প্রেমিকের বাড়িতে দুই প্রেমিকা বিয়ের দাবিতে,! - খবরের অন্তরালে

জাতীয়

সর্বশেষ সংবাদ

Saturday, 22 June 2019

প্রেমিকের বাড়িতে দুই প্রেমিকা বিয়ের দাবিতে,!

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর মুন্সিপাড়া গ্রামের মিজানুর রহমান বাবু নামের এক প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ের দাবিতে দুই প্রেমিকা বাড়িতে এসে হাজির এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রেমিক মিজানুর রহমান বাবু ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করেন পাশাপাশি গার্মেন্টস শ্রমিকদের একটি ম্যাচে ম্যানেজারের কাজ করেন। নিজের ২ ভাইকে নিয়ে থাকেন ঢাকার আমতলীতে এর মধ্যে মিজানুর রহমান বাবু এ দুই তরুণের সঙ্গে প্রেমের জেরে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন তাদের একজন স্বামী পরিত্যাক্তা নারী স্বামী পরিত্যাক্তা ওই নারীর বাড়ি জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার চন্নগড়ে।

অপর প্রেমিকা সাভার ইপিজেড এ কাজ করেন তার বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুক নগর ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে থাকেন সাভারের বাইপাইল এর আমতলায়। এই দুই প্রেমিকার সঙ্গে বাবু দীর্ঘ তিন বছর ধরে সম্পর্ক স্বামী পরিত্যাক্তা ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের সময় এলাকাবাসীর কাছে আটক হয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রক্ষা পান বাবু তবে ম্যাচ থেকে বেরিয়ে ওই নারীকে ফেলে গ্রামে পালিয়ে আসেন মিজানুর রহমান বাবু।
গত শুক্রবার সকালে ওই দুই প্রেমিকা ঢাকা থেকে তারাগঞ্জের হরিয়াল কুটি ইউনিয়নের সৈয়দপুর মুন্সিপাড়া গ্রামের মিজানুর রহমান বাবুর বাড়িতে এসে উঠেছেন বিয়ের দাবিতে কিন্তু বাবুর পরিবার তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয় পরে গভীর রাতে এলাকাবাসীর দাবির মুখে বাবুর মা তাদের দুজনকে বাড়িতে তুলতে বাধ্য হয় ওই দুইজন প্রেমিকা ঘটনাটি স্থানীয় চেয়ারম্যান এবং থানার ওসিকে জানালেও কোন সুরাহা হয়নি।

এদিকে বাবুর খোঁজে গিয়ে ম্যাচের ওই ঘটনা জানতে পারেন ইপিজেডের ওই কর্মী ও এরপর খুঁজে বের করেন বাবুর লালসার শিকার স্বামী পরিত্যাক্তা ওই নারীকে ও তারপর দুজনে শুক্রবার সকালে বাবুর বাড়িতে এসে ওঠেন। গার্মেন্টস কর্মী ওই নারী বলেন স্বামীর সঙ্গে তালাক হয়ে যাওয়ায় সন্তানকে নিয়ে গার্মেন্টসে চাকরি শুরু করি আমতলীতে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকি চাকরির সময় আমার সঙ্গে পরিচয় হয় বাবুর সে আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দিলে আমি আমার আগের স্বামী ও সন্তানের কথা ভুলে যায় সেই সব কিছু মেনে নিয়ে আমাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে দীর্ঘ তিন বছর সে আমার সঙ্গে স্বামী স্ত্রীর মেলামেশা করেছে বিয়ের কথা বলি সে বলে বাড়িতে পাকা ঘর করার পরে বিয়ে করব।

