এতেকাফ কি কখন করতে হয় ইতেকাফ - খবরের অন্তরালে

জাতীয়

সর্বশেষ সংবাদ

Saturday, 25 May 2019

এতেকাফ কি কখন করতে হয় ইতেকাফ

মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত তথা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব মহান আল্লাহর প্রতিনিধিত্বের মর্যাদা নিয়ে পৃথিবীতে মানুষের উদ্ভব হয়েছে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত ইন্নি জায়িলুন ফিল আরদি খালিফা অর্থাৎ নিশ্চিত ভাবে আমি পৃথিবীতে আমার প্রতিনিধি প্রেরণ করব এ ঐশী বাণী ঘোষণা সফল পরিণতি হলো পৃথিবীতে মানুষের সৃজন ও প্রেরণ। আল্লাহর প্রতিনিধি মানুষকে সৃষ্টির পর থেকে তাকে দেওয়া হয়েছে অসংখ্য নেয়ামত মহান আল্লাহর বাণী ওয়া ইন তাউদ্দূ নেয়মাতিল্লাহি লাতুহসুহা অর্থাৎ আর যদি তোমরা আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামত গুলোকে গণনা করতে থাকো তবে তা গণনা করে শেষ করতে পারবে না যেমন যেসব কারণে মেহেরবান প্রভু কর্তৃক বান্দার উপর নেয়ামত তথা অনুগ্রহ আরো বহুগুণে বেড়ে যায় মাহে রমজানের সিয়াম সাধনা তার মধ্যে অন্যতম রমজানুল মোবারক এর প্রতিটি আচার অনুষ্ঠান ইবাদত পদ্ধতি ও সুনির্দিষ্ট বিধি বিধানের আলাদা আলাদা গুরুত্ব ও তাৎপর্য রয়েছে সেহেরী তারাবি ইফতার সহ অন্য সব কর্ম সম্পন্নের জন্য প্রণোদনামূলক বিশেষ ফায়দা হাসিলের বর্ণনা রয়েছে পবিত্র রমজানের এই সব আচার অনুষ্ঠানের মধ্যে অন্যতম একটি বিষয় হল এতেকাফ পালন।
এতেকাফ শব্দের অর্থ হচ্ছে অবস্থান করা সংযুক্ত থাকা বা বসবাস করা পারিভাষিক অর্থে মহান আল্লাহর আনুগত্য প্রকাশের নিমিত্তে ও তার সন্তুষ্টি বিধানের লক্ষ্যে নিঃসঙ্গ অবস্থায় মসজিদে অবস্থান করে ইবাদত-বন্দেগিতে হালিম জিকির আজকার ও অন্যান্য ধর্মীয় কর্ম সম্পাদন করা হলো এতেকাফ। ইসলামে এতেকাফের ব্যাপক ফজিলত উল্লেখ করা হয়েছে মহানবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম এর বাণী মতে যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানের সঙ্গে এক দিন এতেকাফ পালন করবে আল্লাহপাক জাহান্নামকে তার থেকে তিন খন্দক দূরে সরিয়ে দেবেন হাদীসে আরো রয়েছে এতে সব ধরনের গুনা থেকে মুক্ত থাকে এবং তার আমলনামায় এত বেশি পণ্য লিপিবদ্ধ করা হয় যেন সব ধরনের পণ্য কাজেই সম্পন্ন করেছে।
ইতেকাফের কথা আমরা পবিত্র কোরআনে বিবৃত মহান আল্লাহর বাণীতে এভাবে দেখতে পাই ওয়ালা তুবাশিরু হুন্না ওয়া আন্তুম আকিফুনা ফিল মাসাজিদ। অর্থাৎ তোমরা তাদের সঙ্গে সহবাসে লিপ্ত হবে না যখন তোমরা মসজিদে এতেকাফ অবস্থায় থাকো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এবং তার সাহাবায়ে কেরাম এতেকাফের বিধান পালন করেছেন যা বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।পবিত্র রমজানে শবে কদর কে তালাশ করতে গিয়ে মহানবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম এর প্রথম দশকে এতেকাফ করেছেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ঐশী নির্দেশনার আলোকে তিনি জানতে পেরেছেন সেই মহিমান্বিত রজনী তথা শবে কদর রমজানের শেষ দশকে তারপর প্রিয় নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম রমজানের শেষ দশকের হাতে কাটিয়েছেন বুখারী শরীফে রাসূল সাল্লাহু সাল্লাম এর ইন্তেকালের পর তাঁর পত্নীরাও এতেকাফ পালন করেছেন।
জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় এমন মসজিদ এতেকাফের জন্য উত্তম অবশ্য শুধু পাঁচ ওয়াক্ত নামায কি মসজিদে আদায় করা হয় সেখান থেকে পড়া যাবে পুরুষরা মসজিদে আর নারীরা বাসভবনে ইতিকাফ পালন করবেন সারাক্ষণ ইবাদতের হাতে থাকা পার্থিব ও কোন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট না হওয়া এবং পরবর্তী সময় সারা বছর এতেকাফের শিক্ষাকে বাস্তব জীবনে ধারণ করার মধ্যেই রয়েছে রোজাদারের জন্য প্রকৃত কল্যাণ আর ইতিকাফের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম কদরের শবে কদরের মহিমান্বিত রজনী কে তালাশ করা। আল্লাহ পাক আমাদের ইতিকাফ ও ভুলের মাধ্যমে পবিত্র শবে কদর পাওয়ার ও সর্বোচ্চ কল্যাণ লাভ করা তৌফিক দান করুন আমীন।

No comments:

Post a Comment

Home