প্রতারণার আরেক নাম রামগঞ্জের পরি বেগম! - খবরের অন্তরালে

জাতীয়

সর্বশেষ সংবাদ

Thursday, 4 July 2019

প্রতারণার আরেক নাম রামগঞ্জের পরি বেগম!

সুন্দর চেহারার অধিকারী পরি বেগম তার সুন্দর মুখের চাহনি দিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে কখনো পুরুষ আবার কখনো গ্রামের অবলা দরিদ্র অসহায় নারী ও কিশোরীদের ফাঁদে ফেলে নিজের ইচ্ছা মত অর্থ আদায় করা হলো এই পরীর কাজ। এই পুরীর কাজ হলো উঠতি বয়সী যুবক শ্রেণী সরকারি চাকরিজীবী জনপ্রতিনিধি রাজনীতিবিদ এদেরকে প্রেমের ফাঁদে ফেলা।
এই পরীর কাজেই হলো ফেসবুকের মাধ্যমে চ্যাটিং করে অথবা ফোন নাম্বার এ কল করে প্রতারণার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া। তার প্রতারণার ছিল বিভিন্ন কৌশল কাউকে লিভ টুগেদার এর মাধ্যমে আবার কাউকে রুমমেট করার ফাঁদে ফেলে স্বীকার করত পরী। তার মায়াবী কথার জালে আটকা পড়তো বহু পুরুষ। কিন্তু তার এই ফাঁদ যে কত ভয়ঙ্কর তা কারো জানা ছিল না। তার এই ভয়ঙ্কর ফাঁদ এর ব্যাপারে যখন টের পাওয়া যেত তখন আর কিছুই করার থাকতো না।
পরি বেগমের এই সব অপকর্মকে সেন্টার দেওয়ার জন্য রয়েছে রামগঞ্জে অঘোষিত একটি সেন্টিকেট। যার কারনে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস করতো না। এতক্ষণ যে পরি বেগমের কথা বলা হলো সে কোন কাল্পনিক জিন পরীর গল্প নয় এটা হচ্ছে লক্ষীপুরের রামগঞ্জে এক প্রতারক পরিবারের কথা, বিগত কয়েক মাস থেকে বিভিন্ন গ্রাম গঞ্জের এলাকা থেকে এই পরি বেগমের নানান প্রতারণার খবর এখন টক অব দ্য রামগঞ্জে পরিণত হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় পরি বেগম রামগঞ্জ পৌরসভার নন্দনপুর গ্রামের হিম্মত আলী ভূঁইয়া বাড়ির আলমগীর হোসেনের স্ত্রী। তার স্বামী আলমগীর হোসেন স্ত্রীর বেপরোয়া অনৈতিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করেও কয়েকবার হেনস্থা হয়েছেন। পরী বেগমের এ সকল কর্মকান্ড আস্তে আস্তে প্রকাশ পেতে শুরু করে যখন রামগঞ্জ পৌরসভার সাতার পাড়া গ্রামের মিয়া বাড়ির জেসমিন আক্তার এর কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা সুফিয়া বেগমের কাছ থেকে ৮০০০ একই গ্রামের মিয়া বাড়ির সোহাগী বেগম এর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নাসরিন আক্তার এর কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা সুমা আক্তার এর কাছ থেকে ৭ হাজার আকলিমা আক্তার ৭ হাজার টাকা বাচ্চু মিয়ার কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা সহ পার্শ্ববর্তী আব্দুল করিম ব্যাপারী বাড়ি, জয়নাল আবেদীন বেপারী বাড়ির সহ অসংখ্য নারী-পুরুষ এর কাছ থেকে বয়স্ক ভাতা বিধবা ভাতা প্রতিবন্ধী ভাতা মাতৃত্ব ভাতা ও নতুন ঘর করে দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক পরি বেগম।
অভিযুক্ত পরি বেগম মোবাইল ফোনে জানান, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সঠিক নয়। আমাকে নিয়ে যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো কিছু সমাধান হয়েছে। বাকীগুলো সমাধানের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তাই এগুলো নিয়ে লেখালেখির কোন দরকার নেই।
এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রিফাত আরা সুমি জানান, পরি বেগম নামের কোন মহিলাকে আমরা চিনি না যদি আমাদের অফিসের নাম বিক্রি করে কোন অনৈতিক কর্মকান্ড করে থাকে তাহলে অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে রামগঞ্জ থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, আমি এখানে নতুন এসেছি। তবে পরি বেগমের প্রতারনার বিষয়ে খোজ খবর নেওয়া হচ্ছে। কেউ অভিযোগ করলে তাৎক্ষনিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খবর শীর্ষনিউজ।

No comments:

Post a Comment

Home