যেভাবে ওজন ২৩০ কেজি থেকে ৮৫ কেজি কমালেন আদনান সামি - খবরের অন্তরালে

জাতীয়

সর্বশেষ সংবাদ

Monday, 4 March 2019

যেভাবে ওজন ২৩০ কেজি থেকে ৮৫ কেজি কমালেন আদনান সামি

আদনান সামি ছবি ফেসবুক
টুকরো চিজ,কেক, সেদ্ধ আলু আর মাখনে মোরা বিফ স্টেক খেয়ে পণ করলেন আদনান সামি। এই শেষ এখন থেকে শুরু হলো নতুন জীবন। সেদিন থেকে ২৩০ কেজি ওজনের আদনান সামি যাত্রা করেন নতুন মানুষ হওয়ার পথে।ওজন কমাতে শুরু করেন স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন এবং পরিমিত খাবার।পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ভারতীয় সংগীত শিল্পী আদনান সামির অস্বাভাবিক স্থূল থেকে নিয়ন্ত্রিত দেহ গঠন পাওয়ার পথটা সহজ ছিল না।সে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করলেন তার দেহের গঠন সে সম্পর্কে কিছু জানা যাক।
২০০৬ সালে কিছুটা অসুস্থ বোধ করেন আদনান সামি।চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বলেন যদি শরীরের বাড়তি ওজন সামি না কমান তাহলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে খুব ভয়াবহ অবস্থা হতে পারে তার।নিজের জীবনের সে সময়ের কথা মনে করে সামি বলেন ওই সময়টা ছিল ডু অর ডাইয়ের মত, হয় আমার ওজন কমাতে হবে অথবা মরতে হবে।
আদনান সামি ছবি ফেসবুক
২০০৬ সালের ৭ জুন থেকে চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের শরণাপন্ন হয়ে লোকার্বন হাইপ্রোটিন ডায়েট শুরু করেন আদনান সামি। সেই সঙ্গে নিয়মিত ব্যায়াম করতে থাকেন তিনি। সাধারণত কম সময়ে ওজন কমাতে হলে অনেকে ব্যায়াম করে আর ডায়েটের পাশাপাশি সার্জারি করেন। এর মাধ্যমে শরীরের অতিরিক্ত মেদ জড়িয়ে ফেলা হয়। কিন্তু কম সময়ে লক্ষ্য অর্জনের জন্য আদনান সামি নাকি এ ধরনের কোন পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি শুধু ডায়েট আর ব্যায়াম নির্ভরশীল ছিলেন।
সে সময়ের খাদ্য তালিকা ডায়েট শুরুর পর থেকে আদনান সামি তার সঙ্গে সব সময় একজন ডায়েটিশিয়ান রাখতেন।তার পুষ্টিবিদ ও ডায়েটিশিয়ান তাকে ইমোশনাল ইটার বলে অভিহিত করেছেন কারণ আদনান সামির খাওয়ার পরিমাণ বেশিরভাগ সময় তার মানসিক অবস্থার উপর নির্ভর করত।
আদনান সামি ছবি ফেসবুক
মন ভালো কিংবা খারাপ হলে আদনান সামি অনিয়ন্ত্রিতভাবে খাওয়া শুরু করতেন।সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে নিজের সঙ্গে ডায়েটিশিয়ান রাখতেন আদনান সামি।সাদা ভাত রুটি চিনি ও ডাল একেবারেই নিষিদ্ধ ছিল আদনান সামির জন্য।শাকসবজি তেল আর বাটার ছাড়া পপকন তেল ছাড়া পুড়ানো মাছ আর ডাল সিদ্ধ ছিল তার প্রতিদিনের খাবার। অ্যালকোহল ও চিনি আছে এমন ড্রিংকস তার জন্য একেবারেই বারণ ছিল। চিনি ছাড়া এক কাপ চা খেয়ে শুরু হতো আদনান সামির দিন। 

দুপুরের খাবারে তার জন্য থাকতো ভেজিটেবল সালাদ ও মাছ। রাতে তেল মসলা ছাড়া সিদ্ধ ডাল খেয়ে ঘুমাতে হতো তাকে।মাঝেমধ্যে ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ মাছের বদলে সেদ্ধ মুরগি খেতে পারতেন আদনান সামি। তবে তার কাছে নাকি মাছটাই বেশি ভালো লাগতো।


ব্যায়ামের নিয়ম কানুন ভোজন রসিক আদনান সামির কাছে ব্যায়াম ছিল ছেলেবেলা সোনা কোনো রূপকথার মতো কাল্পনিক বিষয়। প্রথমে তিনি শুধু ডায়েটে সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন নিজেকে।ডায়েট চার্ট অনুসরণ করে তিনি কমিয়েছিলেন ৪০ কেজি ওজন।কিন্তু এর পরও ওজন কমাতে ব্যায়াম করা খুব জরুরী হয়ে পড়েছিল আদনান সামির জন্য। তাই ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ প্রশান্ত সামন্ত নামে একজন ফিটনেস ট্রেইনার এর কাছে যান।ওই ফিটনেস ট্রেইনার সামিকে শুধু লম্বা সময় হাটার পরামর্শ দেন।
হাঁটতে হাঁটতে আদনান সামির শরীর কিছুটা ঝর ঝর হলো ফিটনেস ট্রেইনার তাকে ট্রেডমিলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। ট্রেডমিল  নিয়ম করে দৌড়াতে শুরু করে সামি।
সেই সঙ্গে ধীরে ধীরে ওয়েট আর কার্ডিও ব্যায়ামও শুরু করেন তিনি। এভাবে ডায়েটের পাশাপাশি প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে ব্যায়াম করতেন আদনান সামি। সপ্তাহে এক দিন তিনি বিশ্রাম পেতেন ব্যায়াম থেকে। ব্যায়াম ও ডায়েট সুফল নিয়ে আদনান সামি বলেন, ‘ধীরে ধীরে আমি লক্ষ করলাম ব্যায়াম আর ডায়েটের ফলে খুব ঝরঝরে হয়ে গেছি আমি। নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারতাম, লম্বা সময় দাঁড়িয়ে থাকতে পারতাম, অনেকটা পথ ক্লান্তিহীনভাবে হাঁটতেও পারতাম আমি।’
ফলাফল
এক সাক্ষাৎকারে আদনান সামি বলেন, ‘ডায়েট শুরুর পরের মাস থেকেই আমি দারুণ ফল পেতে শুরু করি। যদিও আমার দ্রুত ওজন কমানোর এই প্রক্রিয়া অনেক ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। কিন্তু বিষয়টি যেহেতু আমাকে ‘ডু অর ডাই’ পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল তাই আমাকে এটা বাধ্য হয়েই করতে হয়েছে।’
১১ মাসে আদনান সামির ওজন ২৩০ কেজি থেকে ৮৫-তে নামিয়ে আনেন। তিনি জানান, গড়ে তাঁর ওজন প্রতি মাসে ১০ কেজি করে কমাতে হয়েছে। এখনো আদনান সামি ডায়েট মেনে খাওয়া-দাওয়া করেন, ব্যায়াম করেন কিন্তু শুরু সময়ের মতো অত ডায়েট নয়। এখন নিজেই বোঝেন পরিমিতিবোধ কতটা জরুরি তাঁর জন্য। সেই সঙ্গে জরুরি নিয়মিত ব্যায়ামটাও।

No comments:

Post a Comment

Home