বিয়ে করে কোটি টাকা ইনকাম করাই তার পেশা! - খবরের অন্তরালে

জাতীয়

সর্বশেষ সংবাদ

Friday, 28 June 2019

বিয়ে করে কোটি টাকা ইনকাম করাই তার পেশা!

হামিদা বেগম ৩৪ বছর বয়স তার একমাত্র পেশা বিয়ে করা একটি-দুটি নয় বিয়ে করেছেন ১১ টি বিয়ের পর স্বামীকে ছেড়ে দেওয়া তার পেশা। বিয়ে করার পর সেই স্বামীকে কিছুদিন পর ছেড়ে দেয়া এবং তার কাছ থেকে দেনমোহরের টাকা সহ নানা কৌশলে আরও বেশি টাকা হাতিয়ে নেওয়া তার ব্যবসা।

একে একে এগারো ১১টি বিয়ে করলেও তিন-চারটি ছাড়া অধিকাংশ স্বামীর সঙ্গে কোন প্রকার বিয়ে বিচ্ছেদ হয়নি হামিদা বেগমের। তার মূল টার্গেট থাকে প্রবাসী এবং সম্পদশালী ব্যবসায়ীরা। প্রথমে টার্গেট নিশ্চিত করেন তিনি এরপর নিজ দেহের সৌন্দর্যের ফর্সা দিয়ে আকৃষ্ট করেন ওইসব পুরুষদের।

হামিদা বেগমের পৈত্রিক বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের কলেজপাড়া এলাকায়। বাবা মৃত বালু মিয়া মা আবেদা খাতুন হামিদা বেগমের বাবা ছিলেন একজন চা দোকানদার। পারিবারিকভাবে হামিদা বেগমের প্রথম বিয়ে হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল সদরের বড্ড পাড়া গ্রামের প্রবাসী আলমগীর নিয়ার সঙ্গে। আনুমানিক ১০ বছর সংসার করার পর হামিদা কালিকচ্ছ এলাকার ব্যবসায়ী ইব্রাহিম নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে প্রবাসী আলমগীরকে তালাক দেয় এবং দেনমোহর ও অন্যান্য পাওনা বাবদ প্রায় ৯লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে যায় হামিদা।

পরবর্তীতে ইব্রাহিমের সঙ্গে সংসার শুরু করে হামিদ। আর মাত্র এক বছরের কৌশলের হামিদা নিজ পিত্রালয় নতুন ঘর নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজের অজুহাতে ১০ লক্ষ টাকার বেশি ইব্রাহিম এর কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়। এরইমধ্যে কালিকচ্ছ এলাকার বাপ্পি নামে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তোলেন হামিদা বেগম। এর কিছুদিন পর দুর্ঘটনা ইব্রাহিম পা ভেঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ছেড়ে হামিদা বেগম বাপ্পির সঙ্গে নতুনভাবে সংসার শুরু করে।

মাত্র কয়েক মাসে বাপ্পির কাছ থেকে হামিদা মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পর সরাইল সদরের বাসিন্দা আর আজ একাধিক সঙ্গে আবার নতুন ভাবে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
এক সময় এ রকম অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে হামিদা বেগম গ্রামের বাড়ি কালিকচ্ছ থেকে কয়েক বছর আগে বিতাড়িত হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে বিয়ে বাণিজ্য চালাতে থাকে।
বিশেষ করে প্রবাসী ও ব্যবসায়ীদের নানাভাবে ফাঁদে ফেলে প্রথমে বিয়ে ছাড়াই তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন হামিদা বেগম পরে বিয়ে সারা রাত্রি যাপনের অপরাধের মামলার ভয় দেখিয়ে ১০থেকে ১২ লক্ষ টাকা দেনমোহরে এইসব ব্যক্তিদের বিয়ে করেন হামিদা। কিছুদিন পর সুযোগ বুঝে দেনমোহর এর পূর্ণ টাকা ও বিবাহ বিচ্ছেদ কালীন স্ত্রীর ভরণপোষণ বাবদ আরও লক্ষাধিক টাকা আদায় করে এসব স্বামীদের তালাক দেন হামিদা বেগম।
সর্বশেষ ১০ নম্বর স্বামীর জহিরুল ইসলাম কে নিয়ে সংসার করা অবস্থায় গত ২৩ শে জুন জহিরুলের বন্ধু আব্দুল্লাহ কে বিয়ে করেছেন হামিদা হাতিয়ে নিয়েছে জহিরুলের সবকিছু ‌

এদিকে বিষয়টি অনুসন্ধানে হামিদার একের পর এক বিয়ের কাবিননামা সহ বেশ কিছু উন্নতি দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিবেদক এর কাছে রয়েছে বলে জানা যায়। হামিদা বিয়ের প্রতারণার ফাঁদ পেতে ভুয়া ঠিকানা দিয়ে পাসপোর্ট বয়স কম দেখিয়ে জন্ম নিবন্ধন তৈরি ও অনৈতিক কাজে বিভিন্ন স্থানে নিজেকে রক্ষা করতে প্রথম স্বামীর নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে জাতীয় সনদপত্র করেছেন হামিদা বেগম।
এই বিষয়ে কালিকচ্ছ এলাকার জনপ্রতিনিধি সমাজকর্মী সহ সুশীল সমাজের বেশ কয়েকজন জানিয়েছেন হামিদা বেগমের ব্যবসা হলো দিয়ে দেনমোহরের টাকা হাতিয়ে নিতেই হামিদা একের পর এক বিয়ে করে যাচ্ছেন তার কারণে অনেক পরিবার এখন শুধুই অশান্তি অনেক মানুষ আজ অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ।

গত মঙ্গলবার হামিদা বেগমের মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন একাধিক বিয়ে এটি আমার ব্যক্তিগত জীবনের বিষয় মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের সবকিছু জানতে নেই। হামিদা বেগম এ সবকিছু অস্বীকার করে দাবি করেন একাধিক বিয়ে ও দেনমোহরের টাকা আদায় এসব তিনি তার স্বামীর ইচ্ছাতেই করেছেন তার স্বামী তাকে দিয়ে এ সব রোজগার করাচ্ছেন।

পরে তা কি প্রশ্ন করা হয় আপনার কোন স্বামী আপনাকে বিয়ে এ অনৈতিক কাজ গুলো করাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে হামিদা বলেন এসব বিষয়ে জানতে হলে সরাসরি সাক্ষাৎ করতে হবে। এই কথা বলে তিনি মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় এরপর একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল এর সংযুক্তি আর সচল পাওয়া যায়নি।

No comments:

Post a Comment

Home