বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত অমিত শাহ এখন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী! - খবরের অন্তরালে

জাতীয়

সর্বশেষ সংবাদ

Saturday, 1 June 2019

বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত অমিত শাহ এখন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী!

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেওয়ার একদিন পরেই সে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি বিজেপি প্রধান অমিত শাহ কে। বৃহস্পতিবার তাকে এ দায়িত্ব দেওয়ার পর ভারতে রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে খবর আরব নিউজের।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত হচ্ছেন এই অমিত শাহ পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী থাকাকালে তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু কেবল বিচারবহির্ভূত হত্যার জন্যই তার এই নিয়োগ বিতর্কিত না।
2010 সালে এক মুসলিম দম্পতিকে ভুয়া বন্দুকযুদ্ধে হত্যার প্রধান আসামি এই অমিত শাহ। সন্ত্রাসবাদে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সোহরাব উদ্দিন শেখ ও তার স্ত্রী ইসরাত জাহান কে বিনা বিচারে হত্যা করা হয়েছিল।
ওই বছর গুজরাট থেকে অমিত শাহ কে তাড়িয়ে দেয় দেশটির সুপ্রিমকোর্ট। এই মামলায় সাক্ষী ও সাক্ষ্যপ্রমাণ সুরক্ষায় এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল আদালতকে। কিন্তু প্রমাণের অভাবে 2014 সালে এই মামলা খারিজ করে দেওয়া হয়।
লোকসভা নির্বাচনের সপ্তাহগুলোতে ফের খবরের শিরোনাম হয় অমিত শাহ। ভারতীয় জাতীয় নাগরিক তালিকা নাগরিকত্ব সংশোধন নিয়ে বিবৃতির জন্য আলোচনায় আসেন তিনি। ভারতের সত্যিকারের নাগরিকদের পরিচয় বের করতে আসামে এই বিতর্কিত নাগরিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গেও এটা বাস্তবায়নের কথা উঠে।
আসামের অধিকাংশ মুসলমানদের ধারণা তাদের নাগরিক অধিকার কেড়ে নিতে এবং অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীর আখ্যায়িত করতে এন আর সি প্রস্তুত করা হয়েছে।
এই নাগরিকত্ব সংশোধনী তে নিজের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন অমিত শাহ কারণ এতে প্রতিবেশী দেশগুলোর হিন্দু-বৌদ্ধ পারছি সংখ্যালঘুদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলেন সরকার যদিও 950 সালের নাগরিকত্ব আইন সংশোধনী সফল হয় তবে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে একটি হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত হবে এতে করে দেশটির মুসলমানদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এছাড়াও সংবিধানের 370 ধারা বাতিলের দাবিতে সরব ভূমিকা রাখছেন অমিত শাহ সংবিধানের ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের সাহিত্য শাসনে কথা বলা হয়েছে।
শুক্রবার হিন্দুত্ববাদী বিজেপির সভাপতি কে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া এই সিদ্ধান্তের ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
গুজরাটের সংবাদ সংগ্রহ করেন সাংবাদিক রানা আইয়ুব তিনি বলেন মিত্রা হচ্ছে প্রথম কোন গুজরাটের মন্ত্রী যাকে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে রাজ্য থেকে নির্বাসনে পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। এবার তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
লেখক মিতালী স্মরণ এক টুইটে বলেন অমিত শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটা ভালো সময় আমরা বেঁচে আছি। এছাড়া বিজিপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য প্রতাপচন্দ্র সারেঙ্গী কে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত ব্যাপক সমালোচিত হয়েছে।
তিনি যখন কট্টরপন্থী হিন্দু সংগঠন বজরং দলের উড়িষ্যার নেতা ছিলেন তখন গ্রাহাম নামের এক অস্ট্রেলীয় খ্রীষ্টান ধর্ম প্রচারক কে তার দুই নাবালক শিশুসহ জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বজরং দল জড়িত বলে অধিকাংশ মানুষের মুখ যদিও সরকারি তদন্তে কোন দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অপূর্ব আনন্দ বলেন অমিত সাহা এবং সারেঙ্গী কে মন্ত্রী হিসেবে অভিষিক্ত করায় আমি মোটেও আশ্চর্য হইনি। কারণ হিসেবে তিনি বলেন জনগণের ম্যান্ডেট যে বার্তা দিচ্ছে তার অর্থ হচ্ছে আপনাকে এসব লোককে গ্রহণ করতে হবে আপনাকে সন্ত্রাসবাদের অভিযুক্ত প্রজ্ঞা ঠাকুরকে নেতা হিসেবে মানতে হবে মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী কে যিনি দেশ প্রেমিক বলে আখ্যায়িত করেন। তাকেও আপনার নেতা বলে স্বীকার করতে হবে এতে আমাদের আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।
তিনি আরো বলেন অতীতে সংখ্যালঘুদের নিয়ে ঘৃণ্য রেকর্ড আছে যাদের তারাই যখন বহু পথ গুলো দখল নিয়ে গেছে তখন প্রধানমন্ত্রী সবাই মিলে সবার জন্য উন্নয়ন এবং সবার আস্থা অর্জন বলে যে বিবৃতি দিয়েছে তা কোন অর্থ বহন করে না।
ব্যাপক সহিংসতা থেকে বেঁচে যাওয়াদের নিয়ে কাজ করা সমাজকর্মী হারশা মানদার বলেন, সংখ্যালঘুদের অধিকার সুরক্ষা এবং ভিন্নমত প্রকাশের ক্ষেত্রে এটা হতাশাজনক সঙ্কেত। আজ আমি একেবারে আশাবাদী নই।
সরকারের এনআরসি পরিকল্পনা ও নাগরিকত্ব সংশোধনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা হবে সাংবিধানিক কাঠামোকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়া। যা সম্পূর্ণভাবে হতাশাজনক।

No comments:

Post a Comment

Home