প্রথমবারের মতো বৃটেনের মুসলিম প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন সাজিদ জাভিদ! - খবরের অন্তরালে

জাতীয়

সর্বশেষ সংবাদ

Friday, 24 May 2019

প্রথমবারের মতো বৃটেনের মুসলিম প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন সাজিদ জাভিদ!

বৃটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ ইস্যুকে কেন্দ্র করে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে শুক্রবার সকালে কনজারভেটিভ পার্টির 122 কমিটির চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর 10 নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে এক সংক্ষিপ্ত ভাষণে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।
ঘোষণা অনুযায়ী আগামী সাত ই জুন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়বেন থেরেসা মে এদিকে থেরেসা মে পদত্যাগের ঘোষণার পর পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হচ্ছেন তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা কল্পনা।
ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৭ জুন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়বেন থেরেসা মে।
বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বেশ কয়েকটি নাম এর মধ্যে প্রথমবারের মতো ব্রিটিশ মুসলিম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে দেশটির বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাবেদের।
এছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আরো রয়েছেন- জেরেমি হান্ট, ডোমেনিকান রব, মাইকেল গভ ও আন্দ্রে লিডসাম।
সাজীব জাবেদ প্রথম ব্রিটিশ মুসলিম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে দেশটির বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে পদত্যাগের পর তিনি নতুন করে আলোচনায় এসেছেন।
সাজিদ জাভিদ যদি থেরেসা মে এর স্থলাভিষিক্ত হয় তবে তিনি হবেন দেশটির প্রথম কোন মুসলমান প্রধানমন্ত্রী। বৃটেনের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান এবং ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির মতো আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীর তালিকা সাজিদ জাবেদের নাম এসেছে।
2018 সালের এপ্রিলে বৃটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান সাবেক এই বিনিয়োগ ব্যাংকার ক্যারিবীয় অভিবাসী শিশুদের উপর একটি কেলেঙ্কারি ভালোভাবে সামাল দিয়ে 49 বছর বয়সী এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সবার প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
ফরাসি গণমাধ্যম এএফপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় পাকিস্তানি অভিবাসী বাসচালকের সন্তান সাজিদ জাভিদ একটি আধুনিক সংস্কৃতি ও মেধাভিত্তিক বৃটেনের প্রতিচ্ছবি। অর্থনৈতিকভাবে উদারপন্থী সাজিদ জাভিদ 2016 সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।
তবে সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসে যোগ দিতে যাওয়া এক কিশোরীর নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে তিনি উদারপন্থীদের সমালোচনার শিকার হয়েছেন। 2016 সালের গণভোট ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার পক্ষে নিজের সমর্থন জানিয়েছিলেন
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট কিন্তু ব্রাসেলসের নেওয়া পদক্ষেপগুলোকে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।
সাবেক এই ব্যবসায়ী অনবরত জাপানি ভাষায় কথা বলতে পারেন তিনি স্থিতিশীল রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। গত বছরে জনসনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন জেরেমি হান্ট কথা ও আচরণে পরিমিত বোধসম্পন্ন শান্ত মেজাজের হান্ট ব্রিটিশ মন্ত্রী পরিষদে আস্তে আস্তে নিজের প্রভাব আরো মজবুত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে পদত্যাগের পর নেতৃত্তের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জেরেমি হান্ট।
ডমিনিক রব
কুংফু কারাতে প্রতিযোগিতায় ব্ল্যাক বেল্ট পাওয়া ডমিনিক রাব ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রভাবের বিরোধী। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামরনের অধীন ২০১৫ সালে সরকারে যোগ দেয়ার পর নিজের মন্ত্রিত্বের সিড়ি দ্রুতই অতিক্রম করেছেন ডমিনিক।
তিনি ব্রেক্সিট এর সমর্থক এবং 2016 সালে গণভোটের পর নতুন মন্ত্রিসভায় বিচার মন্ত্রী হন। পরবর্তীতে 2018 সালের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ব্রেক্সিট সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে তিনি পদত্যাগ করেন।
সরকারের বাইরে থাকলেও নিজের প্রচারমুখী অবস্থান এখনও বজায় রেখেছেন কর্মীদের ভাড়া করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একের পর এক সাক্ষাৎকার দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
মাইকেল গভ
ব্রেক্সিট পচার অফ মাইকেল 2016 সালের নেতৃত্বে লড়াইয়ে প্রাথমিকভাবে জনসনকে সমর্থন জানিয়েছিলেন কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা জানিয়েছেন তিনি এতে করে দুইজনের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মেয়ের কাছে হেরে যান। এই প্রতিযোগিতায় তৃতীয় হওয়ার পর তিনি বলেন কারিশমা বলতে যা বোঝায় তা আমার মধ্যে নেই।
2017 সালের জুনে তিনি পরিবেশ মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান পরিবেশ বান্ধব কর্মসূচি ঘোষণার কারণে বিভিন্ন সময় তিনি পত্রিকার শিরোনাম হয়েছেন। থেরেসা মে পতনের পর ইউরোপের বিরোধী 51 বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ তার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কথা ভাবছেন।

No comments:

Post a Comment

Home