ভোট আসছে ভোট যাচ্ছে রাস্তা গুলো আগের মতোই রয়ে গেছে - খবরের অন্তরালে

জাতীয়

সর্বশেষ সংবাদ

Friday, 8 March 2019

ভোট আসছে ভোট যাচ্ছে রাস্তা গুলো আগের মতোই রয়ে গেছে

লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলা এই উপজেলায় ৯ টি ইউনিয়ন ও একটি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা অবস্থিত।
বিগত ১০ বছর থেকে এই উপজেলায় উন্নয়ন হয়েছে একেবারেই হাতে গোনা। বিগত সময়ে এই উপজেলার সংসদ সদস্য ছিলেন তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব জনাব এম এ আউয়াল। তিনি বলেছেন এই উপজেলায় নাকি এক হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন হয়েছে। এই নিয়ে উপজেলা সাধারণ মানুষের মনে অনেক ক্ষোভ এমনকি স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ এ মন গড়া কথা বলার জন্য জনাব এম এ আউয়াল সাহেবের অনেক সমালোচনা করেছে।
স্থানীয় মানুষের অভিমত যদি সত্যিই এক হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন রামগঞ্জে হইত তাহলে পুরো রামগঞ্জে চেহারাই বদলে যেত। অথচ এই উপজেলার আনাছে-কানাছে যেখানেই যাবেন রাস্তাঘাট ব্রিজ-কালভার্ট ভাঙ্গাচুরা ছাড়া আর কিছু দেখা যায় না। হাতেগোনা কয়েকটি রাস্তার কাজ হলেও পুরো উপজেলাতেই এখনো পর্যন্ত রাস্তাঘাটের কোনো উন্নয়ন হয়নি।

এমন কি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা অথচ পৌরসভার ভিতর রাস্তা ঘাট গুলো নালা নর্দমা ভাঙ্গাচুরা। স্থানীয় পৌরসভার কাউন্সিলর উপজেলা চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যানদের বাড়ির রাস্তা গুলো পর্যন্ত সংস্কার করা হয়নি। অথচ ভোট আসার আগে প্রার্থীরা নানা উন্নয়ন করার কথা বলে ভোট চায়। আর ভোট চলে গেলে উন্নয়ন গুলো তাদের পকেটএ চলে যায়। সাধারণ মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারে না। তাই এখন মানুষের মুখে একটাই কথা ভোট আসুক বা না আসুক আমাদের কিছুই যায় আসে না। আমরা যাদেরকে ভোট দিব তাদের এলাকাতে যদি উন্নয়ন না হয় তাহলে পুরো রামগঞ্জের উন্নয়ন কিভাবে হবে।
ভোটের মাঠ আবারো সরগরম উপজেলা নির্বাচন নিয়ে। প্রার্থীরা দিনরাত তাদের প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত। সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে উন্নয়নের ফিরিস্তি দিয়ে আসছেন। সবার একই প্রশ্ন আসলে কি উন্নয়ন হবে নাকি এটা শুধু কথার কথায় থেকে যাবে।

আপনারা যে রাস্তাটির ভিডিও দেখছেন এটি উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান জনাব দেলোয়ার হোসেন দেওয়ান বাচ্চুর বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়া একটি রাস্তা। রাস্তাটি ভাদুর হাই স্কুল হয়ে পৌর কাজিরখিল এর মধ্য দিয়ে  কাজিরখিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রধান সড়কে গিয়ে শেষ হয়েছে।
এই রাস্তাটি বিগত দশ বছর থেকে একই অবস্থায় আছে, বর্ষার মৌসুমে এই রাস্তা দিয়ে যান চলাচল তো দূরে মানুষ চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। শুধু এই রাস্তা নয় পুরো উপজেলায় প্রত্যেকটি রাস্তার অবস্থা এরকম। মাঝেমধ্যে দু'একটি রাস্তার সংস্কার হলেও বাকি রাস্তা গুলোর অবস্থা আগের মতই।


গত কয়েকদিন আগে ভাদুর ইউনিয়নের সমেশপুরে একটি রাস্তার কাজ করতে গিয়ে এলাকাবাসীর বাধার মুখে পড়তে হয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে। কারণ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি রাস্তাটির নামেমাত্র করে যাওয়ার চেষ্টা করছিল যা করার একদিন পরে ভেঙে পড়তে শুরু করে। পরে স্থানীয় এলাকাবাসীর মানববন্ধন করে এর প্রতিবাদ করে।
এখন সাধারণ মানুষের বিশ্বাস বর্তমান সংসদ সদস্য জনাব ডঃ আনোয়ার খান এর উপর। কারণ ডঃ আনোয়ার খান একজন শিল্পপতি ও সমাজসেবক। নির্বাচনের আগে ইতিমধ্যে তিনি তার প্রমাণ দিয়েছে। শীতের সময় কম্বল ডাল চাল নগদ টাকাসহ অনেক সাহায্য সহযোগিতা করেছেন ডঃ আনোয়ার খান সাহেব।
তাই সাধারন মানুষ মনে করে পূর্বসূরী রাজনীতিবিদদের মত তিনি হবেন না কারণ তিনি একজন শিল্পপতি তার টাকা পয়সার প্রয়োজন নাই। তিনি অবশ্যই রামগঞ্জ কে একটি সুন্দর উন্নয়নমূলক উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবে। ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ডঃ আনোয়ার খান সাহেব রামগঞ্জের রাস্তাঘাট ব্রিজ-কালভার্ট স্বাস্থ্যসেবা শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন করার জন্য সরকারকে বরাদ্দ দিতে জোর দাবি জানিয়েছেন। আশা করি রামগঞ্জ উপজেলার মানুষ সহসাই তার সুফল ভোগ করতে পারবেন।

No comments:

Post a Comment

Home