পরকীয়ার বলি! দুই মেয়েকে হত্যা অভিযোগ প্রবাসী স্বামীর - খবরের অন্তরালে

জাতীয়

সর্বশেষ সংবাদ

Thursday, 4 April 2019

পরকীয়ার বলি! দুই মেয়েকে হত্যা অভিযোগ প্রবাসী স্বামীর


নিজের দুই মেয়ের ঠিক করা কম্পিউটার শিক্ষকের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন স্ত্রী নাসিমা আক্তার। এর জের ধরে দুই কন্যাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রবাসী স্বামী রেজাউল হক হেলাল। তার স্ত্রী পরকীয়া প্রেমিক শ্বশুর ও শাশুড়ি ঠান্ডা মাথার তার দুই কন্যা নাবিলা হক জামিলা কে হত্যা করেছেন।

সৌদি আরবের রিয়াদে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন সৌদি প্রবাসী রেজাউল হক হেলাল। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন তার বাড়ি ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার সাত নম্বর মাতুভূঞা ইউনিয়নের আশরাফ পুরে। তিনি হাজার ১৯৮৮ সালে পারিবারিকভাবে লক্ষ্মীপুর জেলা রায়পুর নিবাসী শহীদুল্লাহর কন্যা নাসিমা আক্তার এর সাথে ঢাকার কল্যাণপুরে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০০৮ সালে অর্থনৈতিক কল্যাণের জন্য জীবিকার সন্ধানে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান।

এর আগে ঢাকা দনিয়া কলেজের পাশে ভাড়া বাসায় আদরের দুই কন্যা নাবিলা হক ও ঝামেলা হক হক ও স্ত্রী নাসিমা কে রেখে যান। রেজাউল হক হেলাল এর দাবি আমি সৌদি আরব আসার পর বগুড়ার ছেলে কম্পিউটার শিক্ষক মশিউর রহমান মোহনকে আমার মেয়েদের কম্পিউটার শেখানোর জন্য বাসায় রাখা হয়। সেই সুবাদে সে আমার বাসায় যাতায়াত করতো। এক পর্যায়ে আমার বড় মেয়ের জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে বিবাহের প্রস্তাব আসতে থাকে। প্রস্তাব কারীদের মধ্যে কম্পিউটার শিক্ষক মশিউর রহমান মোহন ছিল। বগুড়া অনেক দূরে হওয়ায় আমি ফেনীর শাহিন পাটোয়ারীকে দিয়ে যাচাই-বাছাই করে মেয়ের সম্মতিতে পছন্দ করি তাদের বিয়ে ঠিক হয়।

রেজাউল হক হেলাল আরো বলেন ২০১২ সালে ২৯ শে ফেব্রুয়ারি হঠাৎ আমার শাশুড়ি হাসিনা বেগম ও স্ত্রী নাসিমা আক্তার আমাকে ফোন করে জানান আমার প্রথম মেয়ে যাত্রাবাড়ী দনিয়া কলেজে অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী নাবিলা হক ব্রেন স্ট্রোক করে মারা গেছে। এই সময় আমার হাজার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ভিসা জটিলতার কারণে আমি দেশে আসতে পারিনি। মেয়ের শোকে যখন আমি কাতর তখন আমার ছোট মেয়ের সাথে কথা বলতে চাইলে আমার শাশুড়ি ও আমার স্ত্রী নানা অজুহাত দেখাতেন। শাশুড়ি বলতেন আমার স্ত্রী বেহুশ মেয়ে কান্নাকাটি করছে কথা বলা যাবে না।
আমার বড় মেয়ের মৃত্যুর ২০/২৫ দিন পর হঠাৎ করে আমার শাশুড়ি জানান আমার স্ত্রী মেয়ের শোকে মারা গেছেন তখন প্রবাসে মানসিকভাবে আমি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ি। আমার পৈতৃক বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়ি দূরত্ব বেশি হওয়ায় আমি প্রবাসে থাকায় অনেক বিষয় আমার অগোচরে থেকে যায়।

