লক্ষ্মীপুরে “পোলা চোর” আতঙ্কে অভিভাবকরা - খবরের অন্তরালে

জাতীয়

সর্বশেষ সংবাদ

Thursday, 11 July 2019

লক্ষ্মীপুরে “পোলা চোর” আতঙ্কে অভিভাবকরা

লক্ষ্মীপুরে
(আঞ্চলিক ভাষায় পোলা চোর) আতঙ্ক বাড়ছে। গত এক সপ্তাহ যাবত জেলার পাড়া-মহল্লা ও বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মাঝে এই আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে ছেলে ধরা চোরেরা ধরা পড়লে এমন ভাব দেখায় যে, এরা পাগল কিংবা বোবা। অন্যদিকে আইন শৃংখলা বাহিনীর লোকজন বলছে ছেলেধরা সন্ধেহে আটককৃত অধিকাংশই মানসিক ভারসাম্যহীন ।
গত (৬ জুলাই) লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ২নং দক্ষিণ হামছাদি ইউনিয়নের পশ্চিম গোপিনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী মিথিলা (৬)কে অজ্ঞাত পরিচয়হীন এক যুবক স্কুল থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময়ে জনতার হাতে ধরা পড়ার খবর পাওয়া যায়। পরবর্তীতে জনতা ও স্কুল ছাত্রীর বাবা মাসুদ আলম মিলে উক্ত (ছেলে ধরা) সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এই বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

উপরোক্ত বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মহাদেব পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফ হোসেন বাচ্চু বলেন, ইদানিং কালে ছেলে ধরার হিড়িক লক্ষ্মীপুর জেলায় শুনা যায়, যার কারনে অভিভাবকরা বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় কাজকর্ম ফেলেও বাচ্চাদের সাথে স্কুলে এসে বসে থাকেন।
তদুপরি আজ শুনলাম ২নং দক্ষিণ হামছাদি ইউনিয়ন এর অন্তর্গত পশ্চিম গোপিনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী মিথিলাকে এক অজ্ঞাত পরিচয়হীন যুবক (২৫ বছর বয়সী যুবক) তুলে নিয়ে যাওয়ার সময়ে জনতার হাতে আটক হয়। পরবর্তীতে স্থানিয় জনতা তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। এতে করে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানান তিনি।
এই ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ৩নং দালাল বাজার ইউনিয়নের সাবেক ছাত্র নেতা রুবেল হাসনাত বলেন, এরা যখন ধরা পড়ে তখন তারা পাগল, উন্মাদের অভিনয় করে, এর বিষয়ে অনুসন্ধান করে সে যদি দোষি সাবস্থ হয়, তাহলে প্রচলিত আইনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে প্রশাসনের হস্থক্ষেপ কামনা করছেন তিনি।
২নং দক্ষিণ হামছাদি ইউনিয়ন এর যুবলীগের আহবায়ক নাজমুল আলম রনী বলেন, তদন্ত করে সে যদি দোষী সাব্যস্ত হয় তাহলে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির বিধান করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আজিজুর রহমান বলেন, আজ শনিবার ছেলে ধরা চোর অভিযোগে এক যুবককে স্থানিয়রা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। কিন্তু আমি যতটুকু বুঝেছি এই ছেলেটি বিকৃত-মস্তিক সম্পন্ন ব্যক্তি। সে নিজের নামও বলতে পারে না।


 তাদের সন্তানদেরকে স্কুল মাদ্রাসা পাঠাইতে ভয় করছে। জেলার রামগঞ্জ লক্ষ্মীপুর সদর শহর জেলাব্যাপী ছেলে ধরা গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন লক্ষীপুর জেলা পুলিশ সুপার।
বিগত কয়েক দিন থেকে ফেসবুকে এবং ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় স্কুল ও মাদ্রাসার ছোট ছোট বাচ্চাদের কে ধরে নিয়ে যাচ্ছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এবং অনেক জায়গায় এদেরকে গণধোলাই দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হচ্ছে বলে জানানো হয় বাস্তবে তা সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা। যাদেরকে ধরা হয়েছে বলে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে তারা প্রকৃতপক্ষে মানসিক রোগী এ ধরনের কোন ছেলেধরা গুজব প্রমাণিত হয়নি।

ফেসবুকে যে কারণে গুজব ছড়ানো হচ্ছে তা হলো পদ্মা সেতুতে নাকি এক লক্ষ মানুষের মাথা লাগবে তাই বিভিন্ন জেলা থেকে ছোট ছোট বাচ্চাদের কে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এই ধরনের গুজবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সন্তানদের বাবা-মা এবং অভিভাবকগণ। তাই অনেকেই তাদের সন্তানদেরকে স্কুলে মাদ্রাসায় পাঠাচ্ছেন না।

লক্ষ্মীপুর ও ঠিক একই ধরনের গুজব ছড়িয়ে মানুষকে আতঙ্কিত করার চেষ্টা করছে বলে লক্ষ্মীপুরে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন। যারা এ ধরনের গুজব ছড়িয়ে দিচ্ছেন ফেসবুকের মাধ্যমে তারা বেশিরভাগই থাকেন প্রবাসে পুলিশ জানিয়েছেন তাদেরকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং যারা এ ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে তাদের ব্যাপারে তথ্য দেওয়ার জন্য পুলিশ আহবান করছে।

No comments:

Post a Comment

Home