রোযা (অটোফেজি) নিয়ে আধুনিক বিজ্ঞানীদের গবেষণা - খবরের অন্তরালে

জাতীয়

সর্বশেষ সংবাদ

Friday, 5 April 2019

রোযা (অটোফেজি) নিয়ে আধুনিক বিজ্ঞানীদের গবেষণা


মুসলমানরা রোযা রাখলে তাকে বলা হয় সিয়াম। খ্রিস্টানরা রোযা রাখলে তাকে বলা হয় ফাস্টিং। হিন্দু অথবা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা রোযা রাখলে তাকে বলা হয় উপবাস। বিপ্লবীরা রোযা রাখলে তাকে বলা হয় অনশন। আর মডার্ন মেডিকেল সাইন্সে রোযা রাখা কে বলা হয় অটোফেজি।

মজার বিষয় হচ্ছে পৃথিবীর সব ধর্মেই কম বেশি কিছু কমন কথাবার্তা চালু আছে। যেমন কোন ধর্মেই বলে না খারাপ কাজ করো পাপ কাজ করো। সব ধর্মেই ভালো কাজকে উৎসাহিত করা হয়েছে এরকম একটা কমন টার্ম হচ্ছে রোযা।

যেটা কোরআন চৌদ্দশত বছর আগে বলে গেছে সেটারই আজকের সাইন্টিফিক ব্যাখ্যার নাম অটোফেজি।

২০১৬ সালে নোবেল কমিটি জাপানের ডাক্তার ওশিনরি ওসুমি কে অটোফেজি আবিষ্কার এর জন্য পুরস্কার দেয়। খুব বেশিদিন আগের কথা নয় মাত্র দু বছর আগের কথা এরপর থেকে আধুনিক মানুষেরা ব্যাপকভাবে রোজা রাখতে শুরু করে।

Autophagy কি?
Autophagy শব্দটি একটি গ্রিক শব্দ; Auto অর্থ নিজে নিজে, এবং Phagy অর্থ খাওয়া... সুতরাং, অটোফেজি মানে নিজে নিজেকে খাওয়া
না ওয়েট, মেডিক্যাল সাইন্স নিজের গোস্ত নিজেকে খেতে বলে না... শরীরের কোষগুলো বাহির থেকে কোনো খাবার না পেয়ে নিজেই যখন নিজের অসুস্থ কোষগুলো খেতে শুরু করে, তখন মেডিক্যাল সাইন্সের ভাষায় তাকে অটোফেজি বলা হয়
আরেকটু সহজভাবে যদি আমরা বলি।
আমাদের ঘরে যেমন ডাস্টবিন থাকে অথবা আমাদের কম্পিউটারে যেমন রিসাইকেল বিন থাকে তেমনি আমাদের শরীরে প্রতিটি কোষের মাঝেও একটি করে ডাস্টবিন আছে।

সারাবছর শরীরের কোষগুলো খুব ব্যস্ত থাকার কারণে ডাস্টবিন পরিষ্কার করার সময় পায় না ফলে কোষগুলোতে অনেক আবর্জনা ও ময়লা জমে যায়।
শরীরের কোষগুলো যদি নিয়মিত তাদের ডাস্টবিন পরিষ্কার করতে না পারে তাহলে কোষগুলো একসময় নিষ্ক্রিয় হয়ে শরীরের বিভিন্ন প্রকারের রোগের উৎপন্ন করে ফলে ক্যান্সার ডায়াবেটিস এর মত অনেক বড় বড় রোগের শুরু এখান থেকে হয়।

মানুষ যখন খালি পেটে থাকে তখন শরীরের কোষগুলো অনেকটা বেকার হয়ে পড়ে কিন্তু তারা তো আর আমাদের মত অলস সময় বসে থাকে না তাই প্রতিটি কোষ তার ভিতরের আবর্জনা ও ময়লা গুলো পরিষ্কার করতে শুরু করে।

কোষগুলোর আমাদের মত আবর্জনা ফেলার জায়গা নেই বলে তারা নিজের আবর্জনা নিজেই খেয়ে ফেলে মেডিকেল সাইন্সে এই পদ্ধতিকে বলা হয় অটোফেজি। পুরো পৃথিবীর আধুনিক মানুষেরা আজকে অটোফেজি থিউরির পিছু ছুটছে। যা কিনা কোরআন চৌদ্দশত বছর আগেই বলে গেছে।

আশেপাশের অনেককেই দেখি শরীর অসুস্থ হয়ে যাবে এই ভেবে অনেকেই রোজা রাখেনা। আসলে যেদিন কালিমা পড়েছি সেই দিনই তো উচিত ছিল বিশ্বাসটা এনে ফেলা যে আল্লাহ যা করে ভালোর জন্যই করেছেন এবং করবেন।
সংগৃহীত।

No comments:

Post a Comment

Home