আলোচিত শিশু নুসরাত হত্যাকাণ্ডকে অন্যদিকে প্রবাহিত করার জন্য তার পরিবারের বিরুদ্ধে লুটপাটের মামলা - খবরের অন্তরালে

জাতীয়

সর্বশেষ সংবাদ

Thursday, 21 March 2019

আলোচিত শিশু নুসরাত হত্যাকাণ্ডকে অন্যদিকে প্রবাহিত করার জন্য তার পরিবারের বিরুদ্ধে লুটপাটের মামলা

লক্ষীপুরের রামগঞ্জে আলোচিত শিশু নুসরাত কে ধর্ষণ শেষে হত্যা মামলার কোন সুরাহা না হতেই এবার উল্টা লুটপাটের মামলা দেওয়া হয়েছে তার পরিবারের বিরুদ্ধে। নুসরাত ধর্ষণকারীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দেওয়া হলে খোদ নুসরাত এর বাবা এরশাদ হোসেন এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ একটি প্রভাবশালী চক্রের ইন্দনে মামলা থেকে মুক্তি পেতে ঘাতকের পরিবার এই নাটক শুরু করেছে। মূল ঘটনাকে আড়াল করে ঘাতকদের রক্ষায় চক্রটি নুসরাতের পরিবার কে চাপে রেখে বিশেষ সুবিধা আদায়ে তৎপর হয়ে উঠেছে। অথচ সন্তানকে হারিয়ে মা রেহানা বেগম ও বাবা এরশাদ হোসেন পাগল অবস্থায় তিন পাতি করছে এরই মধ্যে সাজানো আরেকটি মামলা এখন তাদের উপর চাপিয়ে দিয়ে মরার উপর খাড়ার ঘা।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায় গত ১১ ই আগস্ট ধর্ষক ঘাতক রুবেল এর পিতা সিরাজুল ইসলাম লুটপাটকৃত ১৫ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণের দাবিতে নিহত নুসরাত এর পিতা মোঃ এরশাদ হোসেন কে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন যার নম্বর সিআর ২১৯/১৮

পরে আদালত রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত ওসিকে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর এর মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশনা পেয়ে রামগঞ্জ থানার এসআই মোঃ তাজুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ সময় পুলিশের উপস্থিতি পেয়ে নুসরাতের পরিবার এর মধ্যে আহাজারি চরম আকার ধারণ করে। মেয়ে হারানোর শোক সেরে না উঠতেই এভাবে উল্টো মিথ্যে মামলার আসামি হওয়ার খবরে উপজেলার সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ ও লোকজনের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও মিথ্যা মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

লুটপাট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই তাজুল ইসলাম জানান লক্ষ্মীপুর আদালতে একটি মামলা হয়েছে ওই মামলার এজাহারের কপি হাতে পেয়ে তদন্তের জন্য আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।

রামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম রুহুল আমিন জানান ধর্ষণ শেষে হত্যা করা হয়েছে এটা দেশব্যাপী আলোচিত বিষয়। উত্তেজিত লোকজনরা এই ঘটনার দিন দর্শক রুবেলের বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে।আর যেহেতু বিষয়টি বিচারাধীন সেখানে নুসরাতের বাবার বিরুদ্ধে লুটপাটের মামলা অত্যন্ত দুঃখজনক।

লক্ষীপুর জেলার ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ শাহাদাত হোসেন শরীফ জানান নুসরাত হত্যার পর থেকে জেলা উপজেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ তাদের পরিবারের পাশে থেকে সান্তনা দিয়ে আসছে। আর নুসরাতের বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে লুটপাটের মামলা করায় দলের পক্ষ থেকে তিনি এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। অনতিবিলম্বে এই মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য যে গত বছরের ২৩শে মার্চ শুক্রবার দুপুরে রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের নোয়াগাঁও নজিমুদ্দিন বাড়ির প্রবাসী এরশাদ হোসেনের মেয়ে ও স্থানীয় পশ্চিম নোয়াপাড়া ফয়জুল রাসুল সুন্নিয়া মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। পরবর্তীতে তার বস্তাবন্দি লাশ কাটাখালী খাল থেকে উদ্ধার করেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

No comments:

Post a Comment

Home