দিনাজপুর সদর ট্রেন স্টেশনের টিকিট কাউন্টার নয় পাওয়া যায় চা দোকানে! - খবরের অন্তরালে

জাতীয়

সর্বশেষ সংবাদ

Tuesday, 9 April 2019

দিনাজপুর সদর ট্রেন স্টেশনের টিকিট কাউন্টার নয় পাওয়া যায় চা দোকানে!


দুর্নীতির এই দেশে যেখানেই যাবেন সেখানেই দুর্নীতির গন্ধ পাবেন। দেশের প্রতিটি সেক্টরে রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি ঢুকে গেছে। কোথাও আপনি দুর্নীতি ছাড়া কিছুই দেখতে পাবেন না। স্বাধীনতার দীর্ঘ এত বছর পরও আমরা পরাধীনতার শিকলে আবদ্ধ। যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন হয়েছে পাকিস্তানের হাত থেকে কিন্তু নিজ দেশের চাটুকারদের হাত থেকে এখনো আমরা স্বাধীন হয় নাই।

বলছিলাম দুর্নীতি নিয়ে। বাংলাদেশের এমন কোন সরকারি অফিস নাই যেখানে দুর্নীতি হয় না। টাকা দিলেই অফিসের ফাইল মুহুর্তের মধ্যে এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে বিজলীর গতিতে চলে যায়, কাজ হয়ে যায় সময়ের আগেই। আর যদি আপনি টাকা না দেন তাহলে সেই ফাইল পড়ে থাকবে টেবিলের উপর দিনের-পর-দিন, মাসের-পর-মাস, বছরের-পর-বছর। সেই ফাইল যতই আপনার জন্য জরুরী হোক না কেন তাদের জন্য কিছুই না। যতক্ষণ আপনি টাকা না দিবেন ততক্ষন ওই ফাইল জায়গায় পড়ে থাকবে।

এটাতো গেল সরকারি বিভিন্ন অফিস আদালতের কথা। কিন্তু এখন দুর্নীতি অফিস-আদালতে সীমাবদ্ধ নাই এটা এখন সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে মাকড়সার জালের মত। আপনি বাসের টিকেট খরিদ করবেন পাবেন না, আপনি লঞ্চের টিকেট খরিদ করবেন পাবেন না, আপনি ট্রেনের টিকেট খরিদ করবেন তাও পাবেন না। কিন্তু কালোবাজারিদের কাছে সব সময় এই টিকেট থাকে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ভুক্তভোগী জানিয়েছেন তাঁর অভিজ্ঞতার কথা। তিনি একজন আলেম ও হাফেজ চাকরি করেন নোয়াখালীতে। তার গ্রামের বাড়ি দিনাজপুর সদরে। ছুটিতে বাড়িতে গিয়েছিলেন। বাড়ি থেকে কর্মস্থলে আসার জন্য দিনাজপুর সদরের রেল স্টেশনে যান টিকেট ক্রয় করার জন্য। টিকিট কাউন্টারে গিয়ে দেখেন টিকেট নাই। 

কাউন্টার মাস্টার বলেন টিকিট শেষ হয়ে গেছে।  মাওলানা সাহেব টিকিট না পেয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেন। হঠাৎ করে একজন লোক তার কাছে এসে বলল হুজুর কি খুঁজছিলেন। তখন হুজুর বলেন টিকেট চাইছিলাম কিন্তু টিকিট শেষ হয়ে গেছে। এই কথা শুনে লোকটি হুজুরকে বলেন পাশের চা দোকানে গিয়ে দেখেন টিকিট পাবেন।

ঠিক ওই লোকটার কথা শুনে হুজুর চা দোকানে গিয়ে টিকেট আছে কিনা জানতে চাইলেন। তখন চা দোকানদার হুজুরকে একটি টোকেন ধরিয়ে দিলেন আর বললেন এই টোকেন টা নিয়ে টিকিট কাউন্টারে যাওয়ার জন্য। হুজুর যখন কাউন্টারে গিয়ে এই টোকেন টিকিট মাস্টার কে দিলেন তখন তাকে একটি টিকেট দেওয়া হল।  টিকিটের দাম রাখা হলো ৬০০ টাকা। অথচ টিকিটের গায়ে লেখা আছে ৪৬৫ টাকা।

কি আর করার মাওলানা সাহেব কিছু না বলে টাকাটা দিয়ে সোজা চলে আসলেন। আর ভাবতে লাগলেন এটাই বুঝি আমাদের সোনার বাংলাদেশে যেখানে টিকিট নাই সেখানে টিকিট পাওয়া যায়, আবার যেখানে টিকিট আছে সেখানে টিকিট নাই। দুর্নীতির এই করাল গ্রাস থেকে আমরা কবে মুক্তি পাব। সামান্য একটা রেলের টিকিটেও যদি এরকম জালিয়তি কালোবাজারি হয়। তাহলে বড় বড় সেক্টর গুলোতে কি পরিমাণ দুর্নীতি হয় সেটা মনে হয় আর সাধারন মানুষকে কেউ জ্ঞান দিয়ে বুঝাতে হবে না।

No comments:

Post a Comment

Home