আমি বিশ্বাস করে আমার জমানো ২ লক্ষ টাকা তাকে ব্যবসার জন্য দেই বেতনের টাকা থেকেও প্রতি মাসে তাঁকে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা করে তিন বছর ধরে দিয়ে আসছি কিন্তু সে আমার সঙ্গে প্রতারণা করে আরও একটি মেয়ের সঙ্গে কি সম্পর্ক গড়ে তুলেছে এটা আমি ভাবতেও পারছি না বাধ্য হয়ে আমি তার বাড়িতে চলে এসেছি আমাকে বিয়ে না করা পর্যন্ত এখান থেকে যাব না। অপর প্রেমিকা বলেন গার্মেন্টস এ চাকরির সুবাদে বাবুর সঙ্গে পরিচয় ও সম্পর্ক হয় সে আমাকে তার ম্যাচের মধ্যে রুম ভাড়া দেয় সেখানে আমরা স্বামী-স্ত্রী পরিচয় থাকি তার ছোট দুই ভাই ও আমাকে ভাবী বলে ডাকে আমি বিয়ের কথা বললে সে জানায় গ্রামে দুই তলা বাড়ি বানাচ্ছে বাড়ি কমপ্লিট হলে আমাকে বিয়ে করবে আমি তার উপর বিশ্বাস করে তাকে স্বামী পরিচয় দিয়ে আমার গ্রামের বাড়িতে গত ঈদুল ফিতরের ছুটিতে নিয়ে যায় সেখানে জামাই হিসেবে আমার পরিবার তাকে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা করে আমি ঈদের বোনাস সহ বেতন এর ২৭ হাজার টাকা পাই পুরো টাকাটাই আমি বাবুকে দিয়ে দিয়েছি।
এছাড়াও এক বছর ধরে আমি ১৬ হাজার ৫০০ টাকা বেতন পাচ্ছিলাম আমার খরচ বাদে বাকি প্রায় সাত থেকে আট হাজার টাকা তার হাতে তুলে দিয়েছি ঈদের ছুটির পর আমরা আবারও ঢাকায় বাসা যায় এ সময় স্থানীয়রা আমাদের আটক করে বিয়ের কাবিননামা দেখাতে না পারায় স্থানীয়রা আমাদের আটক রাখে পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে অন্য বাসায় গিয়ে উঠি কিন্তু রাতে বাবু আমাকে রেখে ওই বাসা থেকে পালিয়ে যায় আমি এখন দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এরই মধ্যে আরেক আপু এসে আমাকে বলে তার সঙ্গে ও বাবু একই রকম করেছে তিন বছর ধরে একই বাসায় থেকেছে এরপর আমি ওই আপু কে নিয়ে তার বাড়িতে চলে এসেছি আমাকে বিয়ে না করা পর্যন্ত আমি যাব না আমার সন্তানের স্বীকৃতি জন্য বিয়ে করতেই হবে যদি বিয়ে না করে তাহলে আমি এখানে আত্মহত্যা করব।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন শুক্রবার সকালে দুই প্রেমিকা বাবুর বাড়িতে উঠলে তার বাবা-মা তাদের বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে নিজেরা পালিয়ে যায় ওই দুই প্রেমিকা বাড়ির পশ্চিম পাশে মেম্বারের দোকানের সামনে অবস্থান নেয় রাত সাড়ে এগারোটার দিকে তাদের একজনের বাবা ঘটনাস্থলে যান সেখানে কি তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন নি এরপর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কে বিষয়টি জানান তাকে জানান এটা বিচারের একটি আর নেই থানায় যেতে হবে পরে থানায় গেলে ওসি বলেন আপনারা বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করেন না হলে আমাদের জানাবেন কারণ বিষয়টি ধর্ষণ সংক্রান্ত।

সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার আনিসুর রহমান আনিস বলেন একই সঙ্গে দুই মেয়ের সম্পর্কের দাবি নিয়ে এসেছি' এর মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা কিভাবে সমাধান করা যায় সেই চেষ্টা করা হচ্ছে তবে বাবুর পরিবারের পক্ষ থেকে তেমন সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না সমাধান না হলে মেয়ে দুটি আত্মহত্যার হুমকি দিচ্ছে এই ব্যাপারে স্থানীয় চেয়ারম্যান বাবুল বলেন আমার কাছে বিষয়টি এসেছিল আমি বলেছি এটা ধর্ষণের ঘটনা আমার বিচারের একটি আর নেই আমি থানায় যেতে বলেছি এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান বিষয়টি জানার পর সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

No comments:

Post a Comment

Home