নোমান আলী খানের বিস্ময়কর জীবনের গল্প! - খবরের অন্তরালে

জাতীয়

সর্বশেষ সংবাদ

Monday, 17 June 2019

নোমান আলী খানের বিস্ময়কর জীবনের গল্প!

মানুষকে কেবল কোরআন শিক্ষা দিয়ে যিনি বিশ্বকে পরিবর্তন করে দিতে চান তিনি ওস্তাদ নোমান আলী খান। কোরআনের চমৎকার শৈল্পিক সৌন্দর্য উপস্থাপনের জন্য বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বের মুসলিম তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব তিনি। সারা বিশ্বের মুসলিম তরুণরা আজ তাকে নিজেদের মডেল হিসেবে কল্পনা করে। তার মতো হতে চান।
কুরআনের শব্দ চয়ন কতটা সৃজনশীল ভাষা কতটা মনমুগ্ধকর অর্থ কতটা যৌক্তিক এগুলি নোমান আলী খানের চিন্তা-ভাবনা ও আলোচনার বিষয়। তার বক্তব্যে কোরআন এর অন্তর্গত সৌন্দর্য মানুষের চোখের সামনে জ্বলজ্বল করে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সভা-সেমিনার অনলাইনে তার বক্তব্য শুনে অসংখ্য মানুষ ইসলামের দিকে ফিরে আসে এবং ইসলাম গ্রহণ করছে।
ওস্তাদ নোমান আলী খান প্রায় ২০টিরও অধিক তাফসীর গ্রন্থ পাঠ করেছেন। কুরআন নাযিলের ইতিহাস শব্দের কারণ ভাষার অলংকার অর্থের গভীরতা যুক্তির খরতা এবং ব্যাকরণগত শুদ্ধতার বিষয়গুলো তার আলোচনা ফুটে উঠে তাই অনেক ইসলামী স্কলার ওস্তাদ নোমান আলী খান কে আল কুরআনের ভাষা বিজ্ঞানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এছাড়াও বিশ্বের প্রভাবশালী 500 প্রভাবশালী স্ক্যানার এর মধ্যে নোমান আলী খান অন্যতম।
নোমান আলী খান এর জন্মঃ
এই মানুষটি জন্মগ্রহণ করেন জার্মানির রাজধানী বার্লিন শহরে তার মাতৃভাষা জার্মানি কিন্তু সেখানে ছয় মাস থাকেননি তার বাবা পাকিস্তান দূতাবাসে কাজ করতেন বলে পরিবারসহ ৬ মাস বয়সের তাকে পাকিস্তানে চলে আসতে হয়। কিন্তু পাকিস্তান নোমান আলী খান দুই মাসের বেশি থাকেননি সেখান থেকে চলে যান সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে।
শিক্ষা জীবনঃ
নোমান আলী খান প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন সৌদি আরবের রিয়াদ এর একটি পাকিস্তানি উর্দু মিডিয়াম স্কুলে। ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত 6 বছর তার পরিবার রিয়াদে অবস্থান করেন এরপর তারা চলে যান যুক্তরাষ্ট্রে সেখানে তিনি খ্রীষ্টানদের পরিচালিত একটি হাই স্কুলে ভর্তি হন ফলে সব কিছুই তার কাছে ভিন্ন ভিন্ন মনে হতে লাগলো। ভিন্ন ভাষা ভিন্ন পরিবেশ বন্ধুরা সব ভিন্ন ধর্ম ও ভিন্ন সংস্কৃতি লালন করে এবং চলাফেরা ভিন্নভাবে করে। এতে করে তার কাছে তখন অসহায় মনে হয়েছিল। প্রায় দুই বছর তিনি কোন মুসলিমের দেখা পাননি। শুক্রবারে ক্লাস থাকার কারণে তিনি দুই বছর কোন জুমার নামাজ আদায় করতে পারেননি।
অথচ তখন তিনি হাই স্কুলের ছাত্র তার বন্ধুদের আচার আচরণের মধ্যে নৈতিকতা ও ধর্মের কোন ছোঁয়া ছিলনা। যার কারণে তিনি ধীরে ধীরে তাদের আচার আচরণে অভ্যস্ত হয়ে যান এমনকি বাধা দেওয়ার কোন লোক ছিল না তাকে। তার পরিবারের মধ্যে থেকেও কোনো বাঁধাবিঘ্ন আসেনি। একসময় তার মাঝে প্রবল অপরাধ বোধ জেগে ওঠে কিন্তু কিছুই করার ছিল না। তার মাঝে এমন পরিবর্তন হয় হয় তাকেই স্কুল ত্যাগ করতে হবে না হয় ধর্ম ত্যাগ দুর্ভাগ্য অন্য কোথাও ভালই স্কুল নেই বলে পরিবার তাকে স্কুল ত্যাগ করতে দিল না। স্কুল শেষ করে তিনি কলেজে ভর্তি হলেন আগের মতোই বন্ধুদের সাথে চলাফেরা সবকিছু এবার তিনি আস্ত নাস্তিক হয়ে গেলেন প্রায় দুই বছর তিনি নাস্তিকতার চর্চা করেন ইসলাম থেকে তখন তিনি অনেক অনেক দূরে চলে গেলেন।
