আজ মহিমান্বিত শবেবরাত - খবরের অন্তরালে

জাতীয়

সর্বশেষ সংবাদ

Saturday, 20 April 2019

আজ মহিমান্বিত শবেবরাত

আজ রবিবার দিবাগত রাতে পবিত্র শবে বরাত বা লাইলাতুল বরাত সারা বিশ্বের মুসলমানরা এই রাত্রি ভাগ্য রজনী হিসেবে পালন করে আসছেন।
এই পবিত্র রজনীতে মুসলমানরা তাদের নিজেদের অতীতের সব গুনাহের জন্য মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আর ভবিষ্যতে সুখ সমৃদ্ধির জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন। কোন কোন আলেম ওলামাদের মতে শবে বরাতে মানুষের আগামী এক বছরের ভাগ্য নির্ধারণ করে থাকেন মহান আল্লাহ তাআলা। এই কারণে এই পবিত্র রজনীতে মুসলমানরা মসজিদে ও বাড়িতে রাত জেগে নফল নামাজ ও ইবাদত কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে ও বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে তাদের পাপ কর্মের ক্ষমা প্রার্থনা করেন মহান আল্লাহর কাছে।

শবে বরাত অর্থ হচ্ছে ভাগ্যের রজনী শবে বরাত এর উৎপত্তি ফারসি শব্দ শব থেকে। আরবিতে এই ডাক্তার কে বলা হয় লাইলাতুল বরাত। আর বাংলায় আমরা বলে থাকি ভাগ্যের রজনী। অর্থাৎ মহান আল্লাহ তা'আলা এই রাত্রে তার বান্দাদের ভাগ্য নির্ধারণ করে থাকেন পরবর্তী এক বছরের জন্য। তাই সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমান মহান আল্লাহর কাছে ইবাদত বন্দেগির মাধ্যমে তাদের পিছনে সমস্ত গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং আগামী এক বছরে তাদের সুখ সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য আল্লাহর কাছে আবেদন করেন আল্লাহ যেন তৌফিক দেন সুখে শান্তিতে আগামী এক বছর থাকতে পারে সেইজন্য।
কিন্তু শবে বরাত কে নিয়ে মুসলমান সমাজের মধ্যে কিছু প্রচলিত কুসংস্কার রয়েছে যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এই রাত্রে বিভিন্ন ধরনের আতশবাজি পটকা ফুটানো যা কখনই ইসলাম সমর্থন করে না। এই রাত শুধু মাত্র ইবাদত-বন্দেগির জন্য আতশবাজি পটকা ফুটানোর জন্য নয়। তাই সকলের কাছে আহ্বান থাকবে যারা আতশবাজি পটকা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন এই রাত্রে তারা যেমন সমাজের ক্ষতি করেন তেমনি যারা ইবাদত বন্দি করেন তাদেরও ক্ষতি হয় কারণ ইবাদত-বন্দেগী করতে হলে অবশ্যই নিরিবিলি জায়গায় করতে হয় উচ্চস্বরে আতশবাজি পটকা ফোটালে এবাদত বন্দেগির ব্যাঘাত ঘটে।
এদিকে শবেবরাতে আতশবাজি পটকা বাজি অন্যান্য খতিকারক দূষণীয় দ্রব্য বহন এবং ফোটানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
শাবান মাসের পর এই পবিত্র রমজান মাস শবে বরাতের 15 দিন পর রমজানের রোজা বা এক মাসের সিয়াম সাধনা শুরু হয়। এই জন্য সারা বিশ্বে মুসলমানদের জন্য শবেবরাত খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
গত ৬ এপ্রিল জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা শেষে ঘোষণা দেওয়া হয়, এদিন (৬ এপ্রিল) দেশের কোথাও ১৪৪০ হিজরি সালের শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি।
এ কারণে ৭ এপ্রিল (৬ এপ্রিল দিবাগত রাতসহ) হবে রজব মাসের শেষ দিন। আর ৮ এপ্রিল (৭ এপ্রিল দিবাগত রাত থেকে) থেকে শাবান মাস গণনা শুরু হবে। এ হিসাবে ২১ এপ্রিল দিবাগত রাতে লাইলাতুল বরাত পালিত হবে। কিন্তু মজলিসু রুইয়াতুল হিলাল ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি সংগঠনের নেতারা দাবি করেন, ৬ এপ্রিল দেশের বিভিন্ন জায়গায় চাঁদ দেখা গেছে। এ ঘোষণার পরই বিভ্রান্তি দেখা দেয়। বিভ্রান্তি দূর করতে ১৩ এপ্রিল জরুরি বৈঠকে বসে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। বৈঠক থেকে মাওলানা আবদুল মালেককে আহ্বায়ক করে ১১ সদস্যের একটি উপকমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ১৭ এপ্রিলের মধ্যে বিভ্রান্তি নিরসন করতে বলা হয়। এদিকে সংগঠনটির ব্যানারে ১০ ব্যক্তি হাইকোর্টে রিট আবেদন করতে ১৫ এপ্রিল আদালতের অনুমতি চান। তবে আদালত তাঁদের ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন। একই সঙ্গে তাঁদের বক্তব্য লিখিতভাবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের কাছে দিতে বলেন।
এর ধারাবাহিকতায় ১৬ এপ্রিল আলেম-ওলামাদের নিয়ে গঠিত ১১ সদস্যের কমিটি বৈঠকে বসে। বৈঠকের পর ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ অ্যাডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বৈঠকে চাঁদ দেখার কোনো সাক্ষী হাজির না হওয়ায় ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির ৬ এপ্রিল ঘোষিত সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে।
আতশবাজি নিষিদ্ধ
পুলিশ জানায়, পবিত্র শবেবরাতের পবিত্রতা রক্ষার্থে ও শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপনের জন্য ডিএমপি অর্ডিন্যান্সের ২৮ ধারার ক্ষমতাবলে পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া আতশবাজি, পটকাবাজি, অন্যান্য ক্ষতিকারক ও দূষণীয় দ্রব্য বহন এবং ফোটানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। নির্দেশ অনুযায়ী আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগামীকাল সোমবার ভোর ৬টা পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। নগরবাসীকে এ নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

No comments:

Post a Comment

Home