প্রিয়া এতো বেপরোয়া কেন? মোস্তফা ফিরোজ - খবরের অন্তরালে

জাতীয়

সর্বশেষ সংবাদ

Tuesday, 23 July 2019

প্রিয়া এতো বেপরোয়া কেন? মোস্তফা ফিরোজ

রাষ্ট্র প্রিয়াকে নমনীয় হবার সুযোগ দিচ্ছে, কিন্তু তিনি যেন যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। তাকে ছাড় দেয়া হচ্ছে, কিন্তু তিনি আঘাত করেই যাচ্ছেন। অথচ তিনি যে দেশে বসে রাষ্ট্রকে বিপদে ফেলতে মরিয়া, সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে লাখ লাখ বাংলাদেশী ওই দেশের অভিবাসী হলেও মনেপ্রাণে বাংলাদেশকে ভালোবাসেন।
মনে করা হয়েছিলো, প্রিয়া ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সামনে উল্টো পাল্টা বলে এসেছেন। কিন্তু না। একদিন না যেতেই তিনি ৩৫ মিনিট ধরে ভিডিও কনফারেন্সে যে কথা বলেছেন, তাতে সবারই আক্কেল গুড়ুম। তিনি ট্রাম্পের সামনে যে কথা বলেছেন, ওটাই তার ভাব সম্প্রসারণ করেছেন। জানান দিয়েছেন, তিনি তার বক্তব্য অটল ও দৃঢ় আছেন। অথচ, ট্রাম্পের সামনে ওই বক্তব্য দেয়ার প্রেক্ষিতে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী থেকে শুরু করে অনেকে যখন মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখন বলা হলো না প্রিয়াকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। দু'জন আইনজীবীর করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাও প্রত্যাহার করা হলো।
কিন্তু কিসের কি! পরদিনই প্রিয়া আবার ৩৫ মিনিট ধরে বোমা ফাটালেন। তার এই লম্বা বক্তব্য পুরোটাই মিথ্যায় ভরা। তিনি তার মিথ্যা বক্তব্যকে জায়েজ করার জন্য প্রাধানমন্ত্রী, আবুল বারকাত, তার সংগঠন ও সাংবাদিকদের জড়ালেন। প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার। তার বড়ো প্রমাণ মিয়ানমারের সংখ্যালঘু ১১ লাখ মুসলিমদের দেশে আশ্রয় দেয়া। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কখনোই বলেননি ৩ কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু নির্যাতনের কারণে দেশ থেকে চলে গেছে। পূর্ণমন্ত্রী শ ম রেজাউল অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেছেন, তার বাড়ি পোড়েনি। জমি জমা দখল হয়নি। তিনি সেখানে বসবাসও করেন না বা আসেন না। আবুল বারাকাতও বলেছেন, প্রিয়া তার সাথে কখনো কাজ করেনি। তিনি নিজেও বলেননি ওই সংখ্যার কোন জনগোষ্ঠী দেশান্তরি হয়েছে। তার সংগঠন হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদও তার বক্তব্যের সাথে একমত হয়নি। তারপরও প্রিয়া সাহা অবলীলায় মিথ্যা কথা বলে যাচ্ছেন।
প্রিয়া সাহার থেকে কম অপরাধ বা বিনা অপরাধেও যেখানে অনেক বিশিষ্ট মানুষ কেবল সরকার বিরোধিতার কারনে মামলা জেল জুলুমের শিকার হয়েছেন, সেখানে তিনি এতো ছাড় পেয়েও দেশকে রেহাই দিচ্ছেন না। জানিনা এই শক্তির উৎস কি। তবে বলতেই দেশ ও জাতির জন্য এটা একটা দূর্ভাগ্যজনক ঘটনা।

No comments:

Post a Comment

Home