প্রেসিডেন্ট এরদোগান ও একে পার্টি - খবরের অন্তরালে

জাতীয়

সর্বশেষ সংবাদ

Thursday, 1 August 2019

প্রেসিডেন্ট এরদোগান ও একে পার্টি

একে পার্টি গঠন
তুরস্কের রাজনৈতিক ইতিহাসের পর্যালোচনা করলে দেখা যায় হাজার ১৯৯১ থেকে ২০০২ সাল ১১ বছর একটি অস্থির পরিবেশের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে, যোগ্য নেতৃত্বের অভাব ছিল অন্যতম বড় সমস্যা তাই জনগণ কোন দলের প্রতি আস্থা রাখতে পারছিল না। যার ফলে একের পর এক কোয়ালিশন সরকার গঠিত হচ্ছিল কেউ তাদের মসনদ টিকিয়ে রাখতে কেউ বা তাদের আদর্শ ধরে রাখতে গিয়ে দেশের সার্বিক অগ্রগতির দিকে সম্ভবত কম নজর দিতে পেরেছিল।
প্রায় এক যুগ এর এই সময়টাতে সরকার গুলোতে প্রধানমন্ত্রীর কিংবা তার দলের অধিকাংশ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে শরিক দলের উপর ভরসা কিংবা আস্থা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ ছিল মুখ্য বিষয়, আর সময় যত এগুচ্ছিল সমস্যা তত বেশি হচ্ছিল এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৯ থেকে ২০০২ সাল ছিল তুরস্কের সবচেয়ে খারাপ সময় এমনকি অন্ধকার বছর বললেও ভুল হবে না। অর্থনৈতিক সংকট রাজনৈতিক অনৈক্য এতটাই খারাপ অবস্থায় উপনীত হয়েছিল তুরস্ক ইউরোপের রুগ্ন দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলয। এমতাবস্থায় পুরো জাতি নতুন কারো দিকে নতুন কোন দলের দিকে তাকিয়ে ছিল, এমন একটি অবস্থাতেই নতুন উদ্যমে আবির্ভাব ঘটে রিসেপ তায়িপ এরদোয়ান ও একে পার্টির। একে পার্টি গঠনের প্রেক্ষাপট নিয়ে কিছু বিষয় বিস্তারিত লেখা জরুরী মনে করি।
হাজার ১৯৯৭ সালের পোস্টমডার্ন সামরিক ক্যু এর পর এটনি জেনারেল ভুরাল সাবাস রেপা পার্টি বন্দে মামলা দায়ের করেন। রেপা পার্টির রাষ্ট্রের অন্যতম ভিত্তি ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ এর বিপরীতে কাজ করছে মর্মে অভিযোগ আনা হয়, পরবর্তীকালে প্রায় আট মাস শুনানি শেষে আদালত ১৬ জানুয়ারি ১৯৯৮ সালে রেপা পার্টি বন্ধ ঘোষণা করে। এদিকে সামরিক ক্যু দলের কার্যক্রম বন্ধ হতে পারে এই আশঙ্কায় আগে থেকেই নতুন করে কাজ শুরু করার জন্য পরিকল্পনা শুরু করা হয় তখন দলে দুই ধরনের মতামত দেখা যায় এর মধ্যে প্রথমটি গতানুগতিক ধারা আর দ্বিতীয় টি নতুন ধারা।
গতানুগতিক ধারার লোকজন ও সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এর পক্ষে এবং এখন আগের মতোই আরেকটি  আগের পদ্ধতি কে অনুসরণ করে শুধু নাম পরিবর্তন করে আরেকটি পার্টি করার পক্ষপাতী পার্টির সাবেক প্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডঃ নাজিমুদ্দিন এই মতের অনুসারী ছিলেন