নাবিলার মায়ের মৃত্যুর খবর এর ছয় থেকে সাত মাস পর আমি বিভিন্ন সূত্রে খবর পাই আমার স্ত্রী নাসিমা আক্তার মেয়েদের কম্পিউটার শিক্ষক লম্পট প্রতারক মশিউর রহমানের সাথে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হয়ে ২৫ বছরের সাজানো সংসার ভেঙ্গে অর্থ-সম্পদ নিয়ে পালিয়ে যায়। এই বিষয়ে আমার শাশুড়ির সাথে কথা বলে তার কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন ভান করে মেয়ের উপর তিনি ও বিরক্ত এবং তারা এই মেয়েকে তেজ্য করে দিয়েছেন। এরকম কলঙ্কিত মেয়ের সঙ্গে তারা আর কোন সম্পর্ক রাখতে চান না। তখন আমার আকামা সমস্যা থাকায় আমি দেশে আসতে পারি নাই।

আমার ছোট মেয়ে ঝামেলা হোক তার নানীর কাছে রায় পড়ে থাকত এবং রায়পুর এল এম স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণীতে তাকে ভর্তি করা হয় মেয়ের যাবতীয় খরচ আমার শাশুড়ি মাধ্যমে আমি চালিয়ে যাই। বিগত দুই হাজার পনেরো থেকে ষোলো সালের কোনো এক সময় অজানা গন্তব্য থেকে ফিরে এসে আমার শ্বশুর শাশুড়িকে ম্যানেজ করে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় আমার মেয়ের পিতা সেজে রায়পুর পৌরসভা আমার শ্বশুর বাড়িতে আশ্রয় নেয় পরকীয়া প্রেমিক মশিউর রহমান ও নাসিম আক্তার।

হেলাল অভিযোগ করে বলেন আমার বৃদ্ধা মা দিলবাহার বেগম কয়েক দফা আমার মেয়েকে রায়পুর থেকে আনতে গিয়ে আমার শ্বশুর শাশুড়ির  অমতের কারণে মেয়েকে ফেনীর বাড়িতে আনতে ব্যর্থ হয়। ২৭ শে আগস্ট বাংলাদেশ থেকে খবর পাই রায়পুর রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী আমার মেয়ে জামিল হক মারা গেছে। এ খবর পেয়ে আমার নিকট আত্মীয়রা রায়পুরে ছুটে যান তাকে দেখতে। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন লাশ পোস্টমর্টেম করার জন্য লক্ষীপুর নিয়ে গেছে। ওই বাড়িতে নাবিলার নিকটাত্মীয়দের খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে এক পর্যায়ে তার মাকে দেখতে পায় আমার আত্মীয় স্বজনরা তখন তাকে জিজ্ঞেস করতে গেলে সে তাদের কে দেখে পালিয়ে যায়।

আমার নিকট আত্মীয়রা প্রতিবেশীদের কাছে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন আমার মেয়ে নাবিলা হক ফেনীতে তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার বায়না ধরলে তার মা ও মায়ের পরকিয়া প্রেমিক মশিউর রহমান তাকে হত্যা করে। সংবাদ সম্মেলনে হেলাল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন আমি আশংকা করছি আমার বড় মেয়ে নাবিলা হক ও জামিল হক দুজনকে পরকীয়ার কারণে পরিকল্পিতভাবে ঠান্ডা মাথায় নাসিমা আক্তার ও মশিউর রহমান মোহন হত্যা করেছে। তারা আমার দুই মেয়েকে পরকীয়ার বলি বানিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় করে এবং আমার সাজানো সংসার ধ্বংস করে দিয়েছে।

এ সময় তিনি তার স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিক শ্বশুর এবং শাশুড়ি কে গ্রেপ্তার করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ন্যায় বিচার দাবি করেন। উল্লেখ্য মিথ্যা তথ্য দিয়ে গণমাধ্যমে জামিলা হক এর মৃত্যুর খবর পরিকল্পিতভাবে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। এবং আমার মেয়ের বাবা হিসেবে রেজাউল হক হেলাল এর পরিবর্তে মশিউর রহমান বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। তবে বয়েজ অফ বাংলা নামে একটি নিউজ পোর্টাল জামিনা হকের মৃত্যুর খবর হত্যা হিসেবে উল্লেখ করেন। পরেরদিন এলাকাবাসী মেধাবী ছাত্রী জামিলা হকের মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার চেয়ে প্রতিবাদ মিছিল ও মানববন্ধন করেন।
খবর সংগৃহীত।

No comments:

Post a Comment

Home