লক্ষ্মীপুরে দিঘি থেকে বালু উত্তোলন করায় হুমকির মুখে আশেপাশের ঘর বাড়ি ও সরকারি স্থাপনা - খবরের অন্তরালে

জাতীয়

সর্বশেষ সংবাদ

Wednesday, 29 May 2019

লক্ষ্মীপুরে দিঘি থেকে বালু উত্তোলন করায় হুমকির মুখে আশেপাশের ঘর বাড়ি ও সরকারি স্থাপনা

লক্ষীপুরের প্রশাসনের অবহেলায় বালু দস্যুর আর দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে প্রভাবশালীদের এবং প্রশাসনের নাকের ডগায় ড্রেজার মেশিন বসিয়ে জেলা পরিষদের বিবির গভীর থেকে প্রতিদিন অসংখ্য বালু উত্তোলন করছে এতে করে ওই এলাকায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্থ্য বিভাগ লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মসজিদ ও জেলা পরিষদের নির্বাহী বাসভবনসহ দুই গ্রামের ঘরবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে।
ভুক্তভোগীরা বালু উত্তোলন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও ফল পাচ্ছে না তারা এ ব্যাপারে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সবার প্রচুর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সূত্রে জানা যায় লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহানের পুত্র তার বাবার প্রভাব খাটিয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের পুকুর এর অবৈধ বালু উত্তোলন করে প্রায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সদর হাসপাতাল মসজিদ পরিবার পরিকল্পনা ও মাতৃ কল্যাণ জেলা পরিষদের নির্বাহী বাসভবনের উত্তর দক্ষিণ পাশে দিঘির মাঝে একটি বড় ড্রেজার মেশিন দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে প্রতিদিন তারা বালু উত্তোলন করে জেলা পরিষদের পুকুর ভরাট করছে। এতে করে ইমতিয়াজ লাভবান হলেও এলাকার দোকানপাট মসজিদ মা ও শিশু কল্যাণ সদর হাসপাতাল ও সদর হাসপাতালের কোয়ার্টারে বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে এতে আশেপাশের ভাঙ্গনের আশঙ্কা রয়েছে জেলা পরিষদ এর আশেপাশের স্থানীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ছেলে প্রভাবশালী হাউ আর ইউ তাদেরকে বাধা দেওয়ার সাহস করে না এটা ড্রেজার মেশিন বসিয়ে জেলা পরিষদের বিবির গভীর থেকে বালু উত্তোলন করেছে এতে গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় আশে পাশের ঘর বাড়ির গ্রাম সহ সরকারি স্থাপনা ভাঙ্গনের ঘটনা ঘটতে পারে যে কোন মুহূর্তে ।
ভুক্তভোগীরা জানান, ড্রেজিং পদ্ধতিতে বালু উত্তোলন করা হলে ভরা বর্ষায় তাদের বসত বাড়ি ঘর দালান কোটা ও মসজিদ দিঘির গর্ভে বিলীন হবে।
নিভারযোগ্য সূত্র জানায়, ২০১০ সালে বালু উত্তোলন নীতিমালায় যন্ত্রচালিত মেশিন দ্বারা ড্রেজিং পদ্ধতিতে যেকোনো নদ, নদী, খাল, বিল, পুকুর, কোনো ফসলি জমিনের তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও সেতু, কালভার্ট, রেললাইন, স্কুল কলেজ, বসত বিটা, হাসপাতলসহ বিভিন্ন মূল্যবান স্থাপনার এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন করা বেআইনি। অথচ বালু দস্যুরা সরকারি ওই আইন অমান্য করে জেলা পরিষদের দিঘি নির্বাহীর বাসভবন পাশের দিঘি থেকে বালু উত্তোলন করে জেলা পরিষদের পুকুর ভরাট করে যাচ্ছে। কয়েক গজ দূরে থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে।
জেলা পরিষদের নিবার্হী কর্মকতা মীর শওকত হোসেনের কাছে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানায়, অল্প কিছুদিন হলো আমি যোগদান করেছি এবিষয়ে আমার জানা নেই। অথচ তার বাসভবনের সামনে দিঘি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহাউৎসব চলছে।
এ বিষয়ে জানতে লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলে তিনি কল রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ দিকে জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

No comments:

Post a Comment

Home