পাঁচ সন্তান জন্ম দিয়েও জননী থাকেন গোয়াল ঘরে! - খবরের অন্তরালে

জাতীয়

সর্বশেষ সংবাদ

Monday, 6 May 2019

পাঁচ সন্তান জন্ম দিয়েও জননী থাকেন গোয়াল ঘরে!

৯০ বছর বয়সে অন্ধ এক বৃদ্ধা মায়ের আশ্রয় হয়েছে গোয়াল ঘরে। বিগত তিন বছর ধরে মশার কামড় খেয়ে বসবাস করছেন গোয়াল ঘরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে।

শুধু তাই নয় নিয়মিত তার ভাগ্যে জুটেনা খাবার এইভাবে বিনা চিকিৎসায় গোয়াল ঘরে জীবনের বাকিটা সময় পার করছেন এই বৃদ্ধ মা।
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বাঘড়ি গ্রামের এক গোয়ালঘরে এমন দুরবস্থায় পাওয়া গেল সরবানু নামে এক বৃদ্ধা মাকে।
স্বামীর ভিটার উত্তর পাশে রয়েছে একটি পরিত্যক্ত গোয়াল ঘরটি চারপাশ প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে ঘেরা আশেপাশে ময়লা আবর্জনার স্তুপ সেখানে একটি ভাঙ্গা চৌকিতে শুয়ে আছেন সরবানু।
এরকম একজন বৃদ্ধা মায়ের এমন করুণ দশা দেখলে যে কারো মন ঢুক্রে কেঁদে উঠবে। প্রতিবেশী আকলিমা আক্তার সেলিমা বলেন এ ঘরটি বসবাসের জন্য একেবারেই অযোগ্য কি গরম কি শীত মশার সঙ্গে এই ভাবে দিন যাপন করেছেন সরবানু।

ওই প্রতিবেশী আরো জানান তোকে আর দেখতে পান না সরবানু ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারে না কেউ খাবার এনে দিলে খান না দিয়ে গেলে অভুক্ত পরে থাকেন।
পাঁচ সন্তানের জননী এই মায়ের ঠাঁই হলো কেন গোয়াল ঘরে এই প্রশ্নের জবাবে আকলিমা বলেন সরবানু সন্তানরা সচ্ছল নয় নিজেদের পরিবার চালাতে হিমশিম খান তারা। বিগত 10 বছর আগে একদিন মাটিতে পড়ে পায়ে ব্যাথা পেয়ে যান সরবানু। টাকার জন্য তার সন্তানেরা তার উন্নত চিকিৎসা করাতে পারেননি। আস্তে আস্তে অচল হয়ে পড়েন সরবানু। একদিন পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যান তিনি। সেই কারণে বিছানাতেই তাকে প্রাকৃতিক কর্ম সারতে হয়। সেই কারণেই সর্বানি ছেলেরা তাদের মাকে পরিত্যক্ত গোয়াল ঘরে রেখে আসে সেই থেকে এই ভাবে দিনযাপন করছেন সরবানু।
ছবিঃ দৈনিক যুগান্তর

এই কথাগুলো বলতে বলতে কান্না চলে আসে আকলিমা বেগমের ক্ষোভ এবং দুঃখের সুরে বলেন টাকাপয়সা না দিয়ে হোক মায়ের সেবা তো করতে পারেন তারা। সেবা যত্ন না করে উল্টো মাকে গোয়াল ঘরে রেখে এসেছেন তার সন্তানেরা।
জানা গেছে, উপজেলার বাঘড়ি এলাকার মৃত তাহের মল্লিকের স্ত্রী সরবানু। তার তিন ছেলে ও দুই মেয়ে। মেয়েরা পরের ঘরে চলে গেছেন। বড় ছেলে কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। বাকি দুই ছেলে দিনমজুর।
আকলিমা জানান, দুপুর হয়ে গেল কিন্তু এখন পর্যন্ত সরবানুর ভাগ্যে জুটেছে মুড়ি আর গুড়।
সরবানু এই অবস্থা প্রসঙ্গে তার দুই পুত্র বধু বলেন আমরা নিজেরাই অনেক গরীব ও অসহায় প্রতিদিনের খাবার জোগাতে আমাদের সারাদিন পরিশ্রম করতে হয়। মাকে দেখার সময় পাই না আমরা না পারি তার চিকিৎসা করাতে না পারি তাকে ভালভাবে খাওয়াতে।
নিজের এলাকায় এমন অশীতিপরের করুণ জীবনযাপন বিষয়ে আগে ওয়াকিফহাল ছিলেন না রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহাগ হাওলাদার।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন এই বৃদ্ধার বিষয়ে আমি জানতে পেরে দেখতে গিয়েছিলাম তাকে সন্তানদের অবহেলা অবজ্ঞা এর জন্যই আজ তার এই দুরবস্থা। পিঁপড়া আর মশার কামড়ে জর্জরিত হয়ে গোয়াল ঘরে দিন কাটাচ্ছেন সন্তানরা তাকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে আজ এমন অচল হতেন না  তিনি।
ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হককে এরই মধ্যে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সরকারি সফরে এখন তিনি অস্ট্রেলিয়ায়। সরবানুকে দ্রুত শিশুসদনে নিয়ে যাওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

No comments:

Post a Comment

Home