৭ই মার্চের ভাষণ। এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান - খবরের অন্তরালে

জাতীয়

সর্বশেষ সংবাদ

Wednesday, 6 March 2019

৭ই মার্চের ভাষণ। এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা এই বাংলাদেশের মানুষের সকল আশা আকাঙ্খার মূলে ছিল একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে পৃথিবীর মানচিত্রে মাথা ঘুরে দাঁড়ানোর বাসনা।কণ্ঠস্বরে প্রকাশ হওয়ার আগে এই আকাঙ্ক্ষা বুকে নিয়েই কাটিয়ে সে প্রায় আড়াইশো বছর।
অবশেষে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ-এর তপ্ত দুপুরে আসে সেই পরম স্বাধীনতার ঘোষণা। বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পাকিস্তান সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরেই তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসে সেই কাঙ্খিত স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছবি ফেসবুক
সেই দিন দশ লাখেরও বেশি মানুষ জড়ো হয় তাদের প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ শুনতে পরিণত হয় একটি জনসমুদ্রে। সময় তখন ৩:১৫ মিনিট পাঞ্জাবি পাজামা ও সাথে একটি কালো গলা বন্ধ কোট পরিধান করে বঙ্গবন্ধু উপস্থিত হলেন স্বাধীনতাকামী মানুষের সামনে। তিনি মঞ্চে উঠলেন জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে সামনে উপস্থিত জনসমুদ্র তাকে বরণ করে নিলেন।
২০ মিনিটের এই ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অপরিসীম দীপ্ত কন্ঠে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতির আহ্বান জানান। কিন্তু এখানেই তিনি সরাসরি স্বাধীনতার ডাক দেন নি কারণ এর ফলে শাসকশ্রেণীর রোষানলে নেমে আসতে পারে অসহায় বাঙ্গালীদের উপর। কারণ শাসকশ্রেণী তখন সারা বাংলাদেশে সতর্ক অবস্থায় ছিল। সুতরাং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এসিলেন দেশের মানুষের আন্দোলনের লক্ষ্য হোক স্বাধীনতার যার দৃঢ় সাংবিধানিক ভিত্তি থাকবে।যদি তা যথেষ্ট না হয় তাহলেই কেবল সশস্ত্র সংগ্রামের রাস্তা বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।
কোনরকম আগাম প্রস্তুতি এবং নোট ছাড়াই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই বিস্ময়কর ভাষণ প্রদান করেন এটা ছিল বঙ্গবন্ধুর জীবনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সময় আর আমাদের জন্য ছিল আত্ম উপলব্ধির সময়। ভাষণের শুরুতেই বোঝা যায় কত পাহাড় সমপরিমাণ দায়িত্ব বঙ্গবন্ধুর কাঁদে ছিল।তিনি বলেন আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আপনাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছি।
এই ভাষণের উৎস পাকিস্তানি শাসকদের শোষণ নিপীড়ন অত্যাচার। অথচ পুরো ভাষণ এর কোথাও বিদ্বেষপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করেননি বঙ্গবন্ধু। তিনি শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজছিলেন।বঙ্গবন্ধু পহেলা মার্চের সংসদ অধিবেশনের মুলতবি ঘোষণা এবং ১০ মার্চ রাওয়ালপিন্ডিতে গোলটেবিল বৈঠক অংশগ্রহণের জন্য ইয়াহিয়া খানের কথা উল্লেখ করেন। ইয়াহিয়া খান বলেছিলেন আমি নাকি ১০ই মার্চ তারিখে গোলটেবিল বৈঠক যোগদান করতে চেয়েছি তার সাথে টেলিফোনে আমার আলাপ হয়েছে আমি তাকে বলেছি আপনি দেশের প্রেসিডেন্ট ঢাকায় আসুন দেখুন আমার গরিব জনসাধারণ কে কিভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমার মায়ের কোল খালি করা হয়েছে আমি আগেই বলে দিয়েছি কোন গোলটেবিল বৈঠক হবে না কিসের গোলটেবিল বৈঠক কার গোলটেবিল বৈঠক যারা আমার মা বোনের কোন শূন্য করেছে তাদের সাথে বসবো আমি গোলটেবিল বৈঠকে ?
এরপর বঙ্গবন্ধু জনতার উদ্দেশ্যে স্পষ্ট ভাবে বলেন সামরিক আইন প্রত্যাহার করতে হবে, সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে, সকল হত্যার তদন্ত করতে হবে, তারপর বিবেচনা করে দেখব জাতীয় পরিষদে বসবো কি বসবো না। মুক্তিকামী জনতার সামনে অসহযোগ আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করে দিলেন বঙ্গবন্ধু। তিনি বলেন তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইলো, ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল।ওদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে এবং রাস্তা-ঘাট ব্রীজ-কালভার্ট যা আছে আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি তোমরা তা বন্ধ করে দেবে।
উপস্থিত মানুষের স্লোগানে স্লোগানে কাঁপিয়ে তোলেন রেসকোর্স ময়দান। এর পরেই আসে সেই বহু অরাধ্য ঘোষণা যা এই মাথা না নোয়ানোর জাতির ভবিষ্যৎ এর চিত্র তুলির প্রথম আছড়, রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেবো এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ
এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয় বাংলা।

বঙ্গবন্ধুর সেদিনের সেই ভাষণ বাঙালি জাতির বুকে আশার সঞ্চার করেছিলেন তার কারণেই আমরা আমাদের নিজের পরিচয় খুঁজে পেয়েছি। আবার বাঙালি হয়ে উঠেছিল তার হাত ধরেই আমরা পেরেয়েছি এক একটি সিঁড়ি।ভারত মহাসাগর ছাড়িয়ে আমরা বিশ্বের দরবারে পৌঁছেছি। তিনিই আমাদের প্রতিনিয়ত পথ দেখিয়ে যাচ্ছেন। তার দেখানো পথে আমরা গড়ে তুলতে চাই আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি।

No comments:

Post a Comment

Home