ট্রাভেল পাস নিয়ে আসা প্রবাসী শ্রমিকদের বাংলাদেশ এয়ারপোর্টে দীর্ঘক্ষন আটক রাখার অভিযোগ - খবরের অন্তরালে

জাতীয়

সর্বশেষ সংবাদ

Sunday, 16 June 2019

ট্রাভেল পাস নিয়ে আসা প্রবাসী শ্রমিকদের বাংলাদেশ এয়ারপোর্টে দীর্ঘক্ষন আটক রাখার অভিযোগ

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা বিশেষ করে সিরিয়া অথবা তার আশে পাশের দেশগুলো থেকে আসা শ্রমিকদের কে বাংলাদেশ বিমান বন্দরে দীর্ঘক্ষন আটক রেখে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাদেরকে ছাড় দিচ্ছে বলে এরকম অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তুরস্ক লেবানন এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ থেকে যে সকল শ্রমিক ট্রাভেল পাস নিয়ে আসছেন তাদেরকে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা বিমান বন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ প্রয়োজনীয় তথ্য এবং জন্মগতভাবে তারা বাংলাদেশের অরজিনাল নাগরিক কিনা তা যাচাই বাছাই করার পর ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এছাড়াও সিরিয়ায় আইএস আইয়ের সাথে যোগদান করার জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে অনেক বাংলাদেশী গিয়েছিলেন। তারা পুনরায় আবার বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে এইজন্য সরকারের বিভিন্ন সংস্থার তৎপরতা।
বিবিসি বাংলা এক রিপোর্টে বলা হয়েছে সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ এয়ারপোর্টে যে সকল প্রবাসী শ্রমিক ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে আসছেন তাদেরকে দীর্ঘ সময় আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বিবিসি বাংলা কয়েকজন আগত শ্রমিকের সাথে কথা বলে জানান যে সকল শ্রমিক   ট্রাভেল পাস নিয়ে বাংলাদেশ এয়ারপোর্টে আসেন তারা রিয়েল বাংলাদেশী কিনা অথবা কোন জঙ্গী সংস্থার সাথে এদের সম্পর্ক ছিল কিনা তা যাচাই বাছাই করতে যার যার এলাকার চেয়ারম্যান এর সত্যায়িত সার্টিফিকেট পাওয়ার পর ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে।
বিবিসি বাংলাকে একজন লেবানন থেকে ট্রাভেল পাস নিয়ে আসা শ্রমিক বলেন আমরা যথাযথভাবে দূতাবাস থেকে জরিমানা দিয়ে ট্রাভেল পাস সংগ্রহ করে দেশে এসেছি কিন্তু যে দেশ থেকে এসেছি সেই দেশের এয়ারপোট এ আমাদের এরকম হয়রানি করে নাই যে রকম হয়রানি নিজের দেশে এসে করতে হচ্ছে দীর্ঘ ১০ থেকে ১২ ঘন্টা অথবা একদিনের বেশি সময় অপেক্ষা করার পর আমাদেরকে ছাড়পত্র দেওয়া হয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। তিনি বলেন আমরা বিদেশে যাওয়ার পর দালাল আমাদের পাসপোর্ট ফিরিয়ে না দেওয়ায় বাধ্য হয়ে দূতাবাস থেকে কাগজ নিয়ে এসেছি এখন নিজ দেশে এসে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
জসিম নামে আরেকজন তুরস্ক প্রবাসী বাংলাদেশ এয়ারপোর্টে এসে একইভাবে হয়রানির শিকার হন। ওই প্রবাসী বলেন আমি তুরস্ক থেকে সরাসরি ঢাকা এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করার পর আমাকে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইমিগ্রেশন পার হওয়ার অনুমতি না দিয়ে বসিয়ে রাখেন। দীর্ঘক্ষন বসিয়ে রাখার পর তারা বলে আমার বাড়ি থেকে চেয়ারম্যান এবং থানার ক্লিয়ারেন্স কাগজ নিয়ে আসতে তাহলে তারা আমাকে যেতে দেবে। এদিকে আমাকে রিসিভ করতে আসা আমার নিকটাত্মীয়রা অপেক্ষার প্রহর গুনছে চিন্তা করতেছে আমাকে দেশে ঢোকার অনুমতি দিবে কিনা। যা হোক আল্লাহর কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমি গ্রামের বাড়িতে ফোন করে আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে থানা থেকে ক্লিয়ারেন্স পেপার নিয়ে আসার পর আমাকে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দেয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে এই কাজটুকু করার জন্য আমাকে দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা ইমিগ্রেশন লাউঞ্জে বসে থাকতে হয়েছে।
বিবিসি বাংলা ইমিগ্রেশন কে ক কর্মকর্তা বলেনবিশেষ করে যেসব শ্রমিক অথবা বাংলাদেশ সিরিয়া অথবা তার আশেপাশে দেশে থাকেন তারা যদি যথাযথ প্রক্রিয়া না আসে ট্রাবল পাস নিয়ে আসেন তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তারা রিয়েল বাংলাদেশী কিনা সেটা যাচাই-বাছাই করার জন্য এই সময় টুকু আমাদের প্রয়োজন হয়। কাউন্টার টেরোরিজম এর একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন আমরা এখন যে সকল নাগরিকদের তালিকাভুক্ত প্রবাসে থাকে অথবা জঙ্গিবাদের সাথে সংযুক্ত সেই সকল নাগরিকদের সকল তথ্য ইমিগ্রেশনে দিয়ে এসেছি এখন থেকে তারা দেশে প্রবেশ করলেই গ্রেপ্তার করা হবে।
এরকম হয়রানির শিকার কয়েকজন প্রবাসী শ্রমিক বলেন আমরা দেশ থেকে যথাযথ প্রক্রিয়া বিদেশ গিয়েছি এবং সেখান থেকে মালিক অথবা দালালের খপ্পরে পড়ে পাসপোর্ট হওয়ার কারণে ট্রাভেল পাস নিয়ে এসেছি আমরা তো বিদেশে চাকরি করার জন্য দেশের স্বার্থে দেশের উন্নয়নের জন্য কিন্তু আমাদের ভাগ্য খারাপ হয় আমাদেরকে দেশে ফিরে আসতে হয়েছে তাই বলে আমরা তো আর জঙ্গী না যারা জঙ্গী সরকারের বিভিন্ন সংস্থা অবশ্যই তাদের সম্পর্কে জানার কথা বিনা কারণে আমরা কেন দীর্ঘ সময় এয়ারপোর্টে থেকে হয়রানির শিকার হব। এছাড়াও যে সকল দূতাবাস থেকে আমরা ট্রাভেল পাস নিয়ে এসেছি সেটা তো তারা শুধু শুধু আমাদেরকে দেয় নাই দেশে তারা প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই বাছাই করার পর আমাদেরকে ট্রাভেল পাস দিয়েছেন। তুরস্কো প্রবাসী শ্রমিক আরো বলেন তুরস্ক থেকে একজন বাংলাদেশী যদি পাসপোর্ট না থাকে দূরাভাষ থেকে ট্রাভেল পাস আনতে প্রায় ছয় মাস থেকে এক বছরেরও অধিক সময় লাগে কারণ দেশে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই বাছাই করার পর সমস্ত রিপোর্ট যখন দূতাবাসে আসে তারপর আমাদেরকে ট্রাভেল পাস দেওয়া হয় তাহলে কেন পুনরায় আবার এই এর ফলে আমরা নতুন করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আসতে হবে সরকারের প্রতি আমাদের আবেদন অবশ্যই তা বিবেচনা করবেন।

No comments:

Post a Comment

Home