হাজিগঞ্জ রামগঞ্জ মহাসড়ক যেন ধুলাবালির ফ্যাক্টরি! জনদুর্ভোগ চরমে - খবরের অন্তরালে

জাতীয়

সর্বশেষ সংবাদ

Tuesday, 12 March 2019

হাজিগঞ্জ রামগঞ্জ মহাসড়ক যেন ধুলাবালির ফ্যাক্টরি! জনদুর্ভোগ চরমে

মহাসড়কে সার্বক্ষণিক ধুলোবালি ওড়ার কারণে বহু বছর ধরে কয়েক হাজার মানুষ এবং শিক্ষার্থীকে স্কুল কলেজে যাওয়া আসার সময় চরম দূর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ওই সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন পরিবহনের যাত্রী সহ কয়েকহাজার এলাকাবাসীকে একই সমস্যা পোহাতে হচ্ছে।
হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়ক ছবি: চাঁদপুর টাইমস

বিষয়টি নিয়ে স্কুল কলেজ কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকবার সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেও সমস্যার সমাধান করতে পারেন নাই। কলেজ হাই স্কুল আর প্রাথমিক বিদ্যালয় এর মূল সড়কের মুখে বালুমহালের বড় বড় ট্রাকে করে বালু পরিবহনের কারণে এরকম হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সরেজমিন পরিদর্শন আর স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায় হাজীগঞ্জ বাজার বিশ্বরোড চৌরাস্তা এলাকা থেকে হাজিগঞ্জ রামগঞ্জ সড়ক। এই সড়কের হাজীগঞ্জ বাজার থেকে মাত্র ৫০০ গজ দক্ষিনে ডাকাতিয়া নদী। ডাকাতিয়া নদীর মধ্যে রয়েছে হাজীগঞ্জ সেতু এই সেতুর দক্ষিণ পাশে রয়েছে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৫ থেকে ২০ টি বালু মহল। এসব বালুমহালের বালু পরিবহনের একমাত্র বাহন বিভিন্ন আকৃতির ট্রাক প্রতিদিন প্রতি সময় বালু নিয়ে এইসব ট্রাক হাজিগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের মূল সড়কের কোল ঘেঁষে হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়কে উঠে। হাজীগঞ্জ কলেজের মূল সড়কের শতগজ দক্ষিনে রয়েছে রান্ধুনী মুড়া উচ্চ বিদ্যালয়। আর সামান্য কিছু দূরে রয়েছে হাজিগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ। রান্ধুনীমুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় একটি কিন্ডার গার্ডেন একটি কমিউনিটি ক্লিনিক সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের অবস্থান।
হাজীগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের সড়ক ধরে উপরোক্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কয়েক হাজার শিক্ষার্থী সহ গ্রামের কয়েক হাজার এলাকাবাসী চলাচল করতে হয়।সরেজমিনে দেখা যায় হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়কের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা বালুমহালের ট্রাকগুলো ডিগ্রী কলেজের মুখ ব্যবহার করতে গিয়ে বালু পরিবহনকারী ওভার লোডের কারণে বালু পড়ে সড়কে এমন দুরবস্থার সৃষ্টি হয়। প্রতিটি মুহূর্তে এই সড়কে বালু পড়ার  কারণে সেই বালু বৃষ্টিতে কাদা আর রোদে বালুর আস্তর জমে বাতাসে উড়িয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ধূলিঝড় এর মত সৃষ্টি হয়।
উড়ন্ত এই ধুলাবালির কারণে প্রতিদিন প্রতিমুহূর্তে সংশ্লিষ্ট এলাকার শিক্ষার্থী এলাকাবাসী আর পরিবহনের যাত্রীদের অবর্ণনীয় দুর্দশার পোহাতে হয়। হাজিগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান হাজীগঞ্জ সেতু থেকে শুরু হয়ে রান্ধুনী মুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পশ্চিম অংশ প্রায় ছয় থেকে সাত গজ রাস্তা আমাদেরকে উড়ন্ত বালুর মধ্য দিয়ে যাওয়া-আসা করতে হয়। বালুর কারণে কখনো আমরা হেঁটে ওই এলাকায় অতিক্রম করতে পারি না। অটো টেম্পু অথবা রিক্সা করে  গেলেও মুখে টিস্যু চেপে ধরে পরিত্রান কিছুটা পাওয়া গেলেও  শরীরে আর মাথায় বালুর আস্তর জমে একাকার হয়ে যায়।
ওই ছাত্রের কোথায় সুর মিলিয়ে রান্ধুনী মুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারহানা মেহজাবিন এবং উম্মে সালমা কথা বললেন শিক্ষার্থী উম্মে সালমা জানান যে দিন উত্তরের বাতাস থাকে সেই দিন বিদ্যালয়ের মাঠে খেলাধুলা করা কোনভাবেই সম্ভব হয় না ঢাকার বাতাসে যেমন শীসা থাকে তেমনি আমাদের বিদ্যালয়ের বাতাসে বালু থাকে। হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও রান্ধুনী মুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান বালু ব্যবসায়ীদের জন্য বর্তমান সড়কটি বাদ দিয়ে বিকল্প সড়কের একটি প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়ে ছিল কিন্তু কিছু ব্যবসায়ীর অসহযোগিতার কারণে বর্তমানে সবকিছু বন্ধ হয়ে আছে।
হাজিগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মাসুদ আহমেদ জানান বালু পরিবহন এর কারণে কলেজের মুখের সাইনবোর্ডটি পর্যন্ত বালিতে চাপা পড়ে গেছে। বালু পরিবহনের জন্য কলেজের সড়ক ব্যবহার না করে বিকল্প সড়ক তৈরির জন্য বালু ব্যবসায়ীদের নিয়ে 1 বছর পূর্বে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যা ইউ এন ও সাহেব জানেন। বিষয়টি এখনো সমাধান না হওয়ার কারণে বালুর যন্ত্রণা থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী আর এলাকাবাসীর মুক্তি হচ্ছে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া জানান বালু পরিবহনের জন্য বর্তমান সড়ক বাদ দিয়ে বিকল্প সড়ক তৈরি না করা পর্যন্ত নিয়মিত উড়ন্ত বালুতে এক দিন পর পর পানি ছিটানো, বর্ষায় ২/১ দিন পর পর কাদা সরানো  ডিগ্রী কলেজের  সড়কের মুখে মালিকদের পক্ষ থেকে লোক নিয়োগের ব্যবস্থা আমি করে দিয়েছিলাম কিন্তু পরবর্তীতে বিষয়টি কোন পক্ষই যোগাযোগ রাখে নাই।
খবর: চাঁদপুর টাইমস

No comments:

Post a Comment

Home