই মুহূর্তে একটি রোহিঙ্গা মায়ানমার যেতে রাজি হননি কিন্তু কারণ কি হঠাৎ করে তারা কেন নিজ দেশে ফেরত যেতে রাজি নয় সবার মুখে একই কথা রোহিঙ্গারা কেন যাবেনা এর রহস্য কি?
তখনই একটি নাম প্রকাশ্যে আসে মহিব্বুল্লাহ কে মুহিব্বুল্লাহ যার কারণে যার অনুমতি ছাড়া কোনো রোহিঙ্গা মায়ানমার ফিরে যাবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। মুহিব্বুল্লাহ সম্পর্কে যতটুকু জানা যায় সে ছিল প্রথমে একজন সাধারন রোহিঙ্গা অন্যসব রোহিঙ্গার মত সে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করে পরবর্তীতে বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসতে থাকে মহিবুল্লার নাম সব জায়গাতেই রোহিঙ্গাদের দুঃখ-দুর্দশা সম্পর্কে বিভিন্ন এনজিও এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সামনে তুলে ধরেন। এভাবে সে পরিচিতি লাভ করে। এক পর্যায়ে মুহিব্বুল্লাহ হয়ে উঠেন রোহিঙ্গাদের নেতা। সে ১৫ জন রোহিঙ্গাকে নিয়ে গঠন করেন একটি সংগঠন যে সংগঠনের মাধ্যমে ৩০০ রোহিঙ্গা যুবককে ট্রেনিং দিয়ে গড়ে তোলেন যাদের কাজ হলো মহিবুল্লাহ যখন যা বলবে সেই ভাবে কাজ করা কখনও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কখনো অন্য কোন কাজে।

এইভাবে এখন মহিব্বুল্লাহ রোহিঙ্গাদের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। যার ফলস্বরূপ কিছুদিন আগে এই মুহিব্বুল্লাহ বৈঠক করে আসেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে, সেই বৈঠকের প্রিয়া শাহ নামক একজন এনজিও কর্মকর্তা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে নালিশ করেছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো প্রিয়া সাহা অথবা মুহিব্বুল্লাহ কিভাবে কাদের মাধ্যমে আমেরিকা গিয়ে ট্রাম্পের সাথে বৈঠক করলেন? কারা তাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা এবং আমেরিকা যাওয়ার ব্যবস্থা করলেন। জানা যায় জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থা এর মাধ্যমে মহিবুল্লাহ কে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে যাওয়ার সব ব্যবস্থা করে। এবং তাদের সাথে রয়েছে মহিবুল্লার সরাসরি যোগাযোগ।

সেই ধারাবাহিকতায় মুহিব্বুল্লাহর আহবানে ৫ লক্ষাদিক রোহিঙ্গা সমাবেশ করে। এত বড় গণসমাবেশ সম্পর্কে অথচ বাংলাদেশ সরকার এমনকি সেখানে বাংলাদেশের দায়িত্বরত বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তাসহ কেউ ঘুনাক্ষরে জানতে পারলেন না। এমনকি সমাবেশ করার অনুমতি নেয়নি বাংলাদেশ সরকার থেকে। এই সমাবেশের প্রচারণা চালিয়েছেন মহিবুল্লাহ অতি গোপনীয় ভাবে ফেসবুক মেসেঞ্জার হোয়াটসআপ এবং তার সাংগঠনিক স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে লিফলেট বিলি করে। আর সেই সমাবেশে মুহিব্বুল্লাহ সগর্বে ঘোষণা করেন রোহিঙ্গাদের সমস্ত দাবি না মানা পর্যন্ত কোন রোহিঙ্গা মায়ানমার ফিরে যাবে না।

কয়দিন আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে ইংরেজিতে ব্যানার-ফেস্টুন কারা তৈরি করে দিলেন সেই ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেওয়া হবে কিন্তু এর পরেই রোহিঙ্গারা এত বড় একটি সমাবেশ করলেন সেটাও কেউ জানতে পারলেন না এখন সাধারণ মানুষের প্রশ্ন রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে মহিবুল্লাহ নাকি বাংলাদেশ সরকারের হাতে সেটাই এখন জানার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি বাংলাদেশ সরকারের হাতে হয় তাহলে মুহিব্বুল্লাহ কিসের খুঁটির বলে একজন সাধারন রোহিঙ্গা হয়ে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে হুংকার দিয়েছেন। তার কথার বাইরে কোন রোহিঙ্গা মায়ানমার ফেরত যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। এখন দেখার বিষয় হচ্ছে মহিবুল্লাহ এবং রোহিঙ্গাদের বিষয় বাংলাদেশ সরকার কি ব্যবস্থা নেয়।

রোহিঙ্গাদের বিষয়ে সরকারকে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে এটা সময়ের দাবি। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের দাবি। আর না হয় একসময় রোহিঙ্গাদের কারণে সেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা হয়ে যাবেন সংখ্যালঘু। খোঁজ নিয়ে জানা যায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা যারা ছোটখাটো ক্ষুদ্র ব্যবসা করতেন রোহিঙ্গাদের কারণে তারা তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছেন। অনেকে অসহায় হয়েছে হয়ে গেছে তাদের কারণে, কারণ রোহিঙ্গারা দিন দিন তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি করছে। এছাড়াও সন্ত্রাসী এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তৈরি করছে রোহিঙ্গারা স্থানীয় বাঙালিদেরকে তারা বিনা কারণে আক্রমণ করছে অনেককে ফোন পর্যন্ত করছে তাছাড়া তারা নিজেরা নিজেরা মারামারি করে মন খারাপ করছে।

No comments:

Post a Comment

Home