প্রবাসীদের দাবি আদায়ে প্রয়োজন একজন নিক্সন চৌধুরীর - খবরের অন্তরালে

জাতীয়

সর্বশেষ সংবাদ

Wednesday, 10 April 2019

প্রবাসীদের দাবি আদায়ে প্রয়োজন একজন নিক্সন চৌধুরীর

সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরী।

নিক্সন চৌধুরী!  যার নাম এখন বাংলাদেশের গণ্ডী পেরিয়ে প্রবাসীদের মুখে মুখে। কে এই নিক্সন চৌধুরী? কেন সোশ্যাল মিডিয়ায় তার এত প্রশংসা? কারন সবার আগে তিনি একজন প্রবাসীদের বন্ধু। তাদের দাবি আদায়ে সংসদ থেকে শুরু করে মিডিয়ায়, টিভি টকশোতে এবং বিভিন্ন সভা সমাবেশ সেমিনারে সোচ্চার বজ্র কন্ঠে তিনি বলেন প্রবাসীদের সুখ দুঃখ নিয়ে। কথা বলেন দেশে আসলে বাংলাদেশ এয়ারপোর্টে কি ধরনের লাঞ্ছনার শিকার হন প্রবাসী বাংলাদেশী ভাইয়েরা।
নিক্সন চৌধুরী বঙ্গবন্ধু পরিবারের সন্তান। নিক্সন চৌধুরী একজন সংসদ সদস্য। নিক্সন চৌধুরী স্বতন্ত্র ভাবে নির্বাচন করে নির্বাচিত এমপি। যার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন খোদ আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জাফরুল্লাহ চৌধুরী। কি রকম জনপ্রিয় হলে বর্তমান সিচুয়েশানে একজন আওয়ামী লীগের প্রার্থী কে হারিয়ে নির্বাচিত হওয়া যায় তার জ্বলন্ত প্রমাণ নিক্সন চৌধুরী। তরুণ মেধাবী জনগণের পাশের মানুষ নিক্সন চৌধুরী সব সময় প্রবাসী বাংলাদেশিদের কে নিয়ে সোচ্চার থাকেন।

বিভিন্ন সভা-সমাবেশে টিভি টকশোতে এমনকি সংসদ অধিবেশন তিনি প্রবাসীদের কে নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন বাংলাদেশের জিডিপির সিংহভাগ আসে প্রবাসীদের আয়ের থেকে। অথচ এই প্রবাসীরাই সবচেয়ে বেশি লাঞ্ছনার শিকার হন। প্রবাসীরা যখন দেশে আসেন তখন বিমান বন্দরে প্রতিটি জায়গায় তারাও অপমানিত অপদস্থ হতে হয়। তাদের মালামাল চুরি হয়ে যায়। ইমিগ্রেশনের এ ঘন্টার পর ঘন্টা তাদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। যেই ইমিগ্রেশন অফিসাররা এই প্রবাসী ভাইদেরকে এরকম লাঞ্চিত করেন অপমান করেন অথচ তাদের টাকায় এই অফিসারদের বেতন চলে।
জয়যাত্রা টেলিভিশনে নিক্সন চৌধুরীর বক্তব্য দেখুন। ইউটিউব লিংক জয়যাত্রা টেলিভিশনের সৌজন্যে।

নিক্সন চৌধুরী আরও বলেন, আমরা যারা এমপি-মন্ত্রী হয়ে ভিআইপি মর্যাদায় চলাফেরা করি। এয়ারপোর্টের ভিআইপি লাউঞ্জ দিয়ে আমরা আসা-যাওয়া করি। আপনারা জানেন কি এই ভি আই পি মর্যাদা যাদের কারণে আমরা ভোগ করি তারা হচ্ছেন আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা। কোটি কোটি ডলার বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেশের উন্নয়নের চাকা ঘোরাচ্ছেন। তাদের পয়সা দিয়ে আমরা যারা মন্ত্রী এমপিরা বিলাসবহুল জীবন যাপন করছি। অথচ একবারও আমরা চিন্তা করি না যাদের জন্য আমাদের এই আয়েশী জীবন তাদের জন্য আমরা কি করতে পারছি। তিনি বলেন আমরা কিছুই করতে পারি না আমরা শুধু পারি তাদের কে অপমান করতে।
একজন প্রবাসী যখন দেশে আসেন তখন তার জন্য তার আত্মীয়-স্বজন মা-বাবা অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকে কখন তার সন্তান তার ভাই তার স্বামী তার বাবা দেশে আসবে। কিন্তু প্রথমে একজন প্রবাসী বছরের পর বছর প্রবাস থেকে যখন দেশে আসেন তখন এয়ারপোর্টে তাদের মালামাল চুরি হয়ে যায়, কষ্ট করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে টাকা ইনকাম করে সেই টাকা দিয়ে যখন মা বাবা ভাই বোন আত্মীয় স্বজনদের জন্য কিছু নিয়ে আসেন তখন এয়ারপোর্টের তাদের সেই মাল চুরি হয়ে যায়। কিন্তু কেন তাদের মাল চুরি হবে কারা চুরি করল সেই খোঁজ আর কেউ নেয় না।

নিক্সন চৌধুরী দাবি করেন প্রবাসীদের জন্য যদি রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে হয় সেটা তো আমি রাজি। কারন আমি এই প্রবাসে গিয়ে দেখেছি কত কষ্ট করে প্রবাসীরা টাকা ইনকাম করে। সময় মত ভাত খেতে পারে না সময়মতো বিশ্রাম নিতে পারে না সময় মত ঘুমাতে পারে না। বছরের পর বছর ধরে প্রবাসে পড়ে থাকে একমাত্র পয়সা ইনকাম করে দেশে পাঠাবার জন্য। কারণ তারা পয়সা পাঠালেই তাদের সংসার চলবে ছেলে সন্তানের পড়ালেখা চলবে মা বাবা ভাই বোনদের খরচের টাকা চলবে। দেশের উন্নয়ন হবে। অথচ এই প্রবাসীরা সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হয়।

নিক্সন চৌধুরী আরও বলেন ভিআইপি মর্যাদায় চলাফেরার অধিকার মন্ত্রী-এমপিদের নয় ভিআইপি মর্যাদা দেওয়া উচিত সকল প্রবাসী ভাইদেরকে। প্রয়োজনে সকল প্রবাসীদের নামে ইস স্মার্ট কার্ড তৈরি করতে হবে। যাতে করে দেশে আসলে তারা সহজেই তাদের সকল কাজ সহজ ভাবে করতে পারে। নিক্সন চৌধুরী মতো আমরা বলতে চাই। এয়ারপোর্টে দেশে আসার সময় সকল প্রবাসীদের কে ভিআইপি মর্যাদা দিতে হবে। এয়ারপোর্ট এর সকল প্রবাসীদের কে সম্মানের সহিত ইমিগ্রেশন করাতে হবে। কোন মালামাল চুরি হলে সাথে সাথে তা একশনে গিয়ে উদ্ধার করে দিতে হবে। নিক্সন চৌধুরী মত যদি সবাই না হোক অন্তত ১০/১২ জন মন্ত্রী এমপিও প্রবাসীদের পক্ষে কথা বলে তাহলে আমাদের বিশ্বাস একদিন সকল প্রবাসীরা তাদের প্রাপ্য অধিকার আদায় করতে পারবে, লাঞ্ছনা এবং বঞ্চনা থেকে মুক্তি পাবে।

No comments:

Post a Comment

Home