আগুন দিয়েছে ধানক্ষেতে আপনার পাঞ্জাবিতে নয়! - খবরের অন্তরালে

জাতীয়

সর্বশেষ সংবাদ

Thursday, 16 May 2019

আগুন দিয়েছে ধানক্ষেতে আপনার পাঞ্জাবিতে নয়!

কৃষকের সঙ্গে মশকরা না করতে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এর প্রতি অনুরোধ করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ। তিনি বলেন আপনি কৃষকের সঙ্গে মশকরা করতে পারেন না আপনি আমি কৃষকের ভোটে কৃষকের দয়া সংসদে এসে কথা বলতে পারছি।

বুধবার জয়পুরহাট 2 আসনের সাংসদ আবু সাঈদ আল মাহমুদ তার ফেসবুকে খাদ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন হুইপের স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো।


কৃষকের সঙ্গে দয়া করে মশকরা করবেন না। ক্ষমতা কি মানুষকে অন্ধত্বের দিকে ঠেলে দেয আমার জানা মতে সুস্থ চোখ অন্ধ হতে সময় লাগে কিন্তু মাত্র চার মাসে ধানের ভান্ডার নোয়াগাঁও গাঁও গ্রাম থেকে উঠে আসা খাদ্যমন্ত্রী গায়ের কৃষকদের সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক ভুলে গেলেন। অন্ধ হয়ে গেলেন এসির ঠাণ্ডা বাতাসে!

তিনি বলেছেন সরকারকে বিব্রত করার জন্য নাকি কৃষক ষড়যন্ত্র করে পাকা ধানে আগুন দেওয়া হয়েছে। কৃষককে ধানের মূল্য দিতে পারবেন না বিনয়ের সঙ্গে সম্মানিত কিছু সীমাবদ্ধতার কথা অবহিত করুন সমস্যা কোথায় অসীম সমস্যার এই দেশের সব কিছু রাতারাতি ঠিক হবে না একথা বিনয়ের সঙ্গে বললে মানুষ গ্রহণ করবে।

একজন অসহায় কৃষকের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কেউ সহ্য করতে পারবেন না আপনি তো সামরিক স্বৈরাচারের মন্ত্রী নন। আপনাকে স্মরণ রাখতে হবে আপনি ফরম ধৈর্যশীল উদার গণতান্ত্রিক বিশ্ব সেরা রাজনীতিবিদ শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রী এবং তার সম্মানিত সহকর্ম উপরন্তু আপনি তেলতেলে আমলা ব্যবসায়ী কোটার মন্ত্রী নয় তৃণমূল থেকে কাদামাটি গায়ে মাখা রাজনীতিবিদ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান থেকে ধাপে ধাপে ধাপে মানুষের সহযোগিতা সমর্থনে আজকের পর্যায়ে এসেছেন। অন্তত আপনি কৃষকের সঙ্গে মশকরা করতে পারেন না আপনি আমি কৃষকের ভোটে কৃষকের দয়া সংসদে এসেছি।

আগুন দিয়েছে নিজের খেতে আপনার পাঞ্জাবিতে দেয়নি তাতে করে সহ্য হচ্ছে না শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার টুকু দিবেন না কৃষককে? কৃষক বলে কি তাদের প্রতিবাদ করার অধিকার নেই প্রজাতন্ত্রের দায়িত্বশীল পদে থেকে অসহিষ্ণু আচরণ করা ঠিক নয়।

কৃষক উৎপাদন করে, ন্যায্য মূল্য পায় না। এ কথা অন্য রাজনীতিবিদ না জানলেও আপনার, আমার অজানা নয়। ধানের দামের খোঁজ নেন, প্রতি মুহূর্তে নিজের ম্যাকানিজম দিয়ে খবর নেন। অফিসারদের ওপর শতভাগ নির্ভরশীল থাকবেন না। দেখেন, হাটে বাজারে ধানের প্রকৃত দাম কত? আপনি এই মন্ত্রণালয়ে নতুন। কথিত আছে, এই মন্ত্রণালয়ে অধীনস্থ খাদ্য বিভাগের শুধু কর্মচারী নয়, অফিসের দেয়ালও না কি ঘুষ চায়। ভূমিমন্ত্রীর মতো সচল হোন, দুর্নীতির জঞ্জাল পরিষ্কার করুন।

কৃষককে প্রতিপক্ষ ভেবে সময় নষ্ট না করে, বিনয়ের সঙ্গে কৃষককে আর কিছুদিন ধৈর্য ধরতে বলুন। প্রতিবেশী ভারত বা অন্য কোনো দেশে ধানের আধুনিক সাইলো বা গুদাম পরিদর্শন করুন। নিজে লেগে থেকে প্রকল্প প্রস্তুত করে একনেকে অনুমোদন করান। দেশে বড় বড় ধানের সাইলো নির্মাণ করুন। বিনা কমিশন বা ঘুষে সরাসরি কৃষকের নিকট থেকে ধান ক্রয়ের ব্যবস্থা করুন। তবেই কৃষক বাঁচবে। কৃষকরত্ন শেখ হাসিনার স্লোগান, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে।

সরাসরি কৃষক এর আগে খাদ্যমন্ত্রী হয় নাই। মহান প্রধানমন্ত্রী শখ করে কৃষককে খাদ্যমন্ত্রী এবং কৃষিবিদকে কৃষিমন্ত্রী বানিয়েছেন। আমরা, আপনাদের নিয়ে স্বপ্ন দেখি, আস্থা রাখি, বিশ্বাস রাখি। আপনি এবং কৃষিমন্ত্রী একত্রে বসে কৃষকদের কল্যাণে বড় কিছু করুন, তাদের বাঁচান।

জাতির পিতার আত্মা শান্তি পাবে।’

No comments:

Post a Comment

Home