রাজনীতিতে আমরা বারবার হোঁচট খাচ্ছি, একবার দল শুরু হওয়ার পর যখন সফলতার দ্বারপ্রান্তে চলে যায় তখন বন্ধ করে দেওয়া হয়। আবার শুরু করি এগিয়ে যাই় সফলতার দ্বারপ্রান্তে চলে যায় আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়। অনেকটা খেলার মত সব সময় তারা আমাদেরকে নিয়ে খেলছে এবার আমরা খেলি। নতুন করে চিন্তা করি সবাইকে একসাথে নিয়ে এগিয়ে যাব দলের তরুণ নেতৃবৃন্দের বিশাল অংশ ছিল এই মতের পক্ষে ব্যাপক আলোচনা পর্যালোচনা শুরু হয় কিন্তু অবশেষে পুরাতনদের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে ১৯৯৭সালের ১৭ ডিসেম্বর ফজিলত নামে নতুন দল গঠন করা হয়
আগের সবগুলো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হওয়ার পর নতুন দল গঠনের চিন্তা ভাবনা তাকিয়ে আছেন সবাই রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান এর দিকে এদিকে পুরোদমে নতুন দল গঠনের প্রস্তুতি চলছে দলের গঠনতন্ত্র প্রণয়ন কর্মসূচি প্রণয়ন এবং সরকারি অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবনা তৈরীর কাজ চলমান যেকোনো সময় দল গঠনের ঘোষণা আসবে শেষ মুহূর্তে ডানপন্থী দল গুলোর মধ্যে দেশপ্রেম ও সৎ লোকদের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে এর মধ্যে কেউ আসে না আবার কেউ জানে এমন এক পরিস্থিতিতে চলে আসে আগস্ট মাস
২০০১ সালের ১৪ আগস্ট তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় বিলকেন্ট হোটেলে একে পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ৭৪ জন প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে ১৩ জন নারী ও দশজন প্রফেসর ছিলেন রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান ছিলেন পার্টির একষট্টিতম সদস্য ফাজিলত পার্টির প্রায় অর্ধেক সংসদ সদস্য এ কে পার্টিতে যোগ দিলেন আরো কয়েকটি দলের দুইজন যোগ দিলেন মোট ৫৫ জন এমপি কে নিয়ে প্রতিষ্ঠা হল একে পার্টি।
একে পার্টি প্রতিষ্ঠার সময় রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান এর সেই ঐতিহাসিক বক্তব্য।
তুরস্কের রাজনীতিতে আজ এক নতুন অধ্যায় খোলা হচ্ছে আর তা হলো একে পার্টির অধ্যায়। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কতটা গণতান্ত্রিক পরিবেশ থাকতে পারে তা এখন জনগণ দেখবে। একে পার্টি তুরস্কের রাজনীতির ইতিহাসে সবচেয়ে স্বচ্ছ। জনগণের কাছে জবাবদিহিতা পূর্ণ এবং সব সময় হিসাব দিতে প্রস্তুত। এক রাজনৈতিক দল হিসেবে কাজ করবে শুধু নেতা কেন্দ্রিক দল নয় বরং সমন্বিত কাজের মাধ্যমে দলকে পরিচালনা করা হবে। চেয়ার নয় বরং জনগণকে সেবা করার জন্য একে পার্টির প্রতিষ্ঠা। এখন থেকে তুরস্কের রাজনীতির কোনো কিছুই পুরাতন এর মত হবে না। দল গঠনের চিন্তা থেকে আজকে পর্যন্ত জনগণের মতামত আমরা নিয়েছি, অনেক পরামর্শ নিয়েছি আর বলেছি কম শুনেছি বেশি। তুরস্কের রাজনৈতিক ইতিহাসের বেশ কিছু বিষয় তুলে ধরেন এবং দেশের অবস্থা বর্ণনা করেন তিনি জনগণ কি অবস্থায় আছে তা বর্ণনা দেন একে পার্টির সংগঠন কিভাবে চলবে তার ফিরিস্তি তিনি বলেন।

লেখকঃ
 হাফিজুর রহমান। এরদোগান দ্যা চেঞ্জ মেকার বই থেকে সংগৃহীত।

No comments:

Post a Comment

Home