যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত প্রযুক্তির গোয়েন্দা বিমান ভূপাতিত করলেন ইরান - খবরের অন্তরালে

জাতীয়

সর্বশেষ সংবাদ

Friday, 21 June 2019

যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত প্রযুক্তির গোয়েন্দা বিমান ভূপাতিত করলেন ইরান

আমেরিকার চালকবিহীন বিমান আর কিউ ফোর এ গ্লোবাল হক ভূপাতিত হওয়ার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বড় মাপের ক্ষতি হয়ে গেছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী মার্কিন চালকবিহীন বিমান ভূপাতিত করায় এই মন্তব্য করেছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।
গত দেড় যুগ ধরে আকাশ থেকে গোয়েন্দা তৎপরতা চালালেও এ প্রথমবার এই বিমানটিকে ভূপাতিত করা হলো। মার্কিন গণমাধ্যম দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমসে এ প্রসঙ্গে লিখেছে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে আর কিউ ফোর এ ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা হকচকিত হয়েছেন পেন্টাগনের কর্মকর্তারা। গোয়েন্দা তৎপরতায় নিয়োজিত এই চালকবিহীন বিমান কে এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র কে ফাঁকি দেওয়ার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছিল।
একজন মার্কিন সামরিক ড্রোন বিশেষজ্ঞ ইরানের হাতে তার দেশের অত্যাধুনিক গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে বেদনাদায়ক আখ্যায়িত করে বলেন আমরা ভাবতাম গ্লোবাল হক গোয়েন্দা বিমান কে সনাক্ত করে কেউ তা গুলি করে ভূপাতিত করতে পারবে না, কিন্তু আমাদের সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হলো। মিসেস উলরিক ফ্রান্ক বৃহস্পতিবার এ কথা জানান।
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ও ব্যয়বহুল গোয়েন্দা ড্রোন কে গুলি করে ভূপাতিত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্মান ধূলায় মিশে গেছে। পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক ইউরোপীয় পরিষদের ড্রোন বিশেষজ্ঞ উলরিকা ফ্রাংক বলেছেন, এটি একবার ব্যবহার উপযোগী কম দামের চালকহীন বিমান নয় যে এর ভূপাতিত হওয়ার ক্ষতি সহজে ভুলতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র।
তিনি এই চালকবিহীন বিমান কে উড়ন্ত ডাটা সংগ্রহ কারী হিসেবে অভিহিত করেন। বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার ক্ষতি কেন যুক্তরাষ্ট্র ভুলতে পারবে না সে কারন ও ব্যাখ্যা করেন তিনি, কেবল দামি বলেই এটি হারানোর ক্ষতি ভুলতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্র তা নয় বরং এটি অনেক উঁচু দিয়ে উড়া উড়ি করে। তাই এই ধরনের গোয়েন্দা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বাইরে থেকে যায় আর কিউ ফোর এ।
কিন্তু ইরানি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শূন্য দৃষ্টিতে শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে এদিকে ইঙ্গিত করেই এই কারণ তুলে ধরেন তিনি। এরই মধ্যে এ গোয়েন্দা বিমান ইরাক আফগানিস্তান উত্তর আফ্রিকা এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আকাশে আড়াই লাখ ঘণ্টার বেশি উড়েছে। আরকিউ -৪এর নির্মাতা সংস্থা নর্থথ্রোপ গুরুমম্যানের বরাত দিয়ে এ তথ্য দিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।
প্রতিটি আরকিউ-৪এর দাম প্রায় ১২ কোটি ৩০ লাখ ডলার। অর্থাৎ লকহিড মার্টিনের তৈরি করা অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-৩৫এ লাইটেনিং ২এর চেয়েও এর দাম পড়ছে ৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার বেশি।
৪৭ ফুট লম্ব জেট-পরিচালিত আরকি-৪এর ডানার দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩০ ফুট। বোয়িং বিমানের চেয়ে বড় ডানাওয়ালা এ ড্রোন ৬৫ হাজার ফুট ওপর দিয়ে টানা ৩০ ঘণ্টার বেশি উড়তে পারে। গোয়েন্দা তথ্য হাতিয়ে নেয়ার জন্য এতে বসানো থাকে অত্যাধুনিক এবং স্পর্শকাতর নানা যন্ত্র।
সূত্র : পার্স টুডে

No comments:

Post a Comment

Home