মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কে বদলির নেপথ্যে! মাকসুদা সুলতানা ঐক্য - খবরের অন্তরালে

জাতীয়

সর্বশেষ সংবাদ

Tuesday, 4 June 2019

মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কে বদলির নেপথ্যে! মাকসুদা সুলতানা ঐক্য


স্ট্যান্ড রিলিজ সাথে ডিপার্টমেন্ট চেইঞ্জ এর মূল কাহিনী। মাকসুদা সুলতানা ঐক্য।
কোন ঘটনার গভীরে না গিয়ে কেন আমরা এমন মন্তব্য ঝড় তুলি। আপনি যদি ভেবে থাকেন যে গতকাল শুধু আড়ং এহানা দেওয়ার় কারণেই মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কে ঢাকা থেকে খুলনায় বদলি করা হয়েছে তাহলে আমি দৃঢ়ভাবে বলছি কারণ শুধু এটাই নয়।

চলুন একটু পিছনের দিকে যাই মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার ভোক্তা অধিকারের ব্যাপারে শুরু থেকে সততা নিয়ে স্বচ্ছতার সাথে কাজ করে আসছিলেন। অনেকটা মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন বছরের পর বছর নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে। তারপর যখন প্রধানমন্ত্রী সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধের তখন তিনি আর কাউকে তোয়াক্কা না করে বাংলাদেশের অনেক বড় বড় বেনিয়াদের অপরাধ এবং অপকর্মের আখড়ায় হাত দিয়ে ফেলেছিলেন।

কিন্তু সমস্যা হলো যাদের আখড়ায় ভদ্রলোক হাত দিয়েছিলেন তারা সবাই বাংলাদেশের এক একজন অঘোষিত মাফিয়া। এরা যখন যে রাজনৈতিক দলের সরকার ক্ষমতায় আসে তখন সে দলে কোটি কোটি টাকা ডোনেট করে। অঢেল টাকার উপহার সামগ্রী বিনিময়ে কিনে ফেলে হোমরা চোমরা নেতাদেরকে। আর সচিবালয়ের সব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারাও খুব সহজেই চলে আসে এই বিকিকিনির হাটে।

তবে যেসব সৎ এবং দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তাদের ওরা বাগে আনতে পারে না তাদের নামের তালিকা ও এই ব্যবসায়ী নামক মাফিয়া সিন্ডিকেট এর কাছে থাকে। এই মাফিয়া সিন্ডিকেট ওত পেতে থাকে কখন কিভাবে সেই লিস্টেড কর্মকর্তাকে রাস্তা থেকে সরিয়ে ফেলা যায়। সেই সিন্ডিকেটে শুধু ব্যবসায়ী মালিক নয় বরং মালিকদের কাছ থেকে সুবিধা ভোগকারী দালালরা ও থাকে। সঙ্গত কারণেই সেই সেন্টিকেট মাফিয়াদের শেকড় অনেক গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে।

যেহেতু মনজুর মোহাম্মদ একদিকে সৎ কোনভাবে এতদিনেও কিনে ফেলা যায় নি তার উপর উল্টো এলোক ঢাকা শহরের নামকরা শপিং মল নারী মাফিয়াদের বিউটি পার্লার বড় বড় হসপিটাল কাউকেই ছাড় দেয়নি তাই সব প্রতিষ্ঠান কর্ণধারদের সেন্টিকেট তলোয়ারের শান দিয়েছিল। এরপর আড়ং এ হাত দিয়েছে সেখানে ও বর্তমান কর্ণধার আরেক ব্যবসায়ী মাফিয়া নারী তামারা হাসান আবেদ যার বাবা ফজলে হাসান আবেদ ব্রাক এর প্রতিষ্ঠাতা।
ব্রাক এবং আড়ং একই মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ব্রাক যে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে লোন দেয় তাদের ভাগ্য উন্নয়ন করবে বলে কিন্তু কোন কারনে সেই লোনের টাকা পরিশোধ করতে না পারলে সেই দরিদ্র ব্যক্তির গোয়ালের গরু ঘরের ছালের টিন খুলে আনার খবর আমরা অনেকেই জানি।

