রামগঞ্জের প্রাইভেট হাসপাতাল ও ফার্মেসি যেন মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ! - খবরের অন্তরালে

জাতীয়

সর্বশেষ সংবাদ

Wednesday, 26 June 2019

রামগঞ্জের প্রাইভেট হাসপাতাল ও ফার্মেসি যেন মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ!

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ শহরের বেসরকারি প্রাইভেট হসপিটাল ক্লিনিক এবং ফার্মেসী গুলো যেন রোগীদের নিয়ে এক রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। হাস্পাতালে রোগি আসলেই মনে হয় যেন সোনার চাঁদ হাতে পেয়েছে তারা ‌ ভর্তিবাণিজ্য টেস্ট বাণিজ্য সহ যত ধরনের ব্যবসা করা যায় তারা সেরকমই করছে। এদের লাগাম টেনে দেওয়ার মত যেন কেউ নেই। এদিকে ফার্মেসীগুলি ও কম যান না সুযোগ বুঝে ১৫ টাকার ওষুধ পনেরশো টাকা যে ওষুধগুলো সব জায়গায় পাওয়া যায় না সেগুলি তো ধরা ছোঁয়ার বাইরে দাম নিয়ে নেয় তারা। কারণ রোগীরা হচ্ছে তাদের কাছে জিম্মি।
প্রতিনিয়ত এরকমভাবে রোগীদের থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা এসকল ফার্মেসি এবং ক্লিনিকগুলো। আজ বুধবার আমার এক কাজিন গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় তাকে শহরের মেডিকা স্পেশালাইজড হসপিটালে ভর্তি করা হয়। তার চার থেকে পাঁচ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন। তাকে রক্ত দেওয়ার জন্য আমি একজন ব্লাড ডোনার কে নিয়ে গিয়েছিলাম রক্ত দিতে। হাসপাতাল থেকে বলা হলো ক্রস ম্যাচিং সহ কিছু পরীক্ষা করতে হবে আগে, আর সেই জন্য তারা ১১০০ টাকার রিসিট হাতে ধরিয়ে দিল।

আমার ভাতিজা তার স্ত্রীকে একই হাসপাতালে ভর্তি করলেন। তার স্ত্রীর পেটে ডেলিভারি হওয়ার আগেই বাচ্চা মারা যায়। খতমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলল তাকে সিজার করতে হবে। রোগীর আত্মীয়-স্বজনদের চাপে নরমাল ডেলিভারি করতে বাধ্য হলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

রোগীকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেওয়ার সময় একদিন ভর্তি থাকা সহ ঔষধ ছাড়া শুধু হাসপাতালের বিল করা হল দশ হাজার টাকা। যেখানে সিজার করা হলে ১০০০০ টাকার মধ্যে  সম্ভব সেখানে নরমাল ডেলিভারিতে এ পরিমাণ টাকা বিল করল। রিসিভসনে থাকা লোকটিকে জিজ্ঞাসা করা হলো কেন এত টাকা বিল হল সে উত্তর করলো কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার জন্য তার নাকি কিছু করার নাই। আর ওষুধ বিল বাবদ হাসপাতালে ফার্মেসি বিল করল ১৮০০ টাকা সব মিলিয়ে নরমাল ডেলিভারি খরচ হল ১১ হাজার আটশত টাকা।
হাসপাতালের বাইরে থাকা আরেকটি ফার্মেসি থেকে দুইটি ব্লাড ব্যাগ ক্রয় করতে গিয়ে আমি অবাক হয়ে গেলাম ব্লাড ব্যাগ এর গায়ে এমআরপি লেখা আছে ৭০ টাকা ফার্মেসির মালিক আমাকে বলল ৯০ টাকা করে দেওয়ার জন্য, আমি বললাম এখানে তো ৭০ টাকা এমআরপি আছে আপনি বেশি নিবেন কেন? সে উত্তর করলো আমাদের থেকে বেশি নিয়েছে তাই আমরা বেশি নিচ্ছি, আমি বললাম প্যাকেটের গায়ে যে দাম আছে তার থেকে বেশি নেওয়ার কোন সুযোগ, নাই উত্তরে ফার্মেসির মালিক আমাকে কোন সদুত্তর দিতে পারেন নাই। আমি তাকে বললাম আপনি প্যাকেটের গায়ে যে দাম লেখা আছে তার থেকে বেশি নিচ্ছেন তাই আমি ভোক্তা অধিকারে ফোন করে অভিযোগ করব একথা শুনে সে ভড়কে গেল এবং হাসতে লাগল আর বলতে লাগলেন করেন সমস্যা নাই।

এইভাবে যদি চলতে থাকে গরীব এবং মধ্যবিত্ত যারা সামান্য টাকা ইনকাম করে দিন যাপন করে তারা তো কোনভাবেই এ সকল হাসপাতাল এ চিকিৎসা করতে পারবেন না। সরকারি হাসপাতালে গেলেও ঠিকমতো ডাক্তার ওষুধ পাওয়া যায় না তাই সাধারণ মানুষের সরকারি হাসপাতালে যেতে চান না। এই সুযোগে এসকল বেসরকারি ক্লিনিক ফার্মেসী গুলো গরীব অসহায় এবং মধ্যবিত্ত মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এবং এদের কাছে সবাই অসহায় বোধ করছে।

কিন্তু যদি সরকার এ দিকে নজর দেয় তাহলে কোনভাবেই এ সকল হাসপাতাল ফার্মেসী গুলো এভাবে গলাকাটা ব্যবসা করতে পারবেন না বলে সাধারণ মানুষের অভিমত।

No comments:

Post a Comment

Home