তারপর সময় হলো ফিরে আসার ওস্তাদ নোমান আলী খান ইসলামে ফিরে আসলেন আগের চেয়ে শতগুন গতিতে। হঠাৎ একদিন আমেরিকান মুসলিম স্টুডেন্ট এসোসিয়েশনের দুজন সদস্যের সাথে তার দেখা হয় তারা নিজেদের মধ্যে কোরআনের আলোচনা করেছিলেন তিনি তা শুনছিলেন যদিও এসব ধর্ম-কর্মের আলাপ তার কাছে তখন ভালো লাগতো না। ওই দুই জন স্টুডেন্ট তারা নিজেরাই নোমান আলী খান এর সাথে পরিচিত হলেন এবং ছায়ার মত তার সাথে চলাফেরা শুরু করলেন।
তার ওই দুইজন বন্ধু কখনো সরাসরি নোমান আলী খান কে কোরআন পড়তে অথবা নামাজ আদায় করতে বলেন নি এমনকি কখনো ইসলামের দাওয়াত দেন নি কিন্তু ঘন্টার পর ঘন্টা দিনের পর দিন তারা নোমান আলী খানের সাথে সময় কাটাতে লাগলেন। এতে করেই নোমান আলী খানের মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন শুরু হয়। একদিন তাদের একজন নোমান আলী খান এর সামনে নামাজ পড়লেন নোমান আলী খান এর কাছে খুব খারাপ লাগলো কারণ তিনি নামাজের অনেক কিছুই ভুলে গেছেন এমনকি মাগরিবের নামাজ কয় রাকাত তাও তিনি ভুলে গেছেন নিজের অজান্তেই তিনি মুসলিম স্টুডেন্ট এসোসিয়েশনের এই দুইজন ভাইকে বন্ধু ভাবতে লাগলেন এবং তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে ও লাগলে ধীরে ধীরে তার অন্তরে ইসলাম সম্পর্কে সচেতনতা বাড়তে থাকে তিনি কোরআনের অনুবাদ করা শুরু করলেন।
আল্লামা ইউসুফ আলীর ইংরেজি অনুবাদ পড়তে লাগলেন কিন্তু অনুবাদের মাধ্যমে কোরআন বোঝা খুবই কষ্টকর কোথায় বাক্যের শুরু আর কোথায় বাক্যের শেষ কিছুই তিনি বুঝতে পারছিলেন না। কেন আল্লাহ হঠাৎ করে এক ইস্যু থেকে অন্য ইস্যুতে চলে যান এসব কিছুই তিনি অনুবাদ পড়ে বুঝতে পারেননি তখন তিনি ভাল ভাবে কোরআন বোঝার জন্য গুগল সার্চ করতে লাগলেন ইন্টারনেটে ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রচুর লেকচার পেলেন তিনি কিন্তু কোরআনের ধারাবাহিক কোন আলোচনা তখনো তিনি পাননি।
কোরআনের ধারাবাহিক আলোচনা প্রথমে তিনি শুনেন তার ওই এলাকার একটি মসজিদে রমজান মাস উপলক্ষে সেই মসজিদে পাকিস্তান থেকে একজন আলেম আসেন তার নাম ছিল ইমাম ডক্টর আব্দুস সামি তিনি প্রতিদিন 1 পারা কোরআন অনুবাদ এবং সংক্ষিপ্ত তাফসীর করতেন। সকালে দুই ঘন্টা বিকালে 4 ঘন্টা এবং তারাবির পর রাত দশটা পর্যন্ত কোরআনের ধারাবাহিক আলোচনা হতো নোমান আলী খান ডক্টর আব্দুস সামির সকল আলোচনায় অংশ নিতেন। এভাবে তিনি সম্পূর্ণ কোরআনের তাফসীর শুনে শেষ করেন কোরআনের এই ধারাবাহিক আলোচনা শুনে তার কাছে মনে হয়েছে তিনি এবার প্রথম কোরআন শুনেছেন এতে কোরআনের প্রতি তার আগ্রহ জন্মে তিনি তার ওস্তাদ আব্দুস সামি কে বলেন আপনি যেভাবে তাফসীর করেছেন আমিও সেভাবে তাফসীর করতে চাই।
ডঃ আব্দুস সামি তাকে বলেন তাহলে আগে আরবে শিখতে হবে নোমান আলী খান তাকে বললেন আমি থাকি নিউইয়র্কে সারাদিন কাজ থাকে কলেজে যেতে হয় আমি কিভাবে সৌদি আরব আরবি শিখব? ডঃ আব্দুস সামি তাকে বলেন তুমি আগামী সপ্তাহ থেকে এ মসজিদে আমার আরবি ক্লাসে আসতে পারো। ঈদের পরের সপ্তাহে নোমান আলী খান ডক্টর আব্দুস স্বামীর নিকট আরবী ব্যকরণ পড়তে যান।
অসমাপ্ত।

No comments:

Post a Comment

Home