১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত আড়ং প্রতিষ্ঠাতা বাবার দায়িত্ব যে কন্যা তামারা আরো শক্ত হাতে পরিচালনা করেছে তার ফল তো কয়েক বছর থেকে আরও নোংরা ভাবে দেখে আসছি। ১৭০ টাকার বিছানার চাদরের গায়ে কারখানার প্রাইস ট্যাগ না উঠিয়ে তার উপর নতুন করে আরও ২৫০০ টাকার প্রাইস ট্যাগ লাগিয়ে বিক্রির প্রতিবাদে ২ বছর আগেই তো দেখেছিলাম। তার পরেও কি আড়ং এর কেউ কিছু করতে পেরেছিল? পারেনি তো আর পারবেই বা কেন।
১৯৭৮ সালে জিয়ার প্রিয়ভাজন হয়ে সে আমলে যখন খুঁটি গেড়ে ছিল সে কি আর এমনি এমনি? গত ৪১ বছর আড়ং যা পরিয়েছে  সমাজের তথাকথিত এলিট শ্রেণী সেটা পড়েছে মহা আনন্দে। নতুন নতুন টাকা চোখে দেখা লোক জনেরা পণ্য নয় শুধু ব্রান্ড নেম কিনে নিজেদের এলিট সাজাতে ছুটে যায় আড়ং এ। কারণ ওদের টাকা তো আমাদের মত কষ্টার্জিত সৎপথের নয় তাই পণ্যের মান বোঝার সামর্থ্য ওদের নেই।

যা বলেছিলাম বাংলাদেশের প্রতিটি ইঞ্চি কে যারা প্রতিনিয়ত বিষাক্ত করে তুলছে বাচ্চাদের খাবার পানি ঔষধ দুধ ফল মাছ সবজি সহ সকল কিছুতে যখন ভেজাল মিশিয়ে মানুষের জন্য মৃত্যুকূপ তৈরি করে কোটি কোটি টাকার পাহাড় বানানো ব্যবসায়ী মাফিয়াদের কমবেশি আমরা সবাই চিনি এবং চিনে ফেলেছিল মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার নিজেও তাই সেই চেনা মাফিয়াদের যখন একের পর এক হাত দিয়ে যাচ্ছিল এই ভদ্রলোক তাহলে ওরা বাসায় কেন শুধু তোরে ঢাকা থেকে খুলনা পৃথিবী থেকে ট্রান্সফার করে দেয়নি।

এসব ব্যবসায়ী মাফিয়াদের সমস্ত শক্তি হচ্ছে ব্ল্যাক মানি বা কালো টাকা। শক্তির উৎস কালো টাকা দিয়ে এরা রাজনীতি ও নিয়ন্ত্রণ করে। তাই সেখানে যখন পরপর এতবার এতজন বাধাগ্রস্ত হয়েছে তবে কি এভাবে দেখতেই থাকবে মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার এর বীরত্বগাথা। তাই সব ব্যবসায়ী মাফিয়া সিন্ডিকেট কাল একত্রে হয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বেচারাকে স্ট্যান্ড রিলিজ শুধু নয় সেইসাথে দপ্তর বদলে দিয়ে নিজেদের ক্ষমতার কিছুটা ঝলক দেখিয়ে দিয়েছে। সেইসাথে ওরা মৌন মেসেজ দিয়ে সবাইকে এটা বুঝিয়ে দিয়েছে যে পরবর্তীতে কেউ ওদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালে তাদের অবস্থা আরো খারাপ করার ক্ষমতাও রাখে।

ওরা এভাবেই সারাজীবন বাংলাদেশের মানুষের রক্ত চুষে খাবে আর টাকার পাহাড় বানিয়ে নিজেরা এবং নিজেদের আপনজনদের বিদেশে পাঠিয়ে স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করে বাংলাদেশের মানুষকে ধুকে ধুকে মেরে ফেলবে তবুও ওদের বিরুদ্ধে টু শব্দটি করার অধিকার কারও থাকতে পারবে না।

লেখাটি লেখক এর ফেসবুক থেকে সংগৃহীত।

No comments:

Post a Comment

Home