মালয়েশিয়ায় ১৩০ শ্রমিকের মানবেতর জীবন যাপন দেখার কেউ নেই - খবরের অন্তরালে

জাতীয়

সর্বশেষ সংবাদ

Friday, 17 May 2019

মালয়েশিয়ায় ১৩০ শ্রমিকের মানবেতর জীবন যাপন দেখার কেউ নেই

মোহাম্মদ জাকির মন্ডল মালয়েশিয়া সিরামবানে  চায়না কেমিক্যাল নামের একটি প্রতিষ্ঠান কাজের কথা বলে তাকে পাঠানো হয়েছিল ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে মালয়েশিয়া গেলেও চায়না কেমিক্যাল কোম্পানি দেখা হয়নি তার। কোথায় কোম্পানি কোথায় নিয়োগদাতা জানেনা জাকিরের মত এমন ১৩০ বাংলাদেশি কর্মী।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহ্মেদ মালয়েশিয়া আছেন শুনে আশা দেখতে চান এই কর্মীরা। এই দশা থেকে মুক্তি চান তারা মন্ত্রীর কাছে তাদের প্রতি মাননীয় মন্ত্রী আমাদেরকে বাচান।
এই ১৩০ কর্মীকে জিটুজি প্লাস কলিং ভিসায় মালয়েশিয়া পাঠিয়েছে ঢাকার রিক্রটিং এজেন্সি আইএসএমটি হিউম্যান রিসোর্স ডেভলপমেন্ট লিমিটেড । এই প্রতিষ্ঠানটি বিতর্কিত ১০ এজেন্সির সিন্ডিকেটের একটি। চায়না কেমিক্যাল কোম্পানীর নামে মূলত তাদের পাঠানো হয়, একটি আউট সোর্সিং (সাপ্লাই) কোম্পানী আর.কে কীরানাহ রিসোর্স-এ। যেটা মূলত বিভিন্ন কাজে কর্মীদের সাপ্লাই দেয়।
প্রথম দিকে কয়েক মাস বিভিন্ন কনস্ট্রাকশন কাজে তাদের পাঠানো হলেও এখন কাজ নেই বেতন উনি সাত-আট মাস ধরে বেকার কর্মীদের একটি টিনশেডে রাখা হয়েছে।
 মাসে শুধু খাওয়ার জন্য ২০০ রিঙ্গিত করে দেওয়া হতো এতে কোনো রকমের দিনরাত পার করেছেন তারা দুই মাস ধরে খাওয়ার টাকাও বন্ধ আর বেতন তো ভাবতেই পারছেন না তারা কাজ নেই বেতন নেই এমনকি তিন বেলা খেতেও পারছেন না ভাগ্য বদলানোর আশায় মালয়েশিয়া যাওয়া এই কর্মীরা।
এসব সমস্যা জানাতে বার বার রিক্রুটিং এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করা হলেও কেউ কর্মীদের পাত্তা দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন এই প্রবাসী শ্রমিকরা।
রিক্রুটিং এজেন্সির বক্তব্য: আইএসএমটি হিউম্যান রিসোর্স ডেভলপমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলামকে  এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে  তিনি দায় চাপান হাইকমিশন ও মন্ত্রণালয়ের ওপর।
অভিযুক্ত এজেন্সি মালিক আরিফুল ইসলাম

আরিফুল ইসলাম নামের একজন বলেন মালয়েশিয়া বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তা প্রথম সচিব লেবার ফরিদ উদ্দিন আহমেদ কোম্পানি পরিদর্শন করে তাদের চাহিদা পত্রের অনুমতি দিয়েছিলেন অনুমতি এবং মন্ত্রণালয় থেকে ছাড়পত্র নিয়ে কর্মী পাঠানো হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীরা বলেন তারা চায়না কেমিক্যাল নামের কোম্পানির অস্তিত্ব খুঁজে পাচ্ছেন না তাহলে সেই প্রতিষ্ঠান চাহিদা পত্র কিভাবে সত্যায়ন করল হাই কমিশন এভাবে তাদেরকে বিপদে ফেলার দায় কে নিবে বলে প্রশ্ন করেন তারা।
কাজ ও বেতন না থাকায় এর মধ্যে 60 জন কর্মী অন্য কাজের সন্ধানে চলে গেছে ফোন এসে কর্মীরা অবৈধ হয়ে যাচ্ছে।এক কর্মী বলেন এই যে আমরা কাজ ও বেতন ছাড়া রইলাম কেউ খোঁজ নিলোনা এখন বাইরে চলে যাচ্ছি কাজের খোঁজে অবৈধ হওয়ার দায় কার প্রশ্ন রাখেন ভুক্তভোগী।
জাকির মন্ডল জানান, সমস্যা সমাধানের আশায় শেষ পর্যন্ত  ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়েছিলেন তারা। সেখানে শ্রম কাউন্সেলর জহিরুল ইসলামকে অভিযোগ জানিয়েছেন।
হাইকমিশনের ভূমিকা কী : জিটুজি প্লাস কলিং ভিসায় কোন কর্মীর ভিসা আসার আগে, মালয়েশিয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কারখানা পরিদর্শন করে সত্যায়ন করেছিলো দেশটিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন। এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, তাহলে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের ভিসা কিভাবে সত্যায়ন করলো দূতাবাস ? নাকি পরিদর্শন ছাড়াই সত্যায়িত করেছিলেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা?
অভিযোগের পর ঘটনাস্থলে হাইকমিশন কর্মকর্তারা
এদিকে অভিযোগ পাওয়ার ১২ দিন পর ৩০ এপ্রিল হাইকমিশনের চারজন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি দেখেন। ১৫ দিনের মধ্যে সমাধানের আশ্বাসও দেয়া হয়। হাইকমিশনের পক্ষ থেকে রিক্রুটিং এজেন্সিকে বিষয়টি সমাধানের জন্য বলাও হয়েছে। কিন্তু এখনো কোন সমাধান নেই। হাইকমিশনের অনুরোধে কয়েকজন কর্মীকে অন্য কাজে পাঠানো হলেও, সেখানেও কাজ নেই বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
এমন পরিস্থিতিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদএর সহায়তা চেয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীরা। একই সাথে কিভাবে এমন অনিয়ম হলে অস্তিত্ববিহীন প্রতিষ্ঠান চাহিদা পত্র কিভাবে অনুমতি পেল তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান প্রতারিত কর্মীরা।

No comments:

Post a Comment

Home