চাঁদপুরের মোজাম্মেল ২০ লক্ষ টাকা ঋণ করে নিউজিল্যান্ডে গিয়েছিলেন - খবরের অন্তরালে

জাতীয়

সর্বশেষ সংবাদ

Sunday, 17 March 2019

চাঁদপুরের মোজাম্মেল ২০ লক্ষ টাকা ঋণ করে নিউজিল্যান্ডে গিয়েছিলেন

নিহত মোজাম্মেল হক সেলিম। ছবি: সংগৃহীত


মা তুমি কেমন আছো? খাওয়া-দাওয়া ঠিক মতো করেছ তো? আগামী রমজানে আমি দেশে আসবো মা। গত মঙ্গলবার মায়ের সঙ্গে টেলিফোনে কথাগুলো বলেছিলেন নিউজিল্যান্ড প্রবাসী চাঁদপুরের মোজাম্মেল হক সেলিম।

কিন্তু মায়ের মুখ আর দেখা হলো না মোজাম্মেল হক সেলিম এর।

গত শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে শহরে আল নুর মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলায় নিশংস ভাবে খুন হন মোজাম্মেল হক।
এদিকে মুজাম্মেল হকের মৃত্যুর সংবাদে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীর মাঝে। দুই বোন আর তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট আদরের ছোট ভাইকে হারিয়ে অনেকটাই বাকরুদ্ধ সবাই। অপরদিকে সেলিমের না ফেরার দেশে পাড়ি দেওয়া কে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না মোজাম্মেল হকের মা জামিলা খাতুন।

নিহত মোজাম্মেল হক চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার খাদেরগাঁও ইউনিয়নের মাইশা গ্রামের মৃত হাবিবুল্লাহ মিয়াজীর ছেলে। মোজাম্মেল হক সেলিম ঢাকা মার্কস ডেন্টাল মেডিকেল হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস পাশ করে উচ্চতর শিক্ষার জন্য স্টুডেন্ট ভিসায় ২০১৫ সালে নিউজিল্যান্ডের গিয়েছিলেন। সেখানে স্থানীয় মেডিকেল কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করতেন মোজাম্মেল।

মোজাম্মেল হক সেলিম এর মা জামিলা খাতুন বলেন গত মঙ্গলবার আমার ছেলে ফোন দিয়ে আমার খোঁজ খবর নেয়, আমাকে খাওয়া-দাওয়া ঠিক মতো করতে বলে কিন্তু শুক্রবার এর পর থেকে তার সাথে আর কোন যোগাযোগ নেই, তার ফোন নম্বরে ফোন করেও পাচ্ছিনা কথাগুলো বলছিলেন আর বিলাপ করে কান্না করছেন তিনি।

এ সময় তার মা আহাজারি করে ছেলেকে তার বুকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য মিনতি করতে থাকেন। তিনি বলেন আমার বাবার লাশটা আমার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। মোজাম্মেলের বড় ভাই আব্দুল মালেক বলেন মসজিদে হামলার পর থেকে আমার ভাই নিখোঁজ ছিল, শনিবার রাতে কুমিল্লার চান্দিনা এলাকার নিউজিল্যান্ড প্রবাসী মুজিবুর রহমান ফোন করে জানান আমার ভাই আর বেঁচে নেই, ওই জায়গার একটি স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে বলে জানান তিনি।

আব্দুল মালেক আরো বলেন আমার বাবা ২০০১ সালে মারা যান, আমরা অনেক কষ্ট করে আমার ভাইকে মেডিকেলে পড়িয়েছি, ২০১৫ সালে অগ্রণী ব্যাংক এর মতলব নারায়নপুর শাখা থেকে ২০ লক্ষ টাকা ঋণ করে তাকে পড়াশোনার জন্য নিউজিল্যান্ডে পাঠাই আমরা। কিন্তু আমার ভাই পড়াশোনা শেষ করে আর আমাদের মাঝে ফিরে আসলো না, এত বড় ঋণের বোঝা কিভাবে শোধ দেব? তিনি ভাই এর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

মতলব দক্ষিণ উপজেলার খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ মনজুর হোসেন রিপন বলেন, মোজাম্মেলকে অনেক কষ্ট করে ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে মানুষ করেছে তার ভাই বোনেরা তাদের আর্থিক অবস্থা ততটা ভালো না, তাই সরকারের কাছে দাবি জানাই তাদের পরিবারকে যেন আর্থিকভাবে সহায়তা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি মোজাম্মেলের মৃতদেহটা যেন দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।

No comments:

Post a Comment

Home