আমরা কোন সমাজে বসবাস করছি!! সম্পাদকীয়..... - খবরের অন্তরালে

জাতীয়

সর্বশেষ সংবাদ

Thursday, 27 June 2019

আমরা কোন সমাজে বসবাস করছি!! সম্পাদকীয়.....

জাতি হিসেবে বাঙালি জাতিকে বলা হয় শ্রেষ্ঠ জাতি। কারণ পৃথিবীর হাতে গোনা কয়েকটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একমাত্র দেশ যে দেশের মানুষ দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে দেশকে স্বাধীন করেছেন। স্বাধীনতার দীর্ঘ এত বছর পরেও আমরা কি স্বাধীন হতে পেরেছি? আমরা কি সভ্য জাতিতে পরিণত হয়েছি?
এই প্রশ্ন এখন সবার মনে। যে দেশে প্রকাশ্য দিবালোকে মানুষকে খুন করা হয়, যে দেশে প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয় আমাদের মা বোনদের কে। যে দেশে ছোট্ট শিশু ও রক্ষা পায় না ধর্ষণের মত হিংস্র জানোয়ারদের হাত থেকে। আমরা কি আফ্রিকার কোন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে বসবাস করছি, নাকি ইরাক সিরিয়ার মতো দেশে আমাদের বসবাস। যে দেশে জাতিতে জাতিতে যুদ্ধ-বিগ্রহ।
না আমরা তো সেই রকম কোন দেশে বসবাস করছি না আমরা বসবাস করছি একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশে। আমরা আমাদের দেশকে নিয়ে গর্ব করি, গর্ব করি আমরা একটি অনুন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নতি করার জন্য, আমরা প্রতিটি সেক্টরে দেশকে উন্নত দিকে নিয়ে যাচ্ছি। ব্যবসা-বাণিজ্যে খেলাধুলায় সর্বক্ষেত্রে আমরা এগিয়ে। বিশ্বের মানুষ আমাদেরকে একটি রোল মডেল হিসেবে গণ্য করে।
আমাদের কথা আজ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে গেছে, আমরা একটি উন্নত স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালি দেশ হওয়ার স্বপ্ন দেখছি। যে দেশে থাকবে আইনের শাসন, যে দেশে থাকবে হিংসা বিদ্বেষ হীন একটি সমাজ, যে দেশে থাকবে না মানুষে মানুষে ভেদাভেদ,
অথচ এই আমাদের মাতৃভূমিতে কি হচ্ছে এটা? বিগত কয়েক মাস থেকে আমরা একের পর এক লোমহর্ষক খবর দেখছি শুনছি। ফেনীর নুসরাত জাহান রাফিকে দিনের বেলায় গায়ে কেরোসিন ঢেলে হত্যার ঘা শুকাতে আবারো আরেকটি লোমহর্ষক ঘটনার খবর আমরা দেখতে পেলাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং দেশের সব কয়টি মিডিয়াতে।
বরিশালের বরগুনায় রিফাত শরীফ নামে একজন যুবককে প্রকাশ্যে দিবালোকে রামদা দিয়ে যেভাবে হত্যা করা হয় তা কোনো সভ্য সমাজে হতে পারে না। যার গায়ে হলুদের মেহেদি এখনো মুছে যায় নাই তাকে জীবন দিতে হলো নির্মমভাবে। আমাদের মধ্যে মনুষত্ব লোপ পেয়েছে মানুষ মারা এখন আমাদের দৈনন্দিন কাজে পরিণত হয়েছে। আমরা মানুষ হত্যাকে এখন কোন অন্যায় মনে করি না,
কিন্তু এর কারণ কি কারণ একটাই আইনের শাসন আমাদের দেশে প্রয়োগ হয় না বলেই আজ এই অবস্থা সমাজের। যদি আইনের শাসন সেই ভাবে প্রয়োগ হত একটি হত্যাকাণ্ড ঘটার সম্ভাবনা ছিল না। কারণ হত্যাকারীরা এখন মনে করে ফোন করলে এখন কোন আর সমস্যা নাই জেলে যেতে হবে তাতেও তাদের কোন ভ্রুক্ষেপ নাই কারণ সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ৩০ দিনের ভিতরে জামিনে বেরিয়ে আসা সম্ভব।
আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকায় খুনিরা এভাবে প্রকাশ্যে দিবালোকে একের পর এক খুন করে যাচ্ছে আর আমরা নীরব দর্শক হয়ে দেখে যাচ্ছি। এভাবে আর কতদিন চলবে আমরা কি শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখি যাব আমাদের কি কিছুই করার নেই। আমরা শুধু একটা জিনিসই পারিস আমাদের যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ করতে আমরা শুধু পারি এই ধরনের ভিডিও গুলোকে ভাইরাল করতে আমরা পারি একদিকে ঘটনা ঘটছে অন্যদিকে সেলফি তুলতে আমরা পারি ঘটনার লাইভ দেখাতে।
আমরা প্রতিবাদ করতে পারি না আমরা মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়িয়ে থাকতে পারিনা। আমরা পারি চোরের মত দেখতে আমরা পারি লুকিয়ে লুকিয়ে সেই ঘটনা অবলোকন করতে। বাংলার দামাল ছেলেদের কে বলছি আর নয় নিরবে নিবৃত্তে কান্না আর নয় নীরব দর্শক হয়ে দেখা এবার হবে প্রতিবাদ যেখানেই অন্যায় সেখানেই প্রতিবাদ সেখানেই প্রতিরোধ।
প্রত্যেকটি মানুষ যদি যে যার জায়গা থেকে প্রতিবাদ প্রতিরোধ করতে শুরু করে তাহলে অচিরেই সমাজ থেকে দেশ থেকে এদেরকে তাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। এরা দেশের জন্য আগাছা এরা কুলাঙ্গার এরা দেশের শত্রু এরা সমাজের শত্রু এদের জন্য দেশের কোটি কোটি মানুষ জিম্মি হয়ে থাকবে তা আর হতে দেয়া যায় না প্রতিবাদের ভাষা হোক প্রতিরোধের ভাষা হোক একটাই।

No comments:

Post a Comment

Home